শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সুজানগর উপজেলা উপ-নির্বাচনে নির্বাচনী পরিবেশ নেই

পাবনা সংবাদদাতা : আগামী ৬ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য পাবনার সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাজারী জাকির হোসেন চুন্নুর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা প্রদান ও পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ.কে.এম সেলিম রেজা হাবীবের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদিক সম্মেলন করেছে জেলা বিএনপি। সম্মেলনে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশে নেই বলে দাবি করে তারা । অবিলম্বে নির্বাচনী পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। বিএনপি প্রার্থীর প্রচার-প্রচারনায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বাধা ও হামলার মামলা নিচ্ছে না পুিলশ। শনিবার পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর ৯টি অভিযোগ দিলেও নির্বাচন কমিশন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
শনিবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাজারী জাকির হোসেন চুন্নু। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল কাদের রোকনের সমর্থকেরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ.কে.এম সেলিম রেজা হাবীবের গতিরোধ করে একদল আওয়ামী সন্ত্রাসী সেলিম রেজা হাবিবের ওপর হামলা চালায়। এসময় সেলিম রেজা হাবিবসহ ৫ জন আহত হয়। এর আগে বুধবার দুপুরে সুজানগর পৌর এলাকার মেজর কে এস মার্কেটে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সরকারদলীয় নেতা কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় এতে জেলা বিএনপির পাঁচ নেতা কর্মী আহত হয়। লিখিত বক্তব্য আরো বলা হয় ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। এখন পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর ৯ টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বর্তমান নির্বাচন কমিশন রকিব উদ্দিন কমিশনের ন্যায় ও সরকারদলীয় আজ্ঞাবহ।
সংবাদ সম্মেলনে আহত অবস্থায় উপস্থিত হয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবীব অভিযোগ করে বলেন, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই ধরনের নির্বাচন চোখে দেখি নাই। একে একে আমরা ১০টি অভিযোগ দিয়েছি নির্বাচন কমিশনে তবু কোন ফলাফল পাই নাই।গতকাল শুক্রবার রাতে নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা আমার উপর হামলা চালায়। তারা ব্যাপক ভাবে মারপিট করে আহত করেন। পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে খবর দেওয়া হলেও দেড় ঘণ্টা পর এসেছে পুলিশ। যেখানকার দূরত্ব ১০ মিনিটের। এ সময় জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেই বাড়িতেও হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর করেন। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অতি মাত্রায় বাড়াবাড়ি করছে। নির্বাচনের কোন পরিবেশ নেই। এই নির্বাচন কমিশন রকিব উদ্দিন কমিশনের পেতাত্মা বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান মাস্টার, আব্দুস সামাদ খান মন্টু, মাসুদ খোন্দকার, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মাসুম বগা, রেহানুল ইসলাম বুলাল, দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ