সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নাটোরে ২শ’ ফিট রাস্তার জন্য  একটি গ্রামের লোক অবরুদ্ধ

 

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা: উপজেলার পার্শ্ববর্তী নাটোরের নলডাঙ্গার বিলহালতি বিলের ধারের একটি গ্রামে ২শ’ ফিট রাস্তার জন্য গ্রামের হাজারো লোক অবরুদ্ধ রয়েছে। গ্রাম থেকে বের হবার রাস্তা না পেয়ে গ্রামবাসীকে পরনির্ভর আইল-পাগার ও বাড়ির ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত রাস্তায় একাধিক মালিকানার দাবিদার বিরোধপূর্ণ জমিতে ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ কারায় বিপাকে পড়েছেন গ্রামবাসী। পাকা সড়কের সংযোগে সংযুক্ত রাস্তা না থাকায় গ্রামের স্কুল-কলেজে পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীসহ লোকজন সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। পাকা সড়কের সংযোগে নির্মিত সামান্য রাস্তা নির্মাণে সরকারি সহায়তা দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, নাটোরের বিল হালতি প্রকল্পের অধীনে বিলের চারধারের গ্রামের লোকজনের সুবিধায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় নলডাঙ্গা থানার পাটুল হয়ে খাজুরা ইউনিয়নের একটি পাকা রাস্তা ও মরা আত্রাই নদীর বামনগ্রাম-বারৈহাটি গ্রামে একটি ব্রিজ স্থাপিত হয়। নবনির্মিত ব্রিজে পার্শ্ববর্তী গ্রামের হাজার হাজার লোক যাতায়াতের সুবিধা পেলেও বামনগ্রাম-বারৈহাটি ব্রিজের সামনে উভয় পাশের সংযোগ সড়কের মাত্র ২শ’ ফিট রাস্তার জন্য সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে গোয়ালঘাট নামে একটি গ্রামের শত শত লোক। শুষ্ক মওসুমে আইল-পাগার ও বাড়ির ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারলেও বর্ষায় তা পানিবন্দী হয়ে পড়ে গ্রামের শত শত লোক।

 সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ব্রিজের নিকটে ওই গ্রামটির সংগে সংযোগ রাস্তার দূরত্ব মাত্র ২শ’ ফিট রাস্তার জন্য পুরো গ্রামবাসী অবরুদ্ধ রয়েছে। গ্রামের সাথে পাকা রাস্তার সংযোগের জন্য স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি রাস্তা নির্মাণ করা হলেও গ্রামের একটি প্রভাবশালী মহল সম্প্রতি নিজস্ব জমির মালিক দাবি করে নির্মিত রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে করে রাস্তা সংযোগ রাস্তা না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গ্রামের অধিকাংশ লোক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবার। সরকারি ভাবে গ্রামের মধ্যে কোনো রাস্তা নেই। নিজ উদ্যোগে ১টি রাস্তা তৈরি করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে অকেজো থাকায় পুনরায় সংস্কারে গ্রামের একটি প্রভাবশালী মহল বিঘœ সৃষ্টি করায় গ্রামবাসী সুবিধা বঞ্চিত হতে চলেছে। গোয়ালঘাট গ্রামের মেম্বর রহমান জানান, সরকারিভাবে রাস্তা নির্মাণের আবেদন করে কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি। এমনকি ব্রিজের কাছের গ্রাম হয়েও সুবিধা বঞ্চিত গ্রামবাসী। মাত্র ২শ’ ফিট রাস্তা হলে গ্রামের লোকজন পাকা রাস্তার সংগে সংযোগ পেয়ে যাতায়াত সুবিধা পাবে। এমনটি নিয়ে গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী যুবকদের নিয়ে সরকারি খাস জমির ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে একটি প্রভাবশালী চক্রের কারণে রাস্তা নির্মাণের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধকৃত প্রায় শ’দুয়েক ফিট রাস্তার সামনে জমির একাধিক মালিক দাবিদার থাকলেও একজন স্বার্থসিদ্ধির দাবিদার কোনোমতেই ছাড় দিতে চাচ্ছে না ফলে সংযোগ রাস্তার কোনো সুরাহা করা যায়নি। রাস্তার অভাবে নৌকা কিংবা পানিতে ভিজে ব্রিজের রাস্তায় লোকজনকে চলাচল করতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য রাস্তা না থাকায় স্কুল-কলেজে আসা ছাত্র-ছাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা নৌকার অপেক্ষায় বসে থাকে। পার্শ্বে ব্রিজের প্রভাবে এখানে কোনো খেয়া নৌকা নেই। তাই জেলেদের নৌকা তাদের একমাত্র ভরসা। 

গ্রামের শহিদুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, সভ্যতা রাস্তা দিয়ে চলে। কিন্তু রাস্তা বন্ধ করে তারা কোনো স্বভাবের লোক। গ্রামের মোস্তাক আহমেদ, রনি, রঞ্জিৎসহ অনেকে জানান, রাস্তা না থাকায় মালামাল নিয়ে চলাচল করতে তাদের পানি ভাঙতে হয়। তাদের মতো রাস্তা সংকটে প্রতিদিন শত শত লোকজনকে দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। সংশ্লিষ্ট গ্রামবাসী মাত্র ২শ’ ফিট রাস্তা দ্রুত নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সরকারের নিকট দাবি জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ