মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

হুইলের চাকায় প্রতিবন্ধী দিলীপের জীবন

পাঁচবিবির প্রতিবন্ধী দীলিপ

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা : জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে পুরানা হুইল চেয়ার। নোড়বা চায়না। যেটে সেটে আটকে যায়। তখন মানসোক কয়ে তুলে নেও। কি করমু ! বাঁচপা লাগবে তো। এক হাতে পেডেল ঘুরাই। আর এক হাতে হেন্ডল ধরি। ইনকা করে সরাদিন ঘুরি। বেদনায় গায়োত জ্বর আসে। আতোত ঘুমাবা পারি না। দু’দিন শুয়ে থাকি বায়িত। খায়ে না খায়ে দিন যায়। কেউ ভুল করে একবার ভুলকিও মারে না। শুয়ে থাকে থাকে কি করমু। তাই ভাঙা গাড়িটা নিয়ে আবা চাবা বেড়াও বললেন পাঁচবিবি উপজেলার বালিঘাটা ইউনিয়নের আর্জি পাটাবুকা গ্রামের আদিবাসী প্রতিবন্ধি দীলিপ সিং। তিনি আরোও বলেন, সব্বারই গোরত গেনু। খালি কয় দিমু দিমু। ইংকা করে মুই বছর পাঁচেক ঘুরনু। কিন্তুক কেউ এ্যাটা অটো হুইল চেয়ার দিল না মোক। বছর দশক আগে পুরানা বাই সাইকেল কাটে গাড়িটা বানাইছুঁ মুই। এখন ভাঙলে মেরামত যি করমু তারও পয়সা নাই মোর গোরত। একি এলাকাত বার বার ভিক্ষা চাওয়া যায় না। মানুষ দিবাও চায় না। এ্যাটা অটো চেয়ার হলে দূরে দূরে গেনু হনি। পয়সাও পানু হনি বেশি। তখন আর অসুবিধা হলোনা হনি মোর। এক মেম্বার দয়া করে প্রতিবন্ধী কার্ড টা করে দিছে। ৩ মাস পর ১৫শ টেকা পাও। এ্যাই টেকা দিয়ে ৩ জনের সংসার চলে না। তার উপর আবা বেটার পড়ার খরচ। কুলাবা পারো না। ঢাকাত যাবা পারলে মুই প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেনু হনি। পঙ্গু মানুষ চলবা পারি না। সেই তংকে কেউ খোঁজ নেয় না হামার।
দিলীপের জরাজীর্ণ হুইল চেয়ার। জোড়ায় জোড়ায় জোড়া লাগানো। বসার আসনটিও শক্ত কাঠের তক্তা। চেয়ারের ব্রেক নেই। হ্যান্ডেল নেই। কোন রকমে যাওয়া আসা করেন দীলিপ। দোকানে চেয়ে চেয়ে ভিক্ষা করে যা পায়, তা দিয়ে তার সংসার চলে।
নিজের ২ শতক জায়গায় ২ চালা ঘর বানিয়ে স্ত্রী পুত্র নিয়ে তার বসবাস। একটা অটো হুইল চেয়ার কেনার মত সামর্থ্য নেই তার। ভাঙা হুইলের চাকা না ঘুরলে তার সংসার অচল।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ