শুক্রবার ২৭ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

সৌদির কাছে উপহ্রদ বিক্রি করছে মালদ্বীপ ॥ শঙ্কিত ভারত

৩ মার্চ, টাইমস অব ইন্ডিয়া: মালদ্বীপের আবদুল্লাহ ইয়ামিন সরকার দেশটির একটি উপহ্রদ সৌদি আরবের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবছে। এই নিয়ে এখন জোর আলোচনা চলছে দেশটিতে। ভারতও নিজ নিরাপত্তার কথা ভেবে এই নিয়ে শঙ্কিত। মালদ্বীপের বিরোধীদল মালদ্বীভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির (এমডিপি) সদস্যরা ভারতীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, ফাফু নামের উপহ্রদটি সৌদি আরবের কাছে বিক্রির অর্থ হলো দেশটিতে ওয়াহাবিবাদের প্রকোপ বাড়ানো।
বর্তমানে মালদ্বীপে ২৬টি উপহ্রদ রয়েছে। এই দ্বীপপুঞ্জকে এমনিতেই সিরিয়া যোদ্ধাদের আখড়া বলে বিবেচনা করা হয়। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদ খুব শিগগিরই মালদ্বীপ সফর করবেন। এমডিপি সদস্য এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ নাসিম বলেছেন, সরকার জনগণের মতামত নেয়ারও তোয়াক্কা করছে না।
তিনি বলেন, ‘আগের দিনে বিদেশিদের কাছে ভূমি বিক্রি করা বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতার শামিল বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ড দেয়া হতো। কারণ মালদ্বীপে এমনিতেই ভূমি কম।’ মালদ্বীপ সরকার ২০১৫ সালে সংবিধানে একটি সংশোধনী এনে বিদেশিদের দেশটিতে ভূমির মালিক হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়।
ভারতের প্রতিবেশী হিসেবে মালদ্বীপই একমাত্র দেশ যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সফর করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। হয়তো আগামী বছরের নির্বাচনে দেশটিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এমডিপি প্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ বর্তমানে লন্ডনে নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
তিনি মনে করেন, মালদ্বীপে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার ব্যাপারে ভারতেরও একটা নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। মোদি সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এমজে আকবরও সম্প্রতি মালদ্বীপ সফর করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘মালদ্বীপের জনগণের আশা আকাঙ্কা অনুযায়ী একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে মালদ্বীপ গড়ে উঠবে, সেটাই সকলে চায়।’ একজন এমডিপি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘সৌদি প্রতি বছর মালদ্বীপের ৩০০ শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ দিচ্ছে এবং দেশটির ৭০ শতাংশ মানুষ এমনিতেই ওয়াহাবিপন্থী।’ তিনি বলেন, ‘সৌদি থেকে ইসলামি শিক্ষক আনার একটা পরিকল্পনা আছে ইয়ামিনের। এভাবে স্কুলগুলোকে মাদ্রাসায় পরিণত করা হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ