ঢাকা, মঙ্গলবার 11 August 2020, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ২০ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

লিটনকে খুন করার আগে কাদেরের পিএস’কে ফোন করে কিলাররা

অনলাইন ডেস্ক: এমপি লিটনকে খুন করার আগে ডা. আবদুল কাদের খাঁনের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) শামছুজ্জোহাকে প্রথমে ফোন করেছিল কিলাররা। শামছুজ্জোহাকে কিলাররা ফোনে জানায়, তারা লিটনকে হত্যা করতে তার বাড়ি যাচ্ছে।

রবিবার (৫ মার্চ) বিকালে গাইবান্ধা অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে শামছুজ্জোহা এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালতের বিচারক মইনুল হাসান ইউসুব তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

স্বীকারোক্তিতে শামছুজ্জোহা বলেন, ‘হত্যা মিশনের আগে-পরে আমি কাদের খাঁন ও তার প্রধান সহকারী সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন কুমার সরকারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করতাম। লিটনের অবস্থান ও বাড়ির লোকজনের গতিবিধি চন্দন কুমার কিলারদের জানাতো। পরে চন্দনের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর কিলাররা মোটরসাইকেলে করে লিটনের বাড়িতে গিয়ে তার ঘরে প্রবেশ করে। এরপর যুবলীগকর্মী পরিচয়ে কিলার মেহেদী, রানা ও শাহীন গুলি করে লিটনকে। হত্যা মিশন সম্পন্ন করার পর কিলাররা লিটনকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে বলে তারা আমাকে জানায়। পরে কিলাররা কাদের খাঁনের বাড়িতে যায়। কিলাররা কাদের খাঁনের নির্দেশে বগুড়া হয়ে বাসে করে নারায়ণগঞ্জে যায়।’

স্বীকারোক্তিতে শামছুজ্জোহা আরও বলেন, ‘ লিটনকে হত্যার পর চন্দনকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়। এছাড়া হত্যার কয়েকদিন পর চন্দন ভারতে পালানোর জন্য প্রস্তুতি নেয়। চন্দন তখন কুড়িগ্রামে অবস্থান করছিল। চন্দন টাকার জন্য আমাকে ফোন করে। পরে আমি চন্দনকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রথমে পাঁচ হাজার ও পরে আরও দশ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেই। পরে চন্দন ওই টাকা নিয়ে কুড়িগ্রামের কোনও এক সিমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘জবানবন্দিতে এমপি লিটনকে হত্যার প্রতিটি বিষয়ে তারা সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করেছেন। আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর শামছুজ্জোহাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চন্দনকে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের মাধ্যমে ইন্টারপোলের সহায়তায় গ্রেফতার করে দ্রুত দেশে আনা হবে।’

এর আগে, ববিবার (৫ মার্চ) ভোররাতে সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা বাজার এলাকা থেকে শামছুজ্জোহাকে আটক করে পুলিশ। কাদের খাঁন ও চার কিলারের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শামছুজ্জোহার লিটন হত্যার সম্পর্কে জড়িত থাকায় বিষয়টি উঠে আসে। এরপর গত সাতদিন ধরে পুলিশ তাকে নজরদারিতে রাখে। পরে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে।

শামছুজ্জোহা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হলদিয়া গ্রামের আবদুল জোব্বারের ছেলে। তার সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা বাজারে একটি রড-সিমেন্টের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী (এরশাদ) মনোনীত সাবেক এমপি (অব) কর্নেল ডা. আবদুল কাদের খাঁনের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ছিলেন শামছুজ্জোহা।

উল্লেখ্য, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে শাহবাজ (মাস্টারপাড়া) এলাকায় নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় লিটনের বোন বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ