মঙ্গলবার ২৪ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

রুশ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি থেকে সরে দাঁড়ালেন ট্রাম্পের অ্যাটর্নি জেনারেল সেশন

৩ মার্চ, বিবিসি/ওয়ার্শিটন পোস্ট : পিছু হটলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন। মার্কিন নির্বাচন নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে নিজেই অভিযুক্ত হওয়ার পর এ সংক্রান্ত এক তদন্ত কমিটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমি সেই প্রচারণায় যুক্ত ছিলাম, এ সংক্রান্ত তদন্তে তাই আমার না থাকাই ভালো।’
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি মার্কিন নির্বাচন নিয়ে কোনো তদন্তকাজে আমি অংশগ্রহণ করবো না। তিনি আবারও জোর দাবি জানান, দায়িত্ব নেয়ার সময় তিনি কোনো মিথ্যা বলেন নি। রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মার্কিন নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে ডেমোক্রেটরা তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেশনের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে বলেছেন, জেফ সেশন একজন সৎ মানুষ। তিনি হয়তো স্পষ্ট করে অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তবে তার উদ্দেশ্য অসৎ ছিলো না।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসরায়েকের সঙ্গে জেফ সেশনের দুই গোপন বৈঠকের খবর প্রথমে সামনে নিয়ে আসে ওয়াশিংটন পোস্ট। ঘটনার পর জোর আলোচনা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, কিসলায়েকের সঙ্গে গত বছর জুলাই মাসে রিপাবলিকানদের জনভেনশনের সময় একবার সাক্ষাৎ হয় জেফ সেশনের। আবার সেপ্টেম্বরে তার অফিসে একবার সাক্ষাৎ হয়। তখন জেফ সেশন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির একজন সদস্য।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা নিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস। ডেমোক্র্যাটরা তার পদত্যাগ দাবি করেছে। সেশনস ১০ জানুয়ারিতে তার কনফার্মেশন হেয়ারিংয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছিলেন। বলেছিলেন রাশিয়ানদের সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ হয়নি।
গত বুধবার রাতে একটি বিবৃতিতে তিনি আবারও বলেন, নির্বাচনী প্রচার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে রাশিয়ার কোনও কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি কখনও সাক্ষাৎ করেননি। এ ধরনের অভিযোগ আসলে কি নিয়ে করা হচ্ছে তা তিনি জানেন না। এ অভিযোগ মিথ্যা।
কিন্তু বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেই জানিয়েছে যে, গতবছর জুলাই এবং সেপ্টেম্বরে সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য থাকার সময় সেশনস রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলায়াকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
 ডেমোক্রেটরা বলছেন, জেফ মিথ্যা বলে শপথ নিয়েছেন। সে কারণে তার পদত্যাগ করা উচিত।
তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচনী প্রচারে জড়িতদের সঙ্গে রুশ কর্মকর্তাদের যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে এফবিআই এর তদন্ত কার্যক্রম থেকেও সেশনসের সরে দাঁড়ানো উচিত। কারণ, অ্যাটর্নি জেনারেল হিসাবে তিনি এফবিআইএ এর এই কার্যক্রম তদারক করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা বলছেন, নির্বাচনী প্রচারণায় ডেমোক্রেট দলের সংগঠনগুলোতে রাশিয়া অবৈধভাবে হ্যাকিং চালানোর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করতে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পকে সহায়তা করেছে।
 সেশনসের আগে গত মাসে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা নিয়ে হোয়াইট হাউসকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বরখাস্ত হন।
মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা বলছে, সেশনস গত বছর একবার নয় দুইবার রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলায়াকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
পত্রিকাটি জানায়, সেপ্টেম্বরে সেশনস তার কার্যালয়ে কিসলায়াকের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপ করেছেন। আর এর আগে অন্যান্য আরও কয়েকজন রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে বৈঠকের সময়ও তিনি রুশ দূতের সঙ্গে আলাপ করেছিলেন।
গত বছরজুড়ে এরকম ২৫ জনেরও বেশি বিদেশী রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সেশনস বৈঠক করেছেন। কিন্তু রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তার বৈঠকটি হয় এমন সময়ে যখন সেশনস তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ট্রাম্পের প্রচার শিবিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস কমিটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার অবৈধ হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতে রাজি হওয়ার পরপরই অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশসনের রুশ যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ