ঢাকা, বুধবার 5 August 2020, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বিনামূল্যের ভিজিডির চাল বিতরণেও টাকা আদায়

অনলাইন ডেস্ক: মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চাঁলা ইউনিয়ন পরিষদে বিনামূল্যের সরকারি চাল বিতরণেরও দুঃস্থদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। পরিবহন ভাড়ার নামে এই টাকা আদায় করা হচ্ছে চেয়ারম্যান সামসুল আলম বিশ্বাস শিরুর নির্দেশে।

ইউনিয়নের ২০৯ জন দুঃস্থ পরিবারের প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে বিনামূল্যে চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাসের বরাদ্দ করা চাল তারা পাননি। এ কারণে চলতি মাসে দুঃস্থ পরিবারদেরকে দুই মাসের চাল একবারে পরিষদ থেকে দেওয়া হয়েছে। আর ইউনিয়ন পরিষদ একেকটি পরিবারের কাছ থেকে যাতায়াত খরচ দেখিয়ে ৪০ টাকা করে আদায় করেছেন। সেই হিসেবে দেখা যায় ২০৯ টি দুঃস্থ পরিবারের কাছ থেকে আট হাজার ৩৬০ টাকা নেয়া হয়েছে।

টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কুদ্দুস বেপারী ঢাকাটাইমসকে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ঝিটকা সরকারী গোডাউন থেকে ভিজিডির চাঁল ইউনিয়ন পরিষদ নেওয়া হয়। এরপর  ২০৯ জন পরিবারের মাঝে সেই চাল বিতরণ করা হয়েছে। পরিবহন খরচ বাবদ প্রতি বস্থায় ২০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। একেকটি পরিবার যেহেতু দুই বস্তা করে পেয়েছে, তাই তাদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ৪০ টাকা করে।  এই টাকা চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, যারা টাকা দিতে অস্বীকার করেছেন, তাদেরকে চাল দেয়া হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপকারভোগী ঢাকাটাইমসকে জানান, ঝিটকা থেকে চালা ইউনিয়ন পরিষদের দুরত্ব তিন কিলোমিটার। যাতায়াত ব্যবস্থাও ভাল। এখানে সরকার থেকে খরচ বাবদ যে টাকা পরিষদে দিয়েছে তাতেই হয়ে যাবার কথা। অথচ চেয়ারম্যান  ও সদস্যরা মিলে  ভিজিডি সুবিধাভোগিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন।

চেয়ারম্যান শিরু প্রথমে টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করলেও সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা যাতায়াত খরচ বাবদ টাকা নিতে পারে। এটা আমার জানা নেই।’

হরিরামপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মালা-বরাল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘চাল বরাদ্দ দেয়ার সময় আমি পরিষদে ছিলাম। কিন্তু আমাকে কেউ অভিযোগ করেনি।‘ তিনি বলেন, ‘যদি চেয়ারম্যান দুঃস্থদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকেন তাহলে সেই টাকা ফেরত দিতে হবে।’

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আরেফিন রেজোয়ান বলেন, ‘ভিজিডির চাল দুঃস্থদের দিয়ে টাকা নেয়ার কোন সুযোগ নেই। যদি এমনটা ঘটে তাহলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ