বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০
Online Edition

উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখন্ডে বিজেপি পাঞ্জাবে কংগ্রেস জয়ী

১১ মার্চ, এনডিটিভি/টাইমস নাউ : ভারতের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব ও উত্তরাখন্ডের সব আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখন্ডে জয় পেয়েছে বিজেপি। পাঞ্জাবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় পেয়েছে কংগ্রেস। গোয়া ও মণিপুরে পুরো ফল ঘোষণা এখনো বাকি। এর মধ্যে গোয়ায় কংগ্রেস এবং মণিপুরে বিজেপি এগিয়ে। ভারতের পাঁচ রাজ্য উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, উত্তরাখন্ড, গোয়া ও মণিপুরে বিধানসভা নির্বাচন শুরু হয় গত ৪ ফেব্রুয়ারি। শেষ হয় ৮ মার্চ। পাঁচ রাজ্যে ৬৯০টি আসনে প্রায় ১৬ কোটি ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে ২৩টি নিম্নবর্ণ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত। ভোট গ্রহণ শেষে শনিবার ফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে উত্তর প্রদেশ রাজ্যে মোট সাত দফায় নির্বাচন হয়। মণিপুরে ভোট হয় দুই দফায়। এ ছাড়া উত্তরাখন্ড, গোয়া ও পাঞ্জাব রাজ্যে এক দফায় ভোট হয়।
দিনের প্রথমার্ধে ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশের সব কটি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে বিজেপি এককভাবে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। রাজ্যের ৪০৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৩০৯টি আসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য কমপক্ষে ২০২টি আসন পেতে হতো।
এর আগে বুথফেরত জরিপে বিজেপি জয়লাভ করবে বলে ভবিষ্যৎদ্বাণী করা হলেও কংগ্রেস তা উড়িয়ে দেয়। বিজেপিকে ঠেকাতে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সঙ্গে জোট বাঁধে কংগ্রেস। এরপরও শেষ রক্ষা হয়নি। জোট বেঁধেও সেখানে মাত্র ৬৬টি আসনে জয় পেয়েছে কংগ্রেস।
শুরুতে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব আরেক বড় নেতা মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) সঙ্গে জোট গড়ার বিষয়টি উড়িয়ে দিলেও বুথফেরত জরিপের ফল আসার পর তার সুর নরম হয়েছিল। তবে ঘোষিত ফল অনুসারে উত্তর প্রদেশে মাত্র ২১টি আসন পেয়েছে বিএসপি। আর অন্যান্য দল পেয়েছে সাতটি আসন।
বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের সঙ্গী প্রবীণ নেতা নারায়ণ দত্ত তিওয়ারির কারণেই উত্তরাখন্ডে হেরেছে কংগ্রেস। ফলাফল অনুসারে, উত্তরাখন্ড রাজ্যের ৭০টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৫১টি আসনে জয় তুলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য কমপক্ষে ৩৬টি আসনে জয় পেতে হতো। এ রাজ্যে কংগ্রেস এককভাবে ১৫টি আসনে জয় পেয়েছে। একটি আসনও পায়নি বিএসপি। এ ছাড়া অন্যান্য দল পেয়েছে চারটি আসন।
উত্তরাখন্ডে এবার কংগ্রেসের হারের পেছনে বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতারাই অনেকখানি ভূমিকা রেখেছেন। নির্বাচনের আগে কংগ্রেস নেতা নারায়ণ দত্ত তিওয়ারি দল ছেড়ে যোগ দেন বিজেপিতে। এতে নির্বাচনী ফলে কোনো প্রভাব পড়বে বলে ভাবেনি কংগ্রেস। তবে এই তিওয়ারিকে দিয়েই উত্তরাখন্ডে জয় তুলে নিয়েছে বিজেপি। তিওয়ারি তিনবার উত্তর প্রদেশ ও একবার উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে পাঞ্জাবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে কংগ্রেস। ১১৭টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ৭২টিতে জিতেছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৫৯টি আসনে জয়ের প্রয়োজন ছিল। এ রাজ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (এএপি)। দলটি ২৭টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, আকালি দলের সঙ্গে জোট বেঁধেও বিজেপি পেয়েছে ১৮ আসন।
মণিপুর রাজ্যে বিজেপি এখন পর্যন্ত ২৩টি আসন পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। রাজ্যের ৬০টি আসনের মধ্যে ৪৪টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য পেতে হবে কমপক্ষে ৩১টি আসন। এখন পর্যন্ত কংগ্রেস এ রাজ্যে ১৯টি আসন পেয়েছে। অন্যান্য দল পেয়েছে ৫টি।
গোয়ায় কংগ্রেস এগিয়ে। ৪০টি আসনের মধ্যে ২৩টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। ১৩টি আসন পেয়ে সেখানে এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস। বিজেপি পেয়েছে ১২টি আসন। অন্যান্য দল আসন পেয়েছে ৮টি। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে কমপক্ষে ২১টি আসন পেতে হবে।
 এভাবেও ভুলে যাওয়া যায়? কারণ শর্মিলা চানুর লড়াই ভুলে গেলেন মণিপুরের মানুষ। উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্য থেকে সেনা আইন প্রত্যাহারের দাবিতে অনশনে বসেন ইরম শর্মিলা চানু। একদশক ধরে অনশন চালিয়ে যান তিনি। অনশন ভেঙে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। থুবাল আসনে মুখ্যমন্ত্রী ওখরাম ইবোবি সিংকে চ্যালেঞ্জও জানিয়েছিলেন। কিন্তু শর্মিলার ওপর আস্থা রাখেননি মণিপুরের মানুষ। ভোটে যথেচ্ছ পরিমাণে টাকা ও পেশীশক্তির ব্যবহার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন চানু।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ