শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে তালায় একই পরিবারের ৭ জন মানসিক রোগে আক্রান্ত

খুলনা অফিস : সাতক্ষীরার তালা উপজেলার প্রসাদপুর গ্রামের রহমত বিশ্বাসের বাড়িতে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে পরিবারটির সাতজন সদস্য মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ হোসেন ও তালা থানার ওসি মো. হাসান হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বৃদ্ধ রহমত বিশ্বাস ও তার স্ত্রী নবীজান বিবি জানান,  তাদের  বড় মেয়ে ফরিদা বেগমের বিয়ে হয়েছে ঝিনাইদহ জেলার বুয়াভাটিয়া গ্রামে। তার স্বামীর নাম গফ্ফার বিশ্বাস। শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এক পর্যায়ে তারা পাগল বলে আখ্যায়িত করে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাবার কথা বলে। খবর পেয়ে রহমত বিশ্বাসের ছেলে হায়দার বিশ্বাস বোন ফরিদাকে খানিকটা অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে আসেন।
যশোরে আসার পর ফরিদা তাকে বলেন ‘আমাকে বাপের বাড়ি নিয়ে গেলে তোরা সবাই পাগল হয়ে যাবি। নয় দিন আগে বাপের বাড়ি নিয়ে আসা হয় ফরিদাকে।
এরপর থেকে বাপের বাড়ির সবাই একে একে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে রয়েছে রহমতের ছেলে আবদুস সবুর বিশ্বাস (২৫), আবদুল হালিম বিশ্বাস (২৮) , আবদুল গফুর বিশ্বাস (১৬), ফরিদার মেয়ে আয়েশা খাতুন (৬), ফরিদার বোনের ছেলে যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামের বাবু বিশ্বাসের ছেলে মেহেদি বিশ্বাস (১৩) ও ফরিদার বোন সালেহা খাতুন ( ১৪)।
স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার পর্যন্ত পরিবারের সাতজন মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় বাড়ির অন্য সদস্যরাও আতঙ্কে রয়েছে। তবে তারা সবাই ঝাড় ফুঁক ও কবিরাজী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে রহমত বিশ্বাসের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় অস্বাভাবিক আচরণ করছে তারা। তাদের কান্ড কারখানা দেখতে রহমতের বাড়িতে এখন সব সময় ভিড় জমাচ্ছে শত শত মানুষ।
রহমত বিশ্বাসের প্রতিবেশি আবদুর রহমান ও জাহিদ বিশ্বাস জানান, ওরা এক সময় খুব গরীব ছিল। বছর কয়েক আগে পারিবারিকভাবে স্বচ্ছল হয়েছে। তার মেয়ে সালেহা খাতুন খলিলনগর স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। নাতি মেহেদি হাসান একই স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র। তারাও অস্বাভাবিক আচরণ করছে। রহমত বিশ্বাসের ছেলেরা চাষাবাদ করে। তারাও হঠাৎ বেসামাল হয়ে পড়ায় তাদের বাড়িতে এক অস্বাভবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা আরো জানান,এলাকায় প্রচার রয়েছে কিছুদিন আগে রহমত বিশ্বাসের বড় মেয়ে ফরিদা প্রসাদপুরের বিলের মধ্যে একটি স্বর্ণমূর্তি পেয়েছিল। সেই মূর্তি বিক্রির পর তারা অনেক টাকার মালিক হয়ে যায়। তখন থেকে প্রথমে ফরিদা ও পরে অন্যরা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তবে রহমতের পরিবারের দাবি তাদের মেয়ে ফরিদাকে তদবির করে পাগল বানিয়ে ফেলেছে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ