রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মান্ধাতার আমলের তাঁত দিয়ে  চলছে খুলনার ৯ পাটকল

 

খুলনা অফিস : ষাটের দশকে স্থাপিত তাঁত দিয়ে চলছে খুলনাঞ্চলের নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল। দীর্ঘদিনেও হয়নি বিএমআরই, লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া। আর দেশে-বিদেশে পাটের বহুমুখী পণ্যের চাহিদা থাকলেও খুলনার পাটকলগুলোতে তৈরির উপযোগী মেশিন নেই। আর বিকল রয়েছে অসংখ্য তাঁত। এছাড়া প্রয়োজনীয় কাঁচা পাটের অভাবে কিছু তাঁত বন্ধ রয়েছে। এসব তাঁত বন্ধ থাকায় পাটজাত পণ্যের উৎপাদন হ্রাসের পাশাপাশি, উৎপাদন খরচ বেড়েছে। একই সঙ্গে পাটকলগুলোর লোকসানে পড়তে হচ্ছে। 

বাংলাদেশ জুট মিলস্ করপোরেশন (বিজেএমসি) সূত্র জানায়, খুলনা মহানগরীর খালিশপুর, আটরা-গিলাতলা ও যশোরের অভয়নগর শিল্পাঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকল রয়েছে। যার অধিকাংশই ষাটের দশকে স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে খালিশপুর ভৈরব নদের তীরে ১৯৫২ সালের ২০ মার্চ ১১৩ দশমিক ৩ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ক্রিসেন্ট, ১৯৫৪ সালে ৫৫ দশমিক ৮৪ একর জমিতে প্লাটিনাম, ১৯৫৩ সালে ২২ দশমিক ৫৯ একর জমিতে দৌলতপুর, একই দশকে পিপলস্ (বর্তমানে খালিশপুর), ভৈরব নদের তীরে দিঘলিয়ার উপজেলার চন্দনী মহল এলাকায় ১৯৫৬ সালে ৫৬ দশমিক ৩১ একর জমিতে স্টার, আটরা শিল্পাঞ্চলের ভৈরব নদের তীরে ১৯৬৭ সালের ১ নবেম্বর ৪০ দশমিক ৮৭ একর জমিতে ইস্টার্ন, একই এলাকায় ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই ৪৫ দশমিক ২৯ জমিতে আলিম, যশোর জেলার নওয়াপাড়া উপজেলার রাজঘাট এলাকায় ১৯৬৩ সালে ২৩ দশমিক ৬ একর জমিতে কার্পেটিং এবং ১৯৬৭ সালে ৭৯ দশমিক ৬৩ একর জমিতে যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রি (জেজেআই) জুটমিল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালে এসব পাটকল বিজেএমসি’র আওতায় আনা হয়।

এসব পাটকলে স্যাকিং (মোটা বস্তা), হেসিয়ান (পাতলা চট), সিবিসি (কার্পেট বেকিং ক্লথ) এবং ইয়ার্ন (সুতা) চার ধরনের পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত এসব পণ্য সিরিয়া, ইরাক, ইরান, সুদান, মিসরসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়।

সূত্র জানায়, খুলনাঞ্চলের ৯টি পাটকলে ৫ হাজার ১০৯টি তাঁত রয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারির তথ্যানুযায়ী, ৪ হাজার দুইশ’টি বাজেটের তাঁত চালু থাকার কথা। কিন্তু চালু রয়েছে মাত্র দুই হাজার ৬৭২টি তাঁত। বাজেটে মোট চাহিদার এক হাজার ৫২৮টি তাঁতই বন্ধ রয়েছে। এর মধে প্লাটিনাম জুট মিলে বাজেটের ৮১৪টি তাঁতের মধ্যে ৫২৮টি, ক্রিসেন্ট জুট মিলে এক হাজার ৭৩টি তাঁতের মধ্যে ৬৯৮টি, খালিশপুর জুট মিলে ৬৭৯টি তাঁতের মধ্যে ৩৯৫টি, স্টার জুট মিলে ৫৫২ টি তাঁতের মধ্যে ৩৯৯টি, দৌলতপুর জুট মিলে ১৮১টি তাঁতের মধ্যে ৫৫টি, আলিম জুট মিলের ১৯৩টি তাঁতের মধ্যে ৭৮টি, ইস্টার্ন জুট মিলের ২৪৩টি তাঁতের মধ্যে ১৭২টি, কার্পেটিং জুট মিলের ৭০টি তাঁতের মধ্যে ৬৯টি, জেজেআই জুট মিলের ৩৩৯টি তাঁতের মধ্যে ২৭৮টি তাঁত চালু রয়েছে।

প্লাটিনাম ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মিলের মেশিনগুলো পুরাতন হওয়ায় এগুলো থেকে পরিপূর্ণ উৎপাদন হচ্ছে না। এছাড়া মাঝে মধ্যেই মেশিনগুলো বিকল হয়ে যায়। পরে খুচরা যন্ত্রাংশ লাগিয়ে তা ঠিক করে পুনরায় চালাতে হয়। শ্রমিকরা আরো জানায়, মিলে অসংখ্য তাঁত একেবারে বিকল হয়ে গেছে। যা দিয়ে উৎপাদন সম্ভব নয়। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে গড়ে ওঠা এসব মিলের মেশিনগুলো কখনো রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। ফলে উৎপাদন কমেছে, কমেছে শ্রমিকদের মজুরি।   প্লাটিনাম জুট মিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান বলেন, মিলের তাঁতগুলো দীর্ঘদিনের পুরাতন। এসব মেশিন বিএমআরই করা প্রয়োজন। একই সুরে কথা বলেন, ইস্টার্ণ জুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন।  

ক্রিসেন্ট জুট মিলের প্রকল্প প্রধান আবুল কালাম হাজারী বলেন, পুরাতন মেশিনে উৎপান সক্ষমতা কমেছে। মেশিনগুলো বিএমআরই ও মেইনট্যানেন্স করা দরকার। এ লক্ষে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।   খুলনার প্লাটিনাম জুট মিলের প্রকল্প প্রধান মো. বনিজ উদ্দিন মিঞা জানান, মিলের তাঁতগুলো ৬০ বছরের বেশি পুরনো। মিল প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএমআরই করা হয়নি। তবে বর্তমান সরকার মিলটি বিএমআরই করার উদ্যোগ নিয়েছে। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।   বিজেএমসির এক কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুই-একটি মিলে আধুনিক মেশিনে বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন হলেও  খুলনাঞ্চলে তা নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ