সোমবার ৩০ জানুয়ারি ২০২৩
Online Edition

পহেলা ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালনের প্রস্তাব তোফায়েলের

 

সংসদ রিপোর্টার: পহেলা ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালনের জন্য সংসদে প্রস্তাব তুলেছেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

জাতীয় সংসদে শনিবার ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস পালনের প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাব তোলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

অভিজ্ঞ এই পার্লামেন্টারিয়া বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্রবাহিনী দিবস আছে, অন্যান্য দিবস আছে। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধে ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। পহেলা ডিসেম্বরকে আমরা মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে পালন করতে পারি কিনা, এটা বিবেচনা করার জন্য জাতীয় সংসদে উত্থাপন করছি।’

সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী বর্বর হানাদার বাহিনী কর্তৃক ২৫ মার্চ নির্বিচারে সাধারণ মানুষ হত্যার দিনটিকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন ফেনী-১ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের এমপি শিরীন আখতার।

প্রস্তাবে শিরীন আক্তার উল্লেখ করেন ‘সংসদের অভিমত এই যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে বর্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যাকে স্মরণ করে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা  হোক এবং আন্তর্জাতিকভাবে এ দিবসের স্বীকৃতি আদায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হোক।’

এই প্রস্তাবটি সংশোধিত আকারে গৃহীত হওয়ার জন্য সংসদকে আহ্বান জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রস্তাবটি সংশোধিত আকারে যদি এখানে গৃহীত হয় তাহলে এটা খুব সুন্দর হবে।’

এ সময় তিনি সংশোধিত প্রস্তাব তুলে ধরেন। যা হলো- ‘যেহেতু ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী সামরিক জান্তা এবং তাদের এদেশীয় সহযোগীরা বাংলাদেশের ৩০ লাখ নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, যা আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ’৭৩’র সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যা। যেহেতু পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী একাত্তরের ২৫ মার্চ রাত থেকে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে এ নজিরবিহীন গণহত্যার সূচনা করেছে, যা অব্যাহত ছিল পরবর্তী ৯ মাস। যেহেতু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ গণহত্যাসহ বিভিন্ন গ্রন্থে ’৭১ এ বাংলাদেশে নৃসংশ হত্যাজজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে, যেহেতু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ২৫ মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী রাজধানী ঢাকায় ১০ হাজার থেকে ১ লাখ লোককে হত্যা করেছে। যেহেতু গণহত্যার শিকার বিভিন্ন দেশ গণহত্যায় নিহতদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাবার পাশাপাশি গণহত্যার বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য জাতীয় পর্যায়ে গণহত্যা দিবস পালন করে সেহেতু আমরা ২৫  মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব করছি। আশা করি ৩০ লাখ শহীদের রক্তের মূল্যে অর্জিত আমাদের এই মহান স্বাধীনতার সংসদ এ প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করবে।’

সংশোধিত প্রস্তাব তুলে ধরার পর আরও একটি প্রস্তাব তুলে ধরেন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমি আরেকটি জিনিস এখানে বলতে চাই। আমি প্রস্তাব আকারে দেই, তা রাখা না রাখার মালিক এখানকার সংসদ।’

প্রস্তাবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘যেহেতু বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সংঘটিত গণহত্যায় নিহতদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাবার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক গণহত্যা স্মরণ দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যেহেতু বাংলাদেশসহ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি দেশ এই প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন করেছে, যেহেতু জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহ ২০১৫ সাল থেকে ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করছে সেহেতু বাংলাদেশে ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক গণহত্যা স্মরণ দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব করছি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ