বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

‘কয়েক হাত ঘুরিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠাতো পাচারকারীরা’ -র‌্যাব

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘মানবপাচার চক্রের’ সন্দেহভাজন ২৪ সদস্যকে আটকের কথা জানিয়েছে র‌্যাব।
এ বাহিনীর গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, আটকদের কাছ থেকে ‘মুক্তিপণের’ ছয় লাখ টাকা, জাল ভিসা ও ভিসা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর সময় ১০ জন ও পাচারের শিকার হয়ে লিবিয়া ঘুরে আসা ২৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আটক ২৪ জন হলেন- শরিফুল ইসলাম ওরফে গুরু (৩৮), মো. আবুল বাশার (২৯), মো. ফরহাদ হোসেন (২৬), সোহাগ হোসেন (২১), তানজিল আহমেদ শোভন (২৪), মো. ইসমাইল হোসেন (৩৫), মো. জাবেদ আলী (৪৫), মো. আল তামজিদ (২৭), হেলাল উদ্দিন শেখ (৪৫), মো. আছীর উদ্দিন (৩৫), সমেশ শেখ (৩৩), মবিন মিয়া (১৮), নিজামুল ইসলাম পলাশ (৪৪), মো. ইমরান (২৯), মো. কপিল উদ্দিন (৫৫), দেলোয়ার হোসেন (৪৭), রাজিব (২৫), আব্দুর রশীদ (৫৮), মো. শওকত আলী (৪৫), মো. শাহাদৎ হোসেন (৫০), মো. বরিউল আলম (৩৮), মো. শফিউল্লাহ (৩৪), রফিকুল ইসলাম (৫০), মো. শরীফ হোসেন সোহান (৫০)।
অবৈধভাবে মানুষকে বিদেশে পাঠিয়ে পরে তাদের জিম্মি করে এই পাচারকারী চক্র অর্থ আদায় করতো বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা মিজানুর।
র‌্যাবের গণমাধ্যম কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক তুহিন মুহাম্মদ মাসুদ বলেন, গত সপ্তাহে মানবপাচারকারী চক্রটির হাতে পড়ে অবৈধভাবে বিদেশগামী ১০ বাংলাদেশীকে উদ্ধারের পর অনুসন্ধান চালিয়ে চক্রের এ সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়। তিনি বলেন, মালিন্দো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ১ মার্চ রাতে ওই ১০ জনকে স্বল্পকালীন ট্যুরিস্ট ভিসার মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া পাঠানো হবে বলে আগে থেকে জানতে পারে র‌্যাব। তাদের পরবর্তীতে অবৈধভাবে ট্রলারে করে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ছিল চক্রটির।
তাদের উদ্ধার করার কথা জানিয়ে র‌্যাব অধিনায়ক তুহিন বলেন, সেই ভিকটিমদের উদ্ধারের পর গত মঙ্গলবার মানবপাচারকারী চক্রের অন্যতম নেতা শরিফুল ইসলাম গুরু ও আবুল বাশার নামের দু’জনকে মতিঝিল ও মিরপুর ডিওএইচএস থেকে আটক করে র‌্যাব। পরে অভিযান চালিয়ে বাকিদের আটক করা হয়।
‘এক চক্র থেকে আরেক চক্রের হাতে’ : এক চক্র থেকে আরেক চক্রের হাত ঘুরে বাংলাদেশীদের মালয়েশিয়ায় পাচার করা হতো বলে মানবপাচারকারী বাংলাদেশী চক্রটির সদস্যদের আটকের পর তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা তুহিন মুহাম্মদ মাসুদ। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা তাদের বিদেশে লোক পাঠানোর কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই বলে স্বীকার করেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে লোক পাচার করে আসছে।
মাসুদ বলেন, “চক্রটি প্রথমে সাধারণ মানুষকে মালয়েশিয়া নেয়ার কথা বলে ট্যুরিস্ট ভিসায় তাদের ইন্দোনেশিয়ায় নিয়ে যায়। এরপর ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা থেকে বাসে করে নর্থসুমাত্রা প্রদেশের রাজধানী মেদান নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আরেকটি চক্রের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাদের মেদান থেকে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার সেলানগর প্রদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য অন্য আরেকটি চক্রের কাছে হস্তান্তর করে।”
‘দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিজস্ব এজেন্ট’ : মানবপাচারকারী দলের সদস্যরা টাঙ্গাইল, পাবনা, মাগুরা, নওগাঁ, যশোর ও ঢাকার আশপাশে নিজস্ব এজেন্ট নিয়োগ করে লোকজনকে প্রতারিত করে বলেও র‌্যাবের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে জানানো হয়।
র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, এসব এজেন্ট বিদেশে যাওয়ার লোক সংগ্রহ, কৌশলে ট্যুরিস্ট ভিসা তৈরি, বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পার হয়ে তৃতীয় কোনো দেশে লোক পাঠানোর পরিকল্পনা, অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ওই দেশে লোক পাঠানোর কাজ করে থাকে।
পাশাপাশি তারা বিদেশে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতারণা ও জিম্মি করা এবং সব শেষে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তার পরিবার থেকে মুক্তিপণ আদায় এবং অবৈধ অভিবাসী হিসেবে শ্রমদাসে পরিণত করে।
লিবিয়া ফেরত ২৭ ভিকটিম উদ্ধার : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে র‌্যাবের একটি দল লিবিয়া ফেরত প্রতারিত ২৭ বাংলাদেশীকে উদ্ধার করেছে বলে সাংবাদিকদের জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক তুহিন মুহাম্মদ মাসুদ। তিনি জানান, ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এবং লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় গতকাল বুধবার ভোর ৫টায় তার্কিস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওই ২৭ জন দেশে আসেন।
র‌্যাব কর্মকর্তা মাসুদ বলেন, উন্নত জীবনের আশায় থাকা এই বাংলাদেশীদের বিদেশে পাঠিয়ে একটি প্রতারক চক্র লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলিতে জিম্মি করে টাকা আদায় করেছে। “তাদের পরবর্তীতে কয়েকটি চক্রের কাছে বিক্রি করে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেখানে লিবিয়ার পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে ও অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ছয়মাসের দণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠায়।” পরবর্তীতে র‌্যাব আইওএম ও লিবিয়ার দূতাবাসের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ