শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধেও মামলা

৯ মার্চ, বিবিসি.এপি,এবিসি নিউজ/.সিএনএন/দ্য গার্ডিয়ান  : ছযটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দ্বিতীয দফায যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে হাওযাই অঙ্গরাজ্য।

আগামী ১৫ মার্চ ওই মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে ফেডারেল আদালত। এর পরের দিন থেকেই আদেশটি কার্যকর হওযার কথা রযেেছ।

মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিযেেটড প্রেস বলছে, প্রথম দফার নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধেও মামলা করেছিল এই রাজ্য। তবে আগেই অন্য রাজ্যে নির্বাহী আদেশটি স্থগিত যায। দ্বিতীয দফার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সেই মামলাটি সংশোধন করে দাখিল করেছে হাওযাই রাজ্য।

প্রথম আদেশে সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, দ্বিতীয দফার আদেশ ইরাককে বাদ দেযা হযেেছ। বাকি ছযটি দেশ হলো ইরান, সিরিযা, ইযেেমন, সুদান, লিবিযা এবং সোমলিযা। এছাডা সামযকিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী কর্মসূচি বন্ধ রাখা হবে। নতুন আদেশে শরণার্থীদের ক্ষেত্রে ১২০ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা নিষিদ্ধ করা হযেেছ।

হাওযাই রাজ্যের মামলায বলা হযেেছ, এই নির্বাহী আদেশ ফলে হাওযাইযরে মুসলিম জনগোষ্ঠী, পর্যটন আর বিদেশী ছাত্ররা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

হাওযাইযরে অ্যাটর্নি জেনারেল ডগলাস চেন বলছেন, এই রাজ্যের বিশেষত্ব হলো, ইতিহাস এবং সাংবিধানিকভাবে এখানে কোন বৈষম্য করা হয না। এখানে কুডি শতাংশ বাসিন্দা বিদেশে জন্ম নেযা, এক লাখ প্রবাসী বাস করে আর অন্তত কুডি শতাংশ কর্মী বিদেশী নাগরিক। হাওযাইযরে মানুষ মনে করে, নতুন মানুষদের প্রতি ভীতি একটি খারাপ নীতি, তিনি যোগ করেন। তবে এই মামলার বিষযে কোন মন্তব্য করতে রাজি হযনি মার্কিন বিচার বিভাগ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের যুক্তি হচ্ছে, এই নিষেধাজ্ঞা আমেরিকাকে সন্ত্রাসবাদের হাত থেকে নিরাপদ রাখার জন্য দরকার। অবশ্য অ্যাসোসিযেেটড প্রেসের এক খবরে বলা হযেেছ, কংগ্রেসের এমন একটি দলিল তারা দেখেছে যাতে বলা হযেেছ যে যাদের বৈধ ভিসা আছে তাদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

এদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী জন কেলি জানিযেেছন, ডোনাল্ড ট্রাম্প দাযত্বি গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশের হার অন্তত ৪০ শতাংশ কমেছে।

 এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পূর্বসূরি বারাক ওবামা’র বিরুদ্ধে তার ব্যক্তিগত ফোনে আড়িপাতার যে অভিযোগ তুলেছেন তার প্রমাণ চেয়েছেন দুজন সিনেটর। চলতি মাসের গোড়ার দিকে টুইটারে দেয়া এক পোস্টে ওবামা’র বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তার দাবি, তিনি নির্বাচিত হওয়ার এক মাস আগে পূর্বসূরি বারাক ওবামা তার টেলিফোনে আড়ি পেতেছিলেন। তবে নিজের এমন দাবির সমর্থনে কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেননি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এরপরই ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয গোযন্দো সংস্থা এফবিআইএ’র কাছে ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রমাণ চেয়েছেন দেশটির একদল সিনেটর।

বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এবং এফবিআইএ’র কাছে তথ্য চেয়েছেন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং শেলডন হোয়াইটহাউস। এ বিষয়ে এফবিআই-এর পরিচালক জেমস কোমি এবং ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা বোয়েন্তে-এর কাছে চিঠি দিয়েছেন তারা। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি ২০১৬ সালের নির্বাচনের সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা’র বিরুদ্ধে ফোনে আড়িপাতার যে অভিযোগ তুলেছেন; কংগ্রেসকে অবশ্যই এর গভীরে যেতে হবে। সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক সাবকমিটির চেয়ারম্যান ও র‌্যাঙ্কিং মেম্বার হিসেবে আমাদের উচিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কর্তৃপক্ষের আড়িপাতা সংক্রান্ত যে কোনও ঘটনা যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া।

চলতি মাসের গোড়ার দিকে টুইটারে দেওয়া ওই পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ভয়ঙ্কর মাত্র আবিষ্কার করলাম, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের কয়েক দিন আগে আমার ট্রাম্প টাওয়ারের ফোনে আড়ি পাতেন ওবামা। কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি।’ টুইটারে দেওয়া আরেক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘কতটা নিচু হলে অত্যন্ত পবিত্র নির্বাচনি প্রক্রিয়ার সময় ওবামা আমার টেলিফোনে আড়ি পাততে পারেন। এটা নিক্সন/ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা।’

এ অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য তখনই সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের দিক থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন বারাক ওবামা। সাবেক এ মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র কেভিন লুইস বলেছেন, ফোনে আড়িপাতা সংক্রান্ত ট্রাম্পের দাবি ‘ডাহা মিথ্যাচার’।

এক বিবৃতিতে কেভিন লুইস বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা কিংবা হোয়াইট হাউসের অন্য কোনও কর্মকর্তা কখনও যুক্তরাষ্ট্রের কোনও নাগরিকের ওপর নজরদারির নিন্দেশ দেননি।

তিনি বলেন, ওবামা প্রশাসনের মূলনীতি ছিল, বিচার বিভাগের নেতৃত্বে পরিচালিত কোনও তদন্তে হোয়াইট হাউসের কোনও কর্মকর্তা হস্তক্ষেপ করবেন না।

উল্লেখ্য, নির্বাচনি প্রচারণাকালে ওবামাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের নিকৃষ্টতম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন ট্রাম্প। এমনকি গত ফেব্রুয়ারিতে নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ওবামা’র কঠোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তিনি যে বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন, এমনকি নিজ দলের মধ্যেও তার বিরোধিতা তাকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে এর নেপথ্যে বারাক ওবামা’র হাত রয়েছে।

বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্য বারাক ওবামাকে দায়ী করেন ট্রাম্প। ফক্স টেলিভিশনের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ নামের ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমি মনে করি ওবামা এসবের সঙ্গে যুক্ত। আমি জানি এটা রাজনীতিরই অংশ।

 ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পর্দার পেছনে কি ঘটছে তা নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়। তবে আমার মনে হয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁসের সঙ্গে ওবামা প্রশাসনের লোকজন জড়িত। তারা সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে হোয়াইট হাউসের দরকারি তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ