সোমবার ৩০ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

সাক্ষী মহারাজের দম্ভোক্তি

কোনও মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে ইসলামের রীতি অনুসারে সসম্মানে দাফন তথা কবর দেবার নিয়ম। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র এমপি সাক্ষী মহারাজ বলেছেন, দেশে আর কবরস্থানের জন্য জমি দেয়া যাবে না। এতো জমি নেই। আইন করে নতুন কবরস্থান তৈরি বন্ধ করে দিতে হবে। খবর বিবিসি ও আনন্দবাজার পত্রিকার। সাক্ষী মহারাজ বলেন, ভারতে মুসলমানদের আর দাফন নয়। দাহ করা হবে। নিজের নির্বাচনী এলাকায় আয়োজিত এক জনসভায় তিনি গত সোমবার একথা বলেন। ইউপি’র উন্নাও থেকে নির্বাচিত এমপি সাক্ষী মহারাজ আরও যুক্তি দিয়ে বলেন যে, জঙ্গিদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হলে ইসলামী সন্ত্রাসবাদেরও মোকাবিলা করা যাবে, কারণ জান্নাতে গিয়ে তাদের সুখভোগের আকর্ষণ আর থাকবে না। তিনি আরও বলেন, কাউকে কবর দেবার প্রয়োজন নেই। ভারতে দুই-আড়াই কোটি সাধু-সন্ত আছেন। তাদের মৃত্যুর পর সবার জন্য সমাধি তৈরি করা প্রয়োজন। এজন্য জমি লাগবে। ভারতে ২০ কোটি মুসলমানের জন্য একটা করে কবর দিতে হলে এত জমি কোথা থেকে মিলবে? তাই জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সকলের মৃতদেহ দাহ করবার দাবি তুলেছেন তিনি। অবশ্য কংগ্রেস নেতারা সাক্ষী মহারাজের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তারা এ বক্তব্যকে উস্কানি বলেও উল্লেখ করেন।
সাক্ষী মহারাজ হয়তো জানেন না যে, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য একটি করে কবর খুঁড়বার দরকার নেই। প্রয়োজনে একই কবরে পর্যায়েক্রমে অগণিত লাশ দাফন করা যেতে পারে। এখন যেসব কবরস্থান ভারতে রয়েছে সেগুলোতেই মুসলমানদের লাশ দাফন করা সম্ভব। কিন্তু দুই-আড়াই কোটি সন্ন্যাসীর সমাধি তৈরি করতে চাইলে তিনি সেই জমি কোথায় পাবেন? সাক্ষী মহারাজ হয়তো এও অবগত নন যে, মুসলমানদের কবর বাঁধবার নিয়ম নেই। কোনও মুসলমান মারা গেলে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক মাটিতে দাফন করবার নিয়ম। তারপর সে মাটিতে লাশ পচেগলে মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। মাটি ঊর্বর হবে। একই কবরে আরও হাজার হাজার লাশ দাফন করা সম্ভব হবে যুগের পর যুগ ধরে। এমনকি কিয়ামত অবধি এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া মুসলমানদের লাশ দাফন করতে পরিবেশের সামান্যতম ক্ষতিও হয় না। একজন মুসলমানের লাশ দাফন করতে যে খরচ তাও খুব সামান্য। অথচ সাক্ষী মহারাজদের মৃতদেহ দাহ করতে অনেক কাঠখড়ি পোড়াতে হয়। বড়লোক হলে চন্দনকাঠের মত মূল্যবান সম্পদ ধ্বংস হয়। এমনকি মণকে মণ ঘৃত পর্যন্ত দরকার পড়ে। এর ছাইভষ্মে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন হয়। আর শবদাহের ছাইভষ্মাদি নদীতে ফেলেও দূষণ ছড়ানো হয়। এমনই করে শতাব্দের পর শতাব্দ ধরে শবদাহ করতে বিপুল অর্থের যেমন অপচয় হয়, তেমনই পরিবেশেরও বারোটা বাজে। অবশ্য আজকাল কোথাও কোথাও ইলেক্ট্রিক চুল্লিতে শবদাহ করা হয়ে থাকে। তবে এতেও দূষণ ছড়ায় বৈকি! সাক্ষী মহারাজ সাধু-সন্তদের সমাধিক্ষেত্র তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ জায়গাজমির চিন্তা করছেন। হ্যাঁ, তাতো করতেই হবে। কিন্তু মুসলমানদের সমাধিক্ষেত্র তৈরির অনুমোদন ইসলামে নেই।
প্রকৃত অর্থে সাক্ষী মহারাজ উদ্দেশ্যমূলকভাবে মুসলমানের লাশ দাফনের ইস্যু সামনে এনে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছেন। ভারতীয় মুসলমানদেরসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ্কে আঘাত দিতে চেয়েছেন। ছড়াতে চেয়েছেন বিদ্বেষও। তিনি মুসলমানদের ঢালাওভাবে জঙ্গি, সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তার দেশটিতে বজরং দল, শিবসেনা, সাক্ষী মহারাজের নিজের দল বিজেপি’র বিরুদ্ধে যে সন্ত্রাসের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে সে ব্যাপারে কিছুই উল্লেখ করেননি। ভারতীয় মুসলমানদেরসহ বিশ্বের সমস্ত মুসলিমসমাজকে জঙ্গি, সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তিনি ধৃষ্টতা প্রদর্শনের দুঃসাহস দেখিয়েছেন। তাদের ঈমান-আকিদা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করবার একপেশে মানসিকতা প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেশী দেশটির একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির এমন অনাকাক্সিক্ষত বক্তব্য ও দাবির আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ