শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

মহেশখালীর তিন ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ আতংকে

মহেশখালী (কক্সবাজার) সংবাদদাতা: দীর্ঘ ১যুগ পেরিয়ে গেলেও কক্সবাজারের মহেশখালীর উপকুলীয় দ্বীপ মাতারবাড়ি ও ধলঘাটার এবং শাপলাপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩২ কিলোমিটার অরক্ষিত বেড়িবাঁধ সংস্কার হয়নি। তিন ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ও ১৯৯৭ সালের প্রলয়ংকারি ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে  শাপলাপুর, মাতারবাড়ি ও ধলঘাটার প্রায় ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায়।
এর পর ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে সিডর ও পরে আইলার আঘাতে এসব বাঁধগুলো ভেঙ্গে গিয়ে প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে ওই সব এলাকায় জোয়ার-ভাটা চলে আসছিল। কিন্তু এসব বাঁধ সংস্কারের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই। ফলে বিধ্বস্ত বাঁধ দিয়ে বর্ষার মৌসুমে জোয়ারের পানি ঢুকে ধলঘাটার ৭টি গ্রাম জোয়ার-ভাটার কবলে পড়ে প্রায় ৩০হাজার মানুষ নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্তের সম্মুখীন হচ্ছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মাতারবাড়ি ইউনিয়নের মধ্যম রাজঘাট এলাকার প্রায় ১কিলোমিটার বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এতে ওই  ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ দিয়ে বর্ষার মৌসুম ছাড়া ও অমাবশ্যার জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে রাজঘাট এলাকার তিনটি গ্রামের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে বলে রাজঘাট এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন। দিনের পর দিন সাগরে বাঁধ বিলীন হয়ে যাওয়ার কারণে রাজঘাট, মধ্যম রাজঘাট ও উত্তর রাজঘাটের শতাধিক পরিবার হুমকির মুখে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, মাসে দুইবার অমাবশ্যার জোয়ারে রাজঘাটের তিনটি গ্রামে বাঁধের উপর দিয়ে পানি ঢুকে লোকালয়ে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে এলাকার লোকজন নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্তের সম্মুখীন হলেও তা দেখার কেউ নেই।
রাজঘাট এলাকার বাসিন্দা ও মাতারবাড়ি ইউপি সদস্য জানান, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকারি ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে এই দ্বীপ রক্ষা বাঁধগুলো লন্ডভন্ড হয়ে যায়। পরবর্তীতে সাগরের করাল গ্রাসে কুহেলীয়া নদীতে ইতিমধ্যে দুই শতাধিক পরিবার বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু দীর্ঘ ১যুগ পেরিয়ে গেলেও এসব অরক্ষিত বাঁধ সংস্কারের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারো মাথা ব্যথা নেই। অপর দিকে ধলঘাট ইউনিয়নের সুতরিয়া  বাজারের  দক্ষিণ ও পূর্ব  দিকে সাপমারার ডেইল এলাকার  প্রায়  ১২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অরক্ষিত। এসব অরক্ষিত বাঁধ দিয়ে বর্ষার মৌসুমে জোয়ারে পানি  ঢুকে বেগুন বনিয়া, পন্ডিত ডেইল, গুইজ্যার ডেইল, সুতরিয়া, খাতুর পাড়া সহ ৭টি গ্রামে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ২০ হাজার মানুষ নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্তের সম্মুখীন হয়। কিন্তু এই এলাকার লোকজন দীর্ঘ দিন ধরে বিধ্বস্ত বাঁধগুলো সংস্কার করা দাবি জানিয়ে আসলে ও কোন কার্যত কিছু হয়নি। এ কারণে এলাকায় লোকজনের মধ্যে চরম ভাবে ক্ষোভ বিরাজ করার পাশাপাশি আতংক এখনো কাটেনি। শাপলাপুর ইউনিয়নের উত্তর দিঘী ঘোনা, শাপলাপুর বাজারের পূর্বপাশে, দিনেশপুর কুতুবদিয়া পাড়া, বারিয়ার পাড়ার পূর্বপাশে এবং জেমঘাট এলাকায় প্রায় ১৭কিলোমিটার বেড়িবাঁধ প্রায় ভেঙ্গে গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান জানান, এলাকার দক্ষিণ ও পূর্ব দিকের প্রায় ১২ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারের অভাবে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। কিন্তু এলাকার লোকজনকে জলাবায়ু সহ বিভিন্ন দূর্যোগে ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হলে বেড়িবাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি বাঁধের উপরে অবশ্যই সিসি ব্লক বসাতে হবে। তাই অরক্ষিত বেড়িবাঁধ সংস্কার সহ বাঁধের উপর সিসি ব্লক বসানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। অরক্ষিত বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ দিয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান জানান,দীর্ঘ দিন ধরে রাজঘাটের প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার হয়নি। এ কারণে বর্ষার মৌসুমে ওই এলাকার ৩টি গ্রামে অন্তত ২০ হাজার মানুষ জোয়ার-ভাটার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। অরক্ষিত বাঁধ সংস্কার না হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে রাজঘাট এলাকার শতাধিক বসতবাড়ি। স্থানীয়রা জানান, মাতারবাড়ি ইউনিয়নের রাজঘাট এলাকার ৪শ মিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও বাঁেধর উপর সিসি ব্লক বসানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় সাড়ে তিন কোটি বরাদ্দ দিয়েছিল। ওই বরাদ্ধ থেকে কাজ ও হয়েছে। কিন্তু বালি ও কনকর এবং সিমেন্ট ঠিকমত না হওয়ায়, বাঁধের উপর বসানো সিসি ব্লক সরে গিয়ে ভাঙ্গন ধরে। শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, এলাকার প্রায় ১১কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার না হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে জোয়ার-ভাটা কবলে পড়ে ৫টি গ্রামে ২০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্তের সম্মুখীন হয়। এ কারণে প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে কৃষকরা আমন চাষ করতে পাচ্ছে না ৭শ একরের কৃষি জমিতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ