মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

এক রাখালের খোদাভীতি

ইকবাল কবির মোহন : হজরত আবদুল্লাহ বিন উমর (রা) একদিন ঘর থেকে বেরিয়ে মদিনার উপকণ্ঠে গিয়ে হাজির হলেন। তাঁর সাথে আরো অনেক সঙ্গী-সাথী ছিলেন। দেখতে দেখতে খাবারের সময় ঘনিয়ে এলো। সাথীরা খাবারের আয়োজন করলেন। তারা দস্তরখানা বিছালেন। খাবার পরিবেশন করা হচ্ছিল। এমন সময় সেই পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল এক রাখাল বালক। সে বকরি চরাচ্ছিল। রাখালকে দেখে আবদুল্লাহ বিন উমর (রা) জিজ্ঞেস করলেন,
‘হে রাখাল ভাই! আমাদের সাথে বসো। আমরা চাই, তুমি আমাদের সাথে কিছু খাবার খাও।’
রাখাল বললো,
‘আমি রোজাদার। খাবারের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।’
আবদুল্লাহ বিন উমর (রা) বললেন,
‘প্রচণ্ড গরম ও রোদ পড়েছে। আবহাওয়া খুবই শুষ্ক ও তীব্র। এ সময় পাহাড়ে তুমি বকরি চরাচ্ছ। এই গরমে তোমার বেশ কষ্ট হচ্ছে। এ সময়ে তুমি রোজা রেখে নিজেকে কষ্ট দিচ্ছ কেন?’
রাখাল জবাবে বললো,
‘হ্যাঁ, জনাব। আমি এই প্রচণ্ড গরমেও রোজা রাখছি এ জন্য যে, যখন আমল করার সুযোগ থাকবে না তার ভয়ে। আমি সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছি।’
আবদুল্লাহ বিন উমর (রা) রাখালের কথায় খুবই খুশি হলেন। রাখালের মনে পরকালের ভয় দেখে তিনি মুগ্ধ হলেন। 
এবার তিনি রাখালের মধ্যে আল্লাহর ভয় পরীক্ষা করার কথা ভাবলেন।
আবদুল্লাহ বিন উমর (রা) এ জন্য রাখালকে বললেন,
‘আচ্ছা ভাই! আমি তোমার বকরির পাল থেকে একটা বকরি কিনতে চাই। তুমি বিক্রি করবে কী? তবে হ্যাঁ, আমরা নগদ মূল্যে বকরি কিনে নেব। এটি জবাই করে আমরা রান্না করবো। এখান থেকে ইফতারের জন্য তোমাকেও গোশত দেব।’
রাখাল বললো,
‘না, না, এটা হবে না। এই বকরিগুলো আমার নয়। এগুলো আমার মনিবের। আমি মনিবের বকরী বিক্রি করতে পারিনা। আমাকে মাফ করবেন।’
আবদুল্লাহ বিন উমর (রা) বললেন,
‘দেখ ভাই! এতে সমস্যা কি? পাহাড়ে বকরী চরাতে গেলে দু’একটা বকরি হারিয়ে যেতেই পারে। তুমি মালিককে গিয়ে বলবে একটি বকরি পাহাড়ে হারিয়ে গেছে। এ জন্য তোমার মনিব তোমাকে কিছুই বলবে না। তাই একটি বকরি তুমি বিক্রি করলে তাতে কোন সমস্যা হবে না। তোমার মালিক একটি বকরির জন্য তোমাকে কিছুই বলবে না।’
আবদুল্লাহ বিন উমর (রা)-এর কথা শুনে রাখাল অবাক হলো। সে আকাশের দিকে আঙুল উঠিয়ে বললো,
‘আল্লাহ তো আছেন। তিনি সবই দেখছেন।’
এ কথা বলেই রাখাল সেখান থেকে চলে গেল।
রাখালের আল্লাহভীতি দেখে আবদুল্লাহ বিন উমর (রা) যারপরনাই বিস্মিত হলেন।
মদিনায় ফিরে গিয়ে আবদুল্লাহ বিন উমর (রা) রাখালের মালিকের কাছে লোক পাঠালেন। তিনি মনিবের কাছ থেকে বকরির পাল এবং রাখালকে কিনে নিলেন। তারপর রাখালকে মুক্ত করে দিলেন এবং বকরির পালও তাকে দান করলেন। সততা ও আল¬াহভীতির জন্য রাখাল আবদুল্লাহ বিন উমর (রা)-এর কাছ থেকে বিরাট পুরষ্কার পেলেন। রাখালের জীবনের গতি বদলে গেল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ