সোমবার ০১ মার্চ ২০২১
Online Edition

ইতিহাসের আলোকে ইসরাইল ফিলিস্তিনের সমস্যা

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান : ॥ পূর্বপ্রকাশিতের পর ॥
ইতিহাসবিদদের মতে, আমেরিকায় ইহুদি জনগোষ্ঠীর বসবাস সেই পঞ্চদশ বা ষোড়শ শতাব্দী থেকে, যদিও সে মসয় সংখ্যায় তারা ছিল নগণ্য। মূলত পূর্ব ইউরোপসহ গোটা ইউরোপ ইহুদি বিদ্বেষর উত্থান ও বিস্তৃতি লাভের সময় থেকে শুরু করে জার্মানিতে গণহারে ইহুদিদের হত্যা করার সময় পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়ে ইহুদিরা ঢালাওভাবে ফিলিস্তিনে মাইগ্রেট করার পাশাপাশি অসংখ্য ইহুদি আমেরিকাতেও মাউগ্রেট করে। বর্তমানে আমেরিকায় বসবাসকারী ইহুদিদের সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ লাখ যা আমেরিকান মোট জনসংখ্যার মাত্র ১.৫ শতাংশের মতো। ইউরোপের মতো আমেরিকাতে বসবাকারী ইহুদিরাও সময়ের সাথে অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন করে এবং আমেরিকান অর্থনীতি ও রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবিত করতে শুরু করে। বহুজাতির দেশ, আমেরিকা সাধারণভাবে সকল অভিবাসীর প্রতি অভ্যর্থনাপূর্ণ ও অনুকূল মনোভাবী হওয়ার এখানকার ইহুদি অভিবাসীরা ইউরোপের মতো উল্লেখযোগ্যভাবে বৈষম্য বা বিদ্বেষের শিকার হয়নি। ফলে আমেরিকান সমাজের প্রায় সকল স্তরেই উচ্চ ও শীর্ষস্থানীয় পদগুলোতে ধীরে ধীরে নিজেদের যোগ্যতা বলে স্থান করে নিয়েছে অসংখ্য ইহুদি। আমেরিকান সিনেট, কংগ্রেস, সুপ্রিমকোর্ট থেকে শুরু করে প্রশাসন, ব্যাকিং ব্যবসা, সাধারণ পেশাজীবী কিংবা চলচ্চিত্র ও সংবাদ মাধ্যম আমেরিকান ইহুদিরা আজ সকল ক্ষেত্রেই অভ্যন্ত সফলতার সাথে স্থলাভিষিক্ত। এবং স্বভাবতই আমেরিকার আভ্যন্তরীণ ও পরারাষ্ট্র নীতি নির্ধারণে, বিশেষ করে আমেরিকা ও ইসরায়েলের মাঝে অর্থনৈতিক সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং আমেরিকার ইসরাইল ফিলিস্তিন নীতি নির্ধারণে অবধারিতভাবে সবিশেষ ভূমিকা রাখতে সমর্থ হয় এদেশি ক্ষমতাবান ইহুদিরা।
ব্রিটিশম্যান্ডেট প্রাপ্ত ফিলিস্তিনে ইহুদিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টাদের ভেতর আমেরিকায় বসবাসকারী ইহুদিদেরও কেউ কেউ ছিল। এছাড়া ধর্মীয় পুণ্যভূমি ও পূর্বপুরুষদের আদি বাসভূমির প্রতি দুর্বলতা মানুষের স্বভাবজাত। কাজেই ইসরায়েলের প্রতি সচেতন বা অবচেতন দূর্বলতা ও নৈতিক সমর্থন আমেরিকায় বসবাসকারী অধিকাংশ ইহুদির মাঝে কমবেশি থাকাটাই স্বাভাবিক। বরং না থাকাটাই অস্বাভাবিক। এবং তারই ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সকল প্রকার নীতি নির্ধারণে ইসরায়েলের সকল প্রকার স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারটা নিশ্চিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করে এদেশের ক্ষমতাশালী ইসরাইলপন্থি ইহুদি ‘লবি’ (আইন প্রণয়নকারী কর্তৃপক্ষে প্রভাবকারী ব্যক্তিবর্গ) ও রাজনীতিকরা। এবং এ প্রচেষ্টায় তাদের সফলতা পাওয়ার বিষয়ে মনে হয় না কারও সন্দেহ আছে। কী ডেমোক্র্যাট, কী রিপাবলিকান আমেরিকান রাজনীতিবিদদের প্রকাশ্য ও উচ্চকণ্ঠে ইসরাইল প্রীতি ও অন্ধ সমর্থন স্বাভাবিকতার গণ্ডি পেরিয়েছে অনেক আগেই। আমেরিকান রাজনীতি ক্রমে এদেশি প্রভাবশালী ইহুদিদের সন্তুষ্ট করার রাজনীতিতে পরিণত রয়েছে। অন্যথায় আস্তাকুঁড়ে ছেড়ে ফেলা হচ্ছে ইসরায়েলের স্বার্থবিরোধী সামন্য টু শব্দকারী রাজনীতিকদের।
আরববিশ্বে গণঅভ্যূথানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকার পতনের যে বিপ্লব শুরু হয়েছে সাম্প্রতিকালে এবং যা তিউনিসিয়া ও ইজিপ্ট হয়ে একে একে সিরিয়া, বাহরাইন লিবিয়ায় স্থানান্তরিক হয়েছে ‘এ্যায়াব স্প্রিং নামে তাতে আমিরিকার বাহ্যিক সমর্থন প্রকাশের পাশাপাশি ও সমস্ত দেশের ভবিষ্যত সরকার গঠনে ভূমিকার রাখার ও তাদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করার উদ্দেশ্যে এ বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ওবামা তার এক বক্তৃতায় ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তিচুক্তি প্রতিষ্ঠান তৃতীয় ইসরায়ের-আরব যুদ্ধপূর্ব তথা ১৯৬৭ সালের মানচিত্র অনুযায়ী ইসরায়েলের সীমানা প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অভিজ্ঞ পন্ডিতবর্গের ভেতর যারা আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি বিশেষ করে আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্য নীতি সম্পর্কে ধারণা রাখেন, তারা স্পষ্টতই বুঝেছিলেন এটা ছিল মূলত প্রেসিডেন্ট ওবামার তথা আমেরিকার এক ধরনের পলিটিক্যাল স্টান্ট (রাজনৈতিক চমক)। অথচ আমেরিকান ইহুদি কমিউনিটি (সম্প্রদায়) ওবামার এ মন্তব্যে এতটাই ক্ষিপ্ত হয় যে, নিউ ইয়র্ক সিটির প্রাক্তন ডেমোক্রেটিক ও জুয়িশ মেয়র এড কুক? নিউ ইয়ার্কের ৯ম নির্বাচনী এলাকার জুয়িশ কংগ্রেসম্যান এস্থানি উইনার-এর পদত্যাগের পর (এক তরুণীকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজের আবক্ষ উত্তেজক ছবি প্রেরণের অভিযোগে) ওই পদে কোনোরকম রাজনৈতিক পূর্বঅভিজ্ঞতা রিপাবলিকান পদপ্রার্থী ও খ্রিস্টধর্মাবলম্বী বব? টার্নারকে নির্বাচিত করার জন্য ও প্রেসিডেন্ট ওবামার মনোনীত ডেমোক্র্যাট পদপ্রার্থীকে হারানোর জন্য ইহুদি অধ্যুষিত ওই এলাকার ইহুদি কমিউনিটির প্রতি প্রকাশ্যে আহবান জানান ওবামার ইসরায়েলের স্বার্থবিরুদ্ধে মন্তব্যের বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে এদেশি ইহুদিদের রেফেরেন্ডাম (গণভোট) প্রদানের উদ্দেশ্যে। এবং অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো, ১৯২৩ সাল থেকে ডেমোক্র্যাটরা একটানা যে পদটি দখল করে রেখেছিল, সেই পদে ডেমোক্রোটিক ও ইহুদি প্রার্থী ডেভিড ওয়েপ্রিন, যিনি একজন ধর্মপরায়ণ ইহুদি ও প্রকাশ্যে অত্যন্ত প্রো-ইসরাইল (ইসরাইলপন্থি) এবং ইসরাইল যার অনেক নিকটাত্মীয়ও রয়েছেন, রাজনীতিতে দীর্ঘকালীন পূর্বঅভিজ্ঞতা নিয়েও অনেক ভোটের ব্যবধানে রিপাবলিকান বব টার্নারের কাছে পরাজিত হয়েছেন। ভেবে দেখুন, যে এলাকার মোট জনসংখ্যার অন্তত ৪০ শতাংশ ইহুদি এবং যে এলাকা ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাটপন্থি, ইসরাইল প্রসঙ্গে ওবামার সম্প্রতিক মন্তব্যখানা সেখানকার জনগণকে কতখানি রাগাম্বিত ও ক্ষুদ্ধ করে থাকলে তারা নিজেদের ডেমোক্রেটিক ও স্বধর্মীয় ইহুদি প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ একজন রিপাবলিকান ও ক্যাথোলিক খ্রিস্টাধর্মাবলম্বী প্রার্থীকে নির্বাচিত করেন প্রবিবাদ স্বরূপ? এরপর
স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ওবামাসহ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সকল ডেমোক্র্যাট ওরিপাবলিকান রাজনীতিকরা যে ইসরাইল প্রসঙ্গ তাদের স্বর নামাতে ও সুর বদলাতে বাধ্য হবেন, তা কী বলার প্রয়োজন আছে? তাহলে কী ব্যাপারখানা এটাই দাঁড়াচ্ছে না যে, আমেরিকার মধ্যস্থতায় স্থায়ীভাবে ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তিচুক্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসরায়েলে বসবাসকারী সাধারণ ইহুদিদের চেয়ে আমেরিকায় বসবাসকারী প্রভাবশালী ইহুদিদের ভূমিকা অনেকাংশে মুখ্য এবং প্রকারান্তরে অন্যতম প্রধান বাধা?
মজার ব্যাপার হলো ইসরাইল ফিলিস্তিন শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর শর্ত হিসেবে ১৯৬৭ সালের মানচিত্র অনুযায়ী ইসরাইলি সীমানা প্রত্যাহার করা প্রসঙ্গে ওবামা যা বলেছেন, তা কিন্তু কেবল ওবামার নিজের কথা নয় বরং অসংখ্য আমেরিকান প-িতসহ আন্তর্জাতিক মহলের দীর্ঘকালীন অবস্থান এটাই এবং এরা সকলেই ইসরাইল ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ায় এটাকে মৌলিক শর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ওবামা তার বক্তব্যে মূলত আন্তর্জাতিক মহলের দীর্ঘকালীন অবস্থানের কথাটাই পুনরাবৃক্তি করেছে মাত্র। পক্ষান্তরে, অন্যায়ভাবে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে কেখানে জাতিসংঘের নির্দেশ অমান্য করে বেআইনিভাবে ইহুদি বাসন্থান নির্মাণ চালিয়ে যাওয়া ও স্বভূমিতে ফিলিস্তিনিদের উদ্বাস্তু বানিয়ে লোক দেখানো শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইসরাইলি দাবি ভয়ানক অন্যায় এবং তাতে আমেরিকান ইহুদিদের সমর্থন এবং নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি খাটিয়ে আমেনিকান প্রশাসনকে এহেন অন্যায়কে সমর্থন করতে বাধ্য করা সত্যিই দুঃখজনক। বিশেষ করে, এড কুক?-এর মতো একজন সম্মানিত ও শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্রেটিক নেতার নিজ পার্টিলাইন অতিক্রম করে রিপাবলিকান বব? টার্নারকে প্রকাশ্যে সমর্থন করা এবং টার্নারের বিজয় উৎসবে “I like president Obama….I helped get him elected. But he thrwe Israel under the bus.” (বঙ্গানুবাদ: আমি প্রেডিডেন্ট ওবামাকে পছন্দ করি তাকে নির্বাচিত হতে আমি সাহায্য করেছি। কিন্তু তিনি ইসরাইলকে বাসের নিচে পিষে দিয়েছেন) জাতীয় মন্তব্য করা এটাই প্রমাণ করে যে, প্রভাবশালী আমেরিকান ইহুদিদের রেডিক্যাল’ (প্রতিক্রিয়াশীল) ও ‘হকিশ’ (অসহিষ্ণু ও যুদ্ধংদেহী) মনোভাব এবং অন্যায় আবদার সত্যিকারের ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তিচুক্তি অর্জনে অন্যতম প্রধান বাধা, যা রিপাবলিকান কিংবা ডেমোক্র্যাট, আমেরিকান কোনো প্রশাসনের পক্ষেই সহজ অতিক্রম করা মনে হয় না সম্ভব।
দুঃখের বিষয়, এড কুক কেবল একা নন বরং আমেরিকার আভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতিতে প্রভাবশালী কিংবা আমেরিকান সংবাদ মাধ্যম ও প্রচার মাধ্যমে নিয়োজিত অসংখ্য ইহুদি ইসরাইল- ফিলিস্তিন শান্তি প্রশ্নে বর্তমান ইসরাইলি বেআইনি ভৌগলিক সীমানা রক্ষায় ও দখলকৃত লিলিস্তিনি ভূমিতে ইহুদি স্থাপনা ও বাসস্থান ক্রমনির্মাণে এড কুক-এর মতোই ‘রেডিক্যাল’ ও হকিশ’ মনোভাব পোষণ করেন, তা এদেশে তাদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দর্শন ‘রক্ষণশীলতা’ বা ‘উদারপন্থা’ যাই হেয় থাকুক না কেন। আইরনি (বক্রাঘাত) হলো, বর্তমান বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি আমেরিকার ইসরাইল-ফিলিস্তিন নীতি তথা সার্বিক মধ্যপ্রাচ্য নীত ক্রমে এড কুক? এর মোত মুষ্টিমেয় প্রভাবশালী ইহুদিকে সন্তুষ্ট করার নীতিতে পরিণত হচ্ছে এবং তাদের ‘রেডিক্যাল’ ও ইকিশ’ মনোভাব ও অন্যায় আবদারের কাছে ক্রমে জিম্মি হয়ে পড়েছে। যে কারণে সেই ১৯৬৭ সালের পর থেকে অদ্যাবধি জাতিসংঘে ও নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত ফিলিস্তিনের স্বার্থরক্ষা কিংবা ইসরায়েলের স্বার্থবিরোধী সকল আন্তর্জাতিক প্রস্তাব (এবং অধিকাংশ সময়ই যা মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত) প্রতিবার পরাজিত হয়েছে আমেরিকার একমাত্র ভেটো প্রদানের কারণে। যা গোটা মুসলিমবিশ্বসহ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমেরিকার  নৈতিকতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সহ আমেনিকার সম্মানকে নিদারুণভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
যা হোক, এ তো গেল প্রভাবশালী আমেরিকার ইহুদিদের ইসরাইলকে অন্ধভাবে সমর্থন করার ব্যাপারটা। কিন্তু খ্রিস্টাধর্মাবলম্বী সাধারণ আমেরিকানদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশের প্রো-ইসরাইল হওয়ার কারণ কী? ধর্মীয় কারণে ইহুদিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থনকারী খ্রিস্টানদের অনেকে বিশ্বাস করেন ফিলিস্তিনি ভূমির অংশ বিশেষের ওপর বংশানুক্রমে ইহুদিদের অধিকার রয়েছে এবং সে কারণে তারা ইসরাইলপন্থি। এছাড়া অনেক খ্রিস্টান বিশ্বাস করেন, ইসরাইলি ভূমিতে ইহুদিদের ফিরে যাওয়া যীশুখ্রিস্টের ‘দ্বিতীয় প্রত্যাবর্তন’ এর পূর্বশর্ত। যে কারণে আমেরিকার এভান? জেলিক্যাল খ্রিস্টানদের অন্তত ৭০ শতাংশ ইহুদিরাষ্ট্র ইসরাইলকে সমর্থন করেন। কাজেই এভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের ভোটব্যাংককে আকৃষ্ট করার জন্য প্রকাশ্যে ইসরায়েলের পক্ষাবলম্বন করাও এদেশের রাজনীতিকদের অন্যতম কৌশলগুলোর একটা। এছাড়া ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান মানোনয়ন প্রার্থী মিশেল বাকম্যান, নিউট গিংরিচ ও রিক পেরি’র মতো চরম রেডিক্যাল ডানপন্থি নেতা- নেত্রীরা নিজেদের গোঁড়া ধর্মবিশ্বাসের কারণে ইহুদিরাষ্ট্র ইসরাইলকে সত্যি সত্যিই অন্ধ সমর্থন করলে তাতেও আশ্চার্যান্বিত হওয়ার কিছু নেই।
এতক্ষণ আলোচনা করলাম মূলত আমেরিকান ইহুদি ও প্রো-ইসরাইল আমেরিকানদের ইসরাইলকে সমর্থন করার কারণসমূহ। এছাড়া ভৌগলিক দিক দিয়ে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ও পার্শ্ববর্তী আফ্রিকান আরবদেশগুলোর ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং তাদের তেলসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদের ওপর কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের ভৌগলিক অবস্থানকে কাজে লাগানো আমেরিকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই সেদিক থেকেও ইসরাইলকে আমেরিকার সমর্থন করার কারণ রয়েছে। উপরোক্ত আলোচনা থেকে অন্তত এ বিষয়টা সুস্পষ্ট যে, আমেরিকার পক্ষপাতপূর্ণ ইসরাইল-ফিলিস্তিন নীতি কিংবা আরও ব্যাপক অর্থে আমেরিকার ইসরাইল-আরববিশ্ব নাতি অদূর ভবিষ্যতে পরিবর্তন হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই।
এবার আসি ইসরাইল-মুসলিমবিশ্ব প্রসঙ্গে। যে বিশেষ কারণে সুদানের দারফুরে বসবাসরত খ্রিস্টান বসতির ওপর সে দেশের আরভাষী মুসলমানদের অত্যাচার ও নিপীড়ন আমেরিকাসহ বিশ্বের কোণায় কোণায় বসবাসকারী খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের একজন সচেতন মানুষের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াপূর্ণ মর্মবেদনা ও সহমর্মিতা অনুভব করার গণ্ডি পেরিয়ে বাড়তি উৎকণ্ঠিত ও ব্যথিত করে এবং তা প্রতিরোধ পরিকল্পিত ও সংগঠিত উদ্যোগ নেওয়ার নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত ও আগ্রাহান্বিত করে তোলে, সেই একই কারণে ইসরাইল কর্তৃক অত্যাচারিত ফিলিস্তিনিদের প্রতি একজন সাধারণ মুসলমান সমবেদনা ও সহমর্মিতা অনুভব করে এবং বিশ্বব্যাপী মুসলিমরা সাধারণভাবে ফিলিস্তিনিদের পক্ষাবলম্বন করে। স্বধর্মীয়দের বা স্বজাতির প্রতি মানুষের এই সচেতন বা অবচেতন দুর্বলতার ব্যাপারটা খুবই স্বাভাবিক ও সহজেই অনুমানযোগ্য। সেদিক থেকে একজন উপমহাদেশীয় মুসলমানের অত্যাচারিত ফিলিস্তিনি আরবদের পক্ষাবলম্বন করা দোষের কিছ নয়। সমস্যা শুধু এটাই যে, কুচক্রী আরব রাজা- বাদশাহ ও স্বৈরাচারী আরব শাসকগণ এবং ইসলামের ধ্বজাধারীরা নিজেদের স্বার্থে ইসরায়ের-ফিলিস্তিন সমস্যাকে যুগ যুগ ধরে রাজনৈতিক দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে যা সাধারণ মুসলমানদের মাঝে ব্যাপকভাবে ইসরাইল- আমেরিকা বিরোধিতাসহ নিদারুণ ইহুদি বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিতে সমর্থ হয়েছে। এবং আরববিশ্বের ও আরবি ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে দারিদ্র্যপীড়িত এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত, উন্নয়নশীল মুসলিম দেশগুলোর মাদ্রাসাপড়ুয়া ছাত্র ও যুবকদেরকে তথাকথিত ইসরাইল আমেরিকা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পথ অবলম্বন করতে অনেক সময় প্ররোচিত করেছে।
বলাবহুল্য, ফিলিস্তিনিদের সাথে প্রতিনিয়ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার অবসান ঘটিয়ে ইসরাইলি জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিতকরণ, প্রতিবেশী আরবদেশগুলোর সাথে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ সহাব সহাবস্থান, আরববিশ্বসহ গোটা মুসলিমবিশ্বের ইসরাইল আমেরিকা বিরোধী মনোভাবের অবসান, ইসরায়েলের সাথে গোটা মুসলিমবিশ্বের সম্পর্ক উন্নয়ন ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং সর্বোপরি, ইসরাইল-ফিলিস্তিন ‘ইস্যু’ কে (প্রশ্ন/সমস্যাকে) একেন্ড (উদ্দেশ্য/কার্যবিধি) বানিয়ে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনাকারী মুসলিম সন্ত্রাসী দলগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও ক্রমে তাদেরকে নিশ্চিহৃকরণ ইত্যাদি সবই নির্ভর করছে মূলত ইসরাইল-ফিলিস্তিন সমস্যার আন্ত র্জাতিকভাবে স্বাীকৃত স্থায়ী সমাধানের ওপর। ইসরাইল-ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধানকল্পে বিগত বছরগুলোতে অনুষ্ঠত সম্মেলনগুলোর (যথা-১৯৯১ সালের মাদ্রদ সম্মেলন এবং পরবর্তীতে অসলো, ক্যাম্প ডেভিড়, তাবা ও এনাপলিস সম্মেলন) ওপর ভিত্তি করে এবং পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ের ওপর প্রকাশিত বিভিন্ন প্রস্তাব বা উদ্যোগ (যেমন জেনেভা প্রস্তাব) পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অভিজ্ঞ পন্ডিতদের অভিমত হলো, ইসরাইল-ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী শান্তিপূর্ণ-সমাধান একটাই। তা হলো ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’ এবং যেটা মূলত তিনটে কেন্দ্রীয় উপাদান নিয়ে গঠিত। যথা- ১। ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী ইসরাইলি সীমানা প্রত্যাহার করা। প্রয়োজনে একটার বদলে-একটা নীতি অনুসরণ করে সম্ভাব্য ভূমি বদল করা যেন পরিশেষে দখলকৃত ভূমির অবিকল সমপরিমাণ ভূমি ফিলিস্তিনিদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ২। জাতিয়সংঘের ১৯৪৭ সালের বিভাজন অনুসারে কিংবা যুদ্ধপূর্ব ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুসারে জেরুজালেমকে বিভক্ত করা সম্ভাব্য ভূমি বদলসহ যেন উভয়পক্ষ তাদের স্ব স্ব ধর্মীয় স্থান ও স্ব স্ব ধর্মাবলম্বী সংখ্যাগুরুদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা পায়। এমনকি, এটা করতে গিয়ে কিছু কিছু ইসরাইলি আবাসন উচ্ছেদ করা ও সেখানে বসবাসরত ইহুদিদের ইসরায়েলে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজন পড়লেও। ৩। ইসরাইল কর্তৃক সকল ফিলিস্তিনির স্বভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার স্বীকার করে নেওয়া; কিন্তু তা কেবল এই শর্তে যে, যদিও সকল ফিলিস্তিনি নবগঠিত শিশুরাষ্ট্র ফিলিস্তিনে ফিরে যেতে পারবে, কিন্তু উভয় পক্ষের সম্মতিতে শুধু সীমিত সংখ্যক ফিলিস্তিনি ইসরায়েলে প্রত্যাবর্তন করার সুযোগ পাবে এবং যে সমস্ত ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না কিংবা যারা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চাইবে না, তাদের সবইকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক প-িতদের মতে এ শর্ত মেনে নেওয়া ইসরায়েলের জন্য মোটেই কঠিন ও সমস্যাজনক হওয়ার কথা নয় যেহেতু ইসরাইল অন্যায়ভাবে ফিলিস্তিনি ভূখ- দখল করে আছে এবং জাতিসংঘের প্রস্তাব মেনে নিয়ে ফিলিস্তিনিদের তাদের প্রাপ্য ভূমি ফিরিয়ে দিয়ে ১৯৬৭ সালের মানচিত্র অনুযায়ী নিজেদের সীমানা প্রত্যাহার করাটাই ইসরায়েলের জন্য এখন সবচেয়ে ন্যায়সঙ্গত ও বুদ্ধিবৃত্তিক পদক্ষেপ। অথচ আমেরিকার (তথা আমেরিকান ইহুদিদের) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন নিয়ে ইসরাইল গায়ের জোরে জাতিসংঘের নির্দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলের অনুরোধ ক্রমাগত অমান্য ও উপেক্ষা করে চলেছে এবং বিশ্ববিবেককে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ফিলিস্তিনি সীমানায় ইচ্ছেমতো ইহুদি বাসস্থান নির্মাণ করা সহ উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক অভিযান ও নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে মিথ্যে আত্মপ্রতিরক্ষার নামে। যা ইসরাইল-ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর ব্যাপারটাকে বাহ্যত অসম্ভব করে তুলছে। এতক্ষণ যা কিছু লিখলাম, তা সবই মূলত ইসরাইল-ফিলিস্তিন সমস্যার ইতিহাস এবং তা সমাধানে আন্তর্জাতিক মহলের পরামর্শ বা সুপারিশ।
এবার আমার সীমিত জ্ঞানের আলোকে এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গিটা তুলে ধরব। ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট, আহমোদিনেজাদ-এর বিগত বছরগুলোতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন মুসলিম সম্মেলনে হরহামেশা ইসরাইলকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি, গাজার শাসন ক্ষমতা দখলকারী হামাসের ইসরাইলকে দেশ হিসেবে কখনই স্বীকৃতি না দেয়ার ঘোষণা কিংবা বিশ্বব্যাপী রেডিক্যাল ডানপন্থি মুসলিম নেতৃবৃন্দের ইহুদিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রকাশ্য বিরোধিতা ও ইসরাইল ধ্বংসের কামনা ইত্যাদি সবই আমার ব্যক্তিগত অভিমতে স্রেফ ‘পলিাটক্যাল স্টান্ট’ যার আসলে কোনো মানে নেই। এসব কথাবার্তা স্রেফ সমমনা রেডিক্যাল শ্রোতাকুল ও সমর্থকদের খুশি করার অপচেষ্টা মাত্র। বলাবাহুল্য, এ ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল ও রাজনৈতিকভাবে সম্পর্শকাতর কথাবার্তা ইসরাইল-ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী শান্তি পূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো পথে অন্যতম প্রধান অন্তরায় এবং শান্তির বিরোধিতাকারীদের হাতকে শক্তিশালী করার বরং উৎকৃষ্ট উপাদান। যার প্রমাণধূর্ত ইসরায়িলি প্রশাসনের এসব কথাবার্তাকে হইলাইট করে বিশ্ববাসীর কাছে বরংবার প্রচার করা এবং এর মাধ্যমে ইসরায়েলের প্রতি অমুসলিম দেশগুলোর সমর্থন ও সহমর্মিতা আদায় করার পাশাপাশি এগুলোকে ছুঁতো-নাতা ও ওজর বানিয়ে ফিলিস্তিনে আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়া। কাজেই মুসলিম নেতৃবৃন্দের ইসরাইল সম্বন্ধে এ সমস্ত ‘রাবিশ’ (বাজে/ফালতু) কথাবার্তা বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী মুসলমানদের প্রত্যাখ্যান করা উচিত। এ কথা ভূলে গেলে চলবে না যে, ইসরাইল জাতিসংঘ কর্তৃক প্রস্তাবিত ও স্বীকৃত একটা স্বাধীন রাষ্ট্র। আরবলীগ সে সময় জাতিসংঘের প্রস্তাবিত দ্বিজাতি বিভাজনের মানচিত্র মেনে নিলে এবং পার্শ্ববর্তী আরবদেশেগুলো ইসরাইলকে আক্রমণ না করলে ইসরাইল আজও হয়তো সেই ১৯৮৭ সালের সীমানা সংবলিত দেশই থাকত এবং ফিলিস্তিনিরা হয়তো স্বাধীভাবে তাদের অংশের নিজস্ব ভূখ শাসন করতে পারত। বিশেষ করে ১৯৬৭ সালে ইজিপ্ট ও জর্ডানের ইসরাইলি সীমানায় সৈন্য সমাবেশ ও ইজিপ্ট কর্তৃক সুয়েজ খালের ইসরাইলি নৌ চলাচলের পথ বন্ধ না করলে হয়তো তৃতীয় ইসরাইল-আরব যুদ্ধ সংঘটিত হতো না এবং ওয়েস্ট ব্যাংক, ইস্ট জেরুজালেম ও গোলান হাইট? স? আরবদেশগুলোর হাতছাড়াও হতো না। কাজেই, আমার ব্যক্তিগত অভিমতে মুসলমানরা ইসরাইল-ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাইলে সচেতন সধারণ মুসলমানদের উচিত রেডিক্যাল মুসলিম নেতৃবৃন্দের ইসরাইলকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার মতো ফালতু পলিটিক্যাল স্টান্টের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করা, তাদের চরমপন্থি কথাবার্তা প্রত্যাখ্যান করা এবং আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সাথে মুখোমুখি বসে আলোচনার মাধ্যমে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করার জন্য তাদেরকে চাপ দেওয়া। একথা যদিও সত্যি যে, সেই সপ্তম শতাব্দী থেকে ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময় ধরে আরব মুসলমানরা উক্ত এলাকা শাসন করেছে এবং যে কারণে আরব সংস্কৃতি, সভ্যতা ও ভাষা সেখানে বিস্তার লাভ করেছে। কিন্তু পাশাপাশি এটাও সত্যি যে, ইসরাইলি ভূমিতে ইহুদিদের বংশানুক্রম বা ‘রুট (মূল) আব্রাহামিক ধর্মের আবির্ভাবের সেই শুরু থেকেই প্রোথিত এবং এই ভূমিতে তাদের ও ধর্মীয় অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে মাইগ্রেট করা অধিকাংশ হিন্দু পরিবার ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন; বার্মা কিংবা পাকিস্তানে নয়। যদি কখনও সামাজিক সমস্যা বা রাজনৈতিক কারণে আমেরিকান কালোরা আমেরিকা ত্যাগ করে, তাহলে সম্ভবত আফ্রিকাতেই ফিরে যাবে অধিকাংশ কালোরা। ধর্মীয় পূণ্যভূমি ও পূর্বপুরুষদের আদি নিবাসকে ঘিরে ইহুদিদের ইহুদিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চিরাচরিত স্বপ্ন স্বভাবতই অবাস্তা কিছু নয়। এবং ব্রিটিশ সরকারের সাথে রাজনৈতিক চুক্তির সুযোগ বর্তমান ইসরায়েলে ইহুদিদের জুয়িশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা তাদের আজীবনের স্বপ্নের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন। এছাড়া আমার জানা মতে, বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করার পর সর্বপ্রথম যে কটা দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তার মধ্য ইসরাইলও ছিল। ইসরাইলকে অন্তত সেটুকুর জন্য কৃতিত্ব দিতে ও ইসরাইলিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি অন্তত ব্যক্তিগতভাবে কার্পণ্য করি না। বরং সৌদি আরব সেই মুসলিম দেশ যা ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। অবশ্য এখানে এ কথা বলতে একটুও অসুবিধে নেই যে, আমি ব্যক্তিগতভাবে ইহুদিদের জুয়িশরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোর বিরোধী। এবং ইসরায়েলের জুয়িশরাষ্ট্র না হয়ে সেক্যুলার রাষ্ট্র হওয়ার পক্ষে। ঠিক যেমনি করে বিশ্বব্যাপী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সেক্যুলার রাষ্ট্র হওয়ার পক্ষে আমি। [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ