শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

লালমনিরহাটের মৃত কাজীর লাইসেন্স বাতিলের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন

লালমনিরহাট সংবাদদাতা: লালমনিরহাটে এক নিকাহ রেজিস্ট্রারের (কাজী) মৃত্যুর দীঘ ৯ বছর পর লাইসেন্স বাতিলের আদেশ দিয়েছেন সিনিয়র সহকারী সচিব। তাও আবার মৃত্যুজনিত কারণ নয়, বাল্যবিয়ের অভিযোগে। এ সৃষ্ট ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন মরহুম কাজীর ছেলে মাহমুদুল হাসান। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১৪ নবেম্বর ২০০৭ সালে জেলার আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) সুলতান আহম্মেদ এর বিরুদ্ধে আনীত বাল্যবিয়ে রেজিস্ট্রারি করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়। তাকে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হলেও অদ্যাবধি কোনো জবাব না দেয়ায় মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর বিধি ১১ অনুয়ায়ী সুলতান আহম্মেদ নামীয় নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইন্সেস বাতিলের আদেশ দেন আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জি.এম. নাজমুছ শাহাদাৎ স্বাক্ষরিত এক পত্রাদেশে। যার স্মারক নং বিচার-০৭/২এন-৭৬/০৩-৭১৪, তাং ২১/১২/২০১৬। জানা যায়, ২০০৮ সালের ২৫ জানুয়ারি ওই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) সুলতান আহম্মেদ মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর তৎকালীন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম দুর্গাপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হিসেবে সুলতান আহম্মেদের ছেলে মাহমুদুল হাসানকে নিয়োগ দেন। তখন থেকে অদ্যাবধি তিনি নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ লালমনিরহাট জেলা রেজিস্ট্রার সরকার লুৎফর কবীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর ১৭(৪) উপবিধি মোতাবেক দুর্গাপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রারের পদটি শূন্য ঘোষণা করে ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) এজাজুল ইসলামকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যার স্মারক নং- ৯৭ (১০), তাং ২০/০২/২০১৭। তার লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, আমার পিতা মরহুম সুলতান আহম্মেদ ১৯৭৪ সালে নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্সপ্রাপ্ত হইয়া দুর্গাপুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকাকালীন ২৫ জানুয়ারি ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর জেলা রেজিস্ট্রারের অফিস আদেশে দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট থেকে তার মৃত্যুর সনদ সংগ্রহ করেন এবং ওই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রারের পদটি শূন্য ঘোষণার পর সরকারকে অবগত করেন। উক্ত শূন্যপদে মৃত নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) সুলতান আহম্মেদের আমি বড় ছেলে মাহমুদুল হাসান নিয়োগপ্রাপ্ত হই তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে। তখন থেকে আমি অদ্যাবধি নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু লালমনিরহাট জেলা রেজিস্ট্রার আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিবের স্বাক্ষরিত পত্রটি যাচাই-বাছাই না করে তড়িঘড়ি করে ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) এজাজুল ইসলামকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়ায় আমি ক্ষুব্ধ। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ২০০৮সালের ২৫ জানুয়ারি মারা যান, সেই ব্যক্তির লাইসেন্স ২০০৯ সালের জারিকৃত আইন অনুয়ায়ী ২০১৬ সালে কিভাবে বাতিল করা হতে পারে? বিষয়টি রহস্যজনক। এ ব্যাপারে লালমনিরহাট জেলা রেজিস্ট্রার সরকার লুৎফর কবীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মৃত কাজীর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। সচিবের স্বাক্ষরিত পত্রটি যাচাই করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ