সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

জরিমানার ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা  অর্থ জমা দানের নির্দেশ

 

স্টাফ রিপোর্টার : পরিবেশের ক্ষতিপূরণ হিসেবে জরিমানার অর্থ জমা না দেয়া হাজারীবাগের ১৫৪টি ট্যানারি কারখানাকে বকেয়া ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এই আদেশের ব্যত্যয় হলে তাদের (ট্যানারি) ভয়াবহ পরিণতি হবে।

এক আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আবেদনকারীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, গত ১৬ জুন হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি না সরানো পর্যন্ত পরিবেশের ক্ষতি হিসেবে ১৫৪ কারখানার মালিককে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। পরে ট্যানারি মালিকেরা আপিল করলে আপিল বিভাগ দৈনিক ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেন। 

এরপরেও ট্যানারি কারখানাগুলো হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তর না করে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করা থেকে বিরত থাকে। এ অবস্থায় আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ে ব্যর্থতার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গত ২৫ জানুয়ারি শিল্প সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে তলব করেছিল হাইকোর্ট। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শিল্প সচিব আদালতকে জানান, দেড়শ’র বেশি কারখানা রয়েছে, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বকেয়ার পরিমাণ ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

মনজিল মোরসেদ বলেন, এ পরিস্থিতিতে তারা এসব কারখানা মালিককে হাজির করতে বা অর্থ পরিশোধ করতে বা পরিশোধ না করা হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আরজি জানানো হয়। আদালত দুই সপ্তাহের মধ্যে ১৫৪ কারখানা মালিককে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলেছেন।

এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০১ সালে ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। ওই আদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প অন্যত্র সরিয়ে নিতে ২০০৯ সালের ২৩ জুন হাইকোর্ট ফের নির্দেশ দেন। সরকারপক্ষের আবেদনের পর ওই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও ট্যানারি স্থানান্তর না হওয়ায় পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আদালত অবমাননার মামলা করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে হাইকোর্ট আদালত অবমাননার রুল জারি করে শিল্পসচিবের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। শিল্পসচিব ব্যাখ্যায় বলেন, ১০টি প্রতিষ্ঠান বারবার তাগিদ সত্ত্বেও তাদের কারখানা সরাতে পদক্ষেপ নেয়নি।

এরপর ওই ১০ কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করে তাদের তলব করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন ট্যানারি মালিক ১১ এপ্রিল হাজারীবাগে কারখানা বন্ধ এবং সাভারে সরানোর পদক্ষেপ জানিয়ে হলফনামা দিলে আদালত তাদের অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। তিনজন মালিক আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয়া হয়। বাকি চারজন মালিকের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। একজন বিদেশে থাকায় তাকে ৩ মে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ