বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ভুল আল্ট্রাসনো রিপোর্টের চিকিৎসায় গৃহবধূর গর্ভের সন্তান নষ্ট

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা: যশোরের কেশবপুরে হোসেন প্যাথলজি এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল আল্ট্রাসনো রিপোর্টের কারণে এক অন্তঃস্বত্তা গৃহবধূর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমান ওই গৃহবধূ খুলনার একটি ক্লিনিকে মৃত্যু শয্যায়। এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছেন। 
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মজিদপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর স্ত্রী আসমা খাতুন গর্ভবতী কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর জন্য গত ২৩ জানুয়ারি কেশবপুর হাসপাতাল সংলগ্ন হোসেন প্যাথলজি এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ক্লিনিকের ডাক্তার রিপন রায়ের পরামর্শে হোসেন প্যাথলজি এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে তার স্ত্রীর প্রস্রাব, আল্ট্রাসনো ও ইসিজি করানো হয়। ওই ডাক্তার মেডিকেল রিপোর্টগুলো দেখে ইয়াছিন আলীকে জানান, তার স্ত্রীর গর্ভে কোনো সন্তান নেই। তখন তিনি একটি ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়ে সে মোতাবেক ওষুধ খেতে বলেন। এ ওষুধ খাওয়ার পর তার স্ত্রীর ব্লাড ভাঙতে শুরু করে। এতে তার অবস্থার অবনতি হলে গত ১ ফেব্রুয়ারি পিয়ারলেস মেডিকেল সার্ভিসেসের ডা. বোরহান উদ্দীন চৌধুরীর কাছে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এ মেডিকেল রিপোর্টগুলো দেখে ওই ডাক্তার ইয়াছিন আলীকে জানান, ওষুধ খাওয়ানোর কারণে তার স্ত্রীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে সন্দেহ হলে গত ৯ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রীকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. সাবেরা খাতুনের কাছে নিয়ে গেলে তিনি উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলে ওইদিনই মনিরামপুর প্যাথ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে তার স্ত্রীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এ সময়  সেখানকার ডা. অঞ্জলী রায় জানান, তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমান তার স্ত্রী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে খুলনার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইয়াছিন আলীর অভিযোগ, হোসেন প্যাথলজি এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল আল্ট্রাসনো রিপোর্ট এবং ডা. রিপন রায়ের ভুল চিকিৎসায় তার স্ত্রীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে তিনি অভিযোগটি করেছেন।
এ ব্যাপারে হোসেন প্যাথলজি এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারী আব্দুল হামিদ জানান, আল্ট্রাসনো রিপোর্টে কোনো ভুল নেই। যে সময় ওই রোগীর আল্ট্রাসনো করা হয়েছিল সে সময় রিপোর্টে গর্ভে সন্তান আছে কিনা তা ধরা পড়েনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ