বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

বসন্তের প্রথম মাসে বর্ষার আবহ!

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলার প্রকৃতিতে এখন বসন্তের প্রথম মাস, ফাল্গুন চলছে। এ সময়টা সাধারণত শীত ও গরমের অন্তর্বর্তীকালীন হিসেবে বিবেচ্য। কিন্তু কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে একদিকে বর্ষার আবহ বিরাজ করছে, অন্যদিকে ঠা-া আবহাওয়ার পরশ পাচ্ছেন দেশবাসী। তবে আবহাওয়ার এই অপ্রত্যাশিত আচরণ অনেককে বিপত্তির মুখে ফেলেছে বিশেষ করে ঢাকায় উন্নয়ন কাজের নামে খোঁড়াখুড়ির কারণে বেশ কিছু রাস্তায় পানিবদ্ধতা দেখা দেয়ায় সমস্যায় পড়তে হয়েছে নগরবাসীকে। এদিকে আজ রোববারও লঘুচাপজনিত আবহাওয়ার এ বৈরীরূপ বজায় থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট অধিদফতর।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই ঢাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি চলছে। গতকাল শনিবার সকালেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি মাথায় নিয়েই দিন শুরু করতে হয়েছে নগরবাসীকে। ঢাকা ছাড়াও ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বিরতি দিয়ে চলছে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি। সেই সঙ্গে বাতাসের ঝাপটা ঠা-া অনুভূতি তৈরি করছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চাকুরেরা খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ঘরের বের হননি।

বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বেশ কিছু রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় বেকায়দায় পড়তে হয়েছে অফিস ও স্কুলগামীদের। স্যুয়ারেজ লাইন সংস্কার, বিদ্যুৎ ও টেলিফোন কেবল ভূগর্ভে প্রতিস্থাপন, তিতাস গ্যাস লাইন স্থানান্তর ইত্যাকার উন্নয়নের নামে খোঁড়াখুড়ির কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও মহল্লার অলি-গলিতে সৃষ্ট গর্তে বৃষ্টির পানি জমে নালার আকার ধারণ করে। পানি নিমজ্জিত এসব গর্তে চলাচল করতে গিয়ে নাগরিকরা অনেকেই দুর্ঘটনায় পতিত হন। 

আবহাওয়া অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছে, দুটি নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টি চলছে। একটি নিম্নচাপ পশ্চিমবঙ্গ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও অপরটি উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে কোথাও হালকা থেকে মাঝারি, কোথাও কোথাও বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টিও হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ‘আজ দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।’ তবে সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা না হলেও বলা হয়েছে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর পুনঃ তিন নম্বর স্থানীয় সতকর্তা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

 আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী চব্বিশ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে কুতুবদিয়ায়, ১৪৬ মিলিমিটার। একই সময়ে ঢাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪৭ মি.মি.। এদিন শুধু ভোলায় কোন বৃষ্টিপাত হয়নি বলে জানায় আবহাওয়া অফিস। এছাড়া এদিন টাঙ্গাইলে ৩৪ মি.মি., ফরিদপুরে ৩৫, মাদারীপুরে ৬৪, গোপালগঞ্জে ২, ময়মনসিংহে ২৫, নেত্রকোণায় ৩১, চট্টগ্রামে ৩০, সন্দ্বীপ ৪১, সীতাকুন্ড ২৩, রাঙামাটি ১৭, কুমিল্লা ৪২, চাঁদপুর ৫৮, মাইজদীকোর্ট ৬১, ফেনী ৭৪, হাতিয়া ৬১, কক্সবাজার ৩৪, টেকনাফ ২৫, সিলেট ২৮, শ্রীমঙ্গল ৪২, রাজশাহী ২২, ঈশ্বরদী ২১, বগুড়া ১, বদলগাছি ২, তাড়াশ ২, রংপুর ১৯, দিনাজপুর ২৫, সৈয়দপুর ২৭, তেঁতুলিয়া ৪১, ডিমলা ৫৩, রাজারহাট ২১, খুলনা ৪৫, মংলা ৩০, সাতক্ষীরা ২০, যশোর ১৬, চুয়াডাঙ্গা ৬, কুমারখালী ১৫, বরিশালে ২৫, পটুয়াখালী ২৫ এবং খেপুপাড়ায় ৫৭ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও দু’দিন সারা দেশে বৃষ্টিপাতের খবর জানিয়েছে আবহাওয়াবিদরা।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বিভাগের একজন আবহাওয়াবিদ জানান, আজও বৈরী আবহাওয়া বিরাজ থাকতে পারে। কাল সোমবার থেকে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

 আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি অব্যাহত রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ