শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

গাবতলীতে সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ মামলা ॥ আসামী ১২০০ ॥ গ্রেফতার ৭ জন রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার : আদালতের রায়ের প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের মধ্যে ঢাকার গাবতলী এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। দারুসসালাম থানার উপ-পরিদর্শক নওসের আলী জানান, তিন মামলায় ৪২ জনের নাম করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১২০০ জনকে আসামী করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলার বাদী দারুস সালাম থানার এসআই মো. জুবায়ের ও এসআই বিশ্বজিৎ পাল। অন্য মামলাটি করেছেন ফেরদৌসী (৩০) নামের মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা এক নারী।

এসআই নওসের বলেন, পুলিশের করা একটি মামলায় সরকারি কাজে বাধা, গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। দ্বিতীয় মামলাটি করা হয়েছে বিশেষ ক্ষমতা আইনে।

অন্যদিকে ফেরদৌসীর করা তৃতীয় মামলায় মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে বলে এই পুলিশ সদস্য জানান।

পুলিশের করা দুই মামলায় তাজুল ইসলাম ওরফে তাজু (৪৮), আব্দুল হাশেম (৪৫), শামসুল আলম (৪২), আহমেদ আলী (৬০), আব্দুস সাত্তার (৪১), নসু (৪৫), আবুল বাশার (৬৭), সালাম মুরশিদ (৪৫), জালাল (৪২), হাজি সুলতানসহ (৬০) ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

দুই চালকের সাজার রায়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘট শুরুর পর মঙ্গলবার রাতে পরিবহন শ্রমিকরা ঢাকার গাবতলীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। রাতভর দফায় দফায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের পর সকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষ নতুন মাত্রা পায়। এক পর্যায়ে আমিন বাজার সেতুর দক্ষিণ দিক থেকে মাজার রোডের প্রবেশ মুখ পর্যন্ত পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঢাকার অন্যতম প্রধান এই প্রবেশ পথে যানচলাচল বন্ধ থাকে দীর্ঘ সময়। এ সময় সংবাদ মাধ্যমে গাড়ি, পুলিশের রেকারসহ বিভিন্ন যানবাহন হামলা ও ভাংচুরের শিকার হয়। সংঘর্ষের মধ্যে আহত এক শ্রমিক পরে হাসপাতালে মারা যান।

৭ পরিবহন শ্রমিক রিমান্ডে

বাসচালকের যাবজ্জীবন কারাদ-ের প্রতিবাদে মহাসড়কে যানচলাচলে বাধা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার মামলায় সাত পরিবহন শ্রমিকের একদিনের রিমা- মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল  বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আলমগীর কবির রাজের আদালত রিমা-ের এ আদেশ দেন। রিমা-কৃতরা হলেন- রফিকুল ইসলাম, হাসানুর, রবিন, মো. সোহেল, ফজলে রাব্বী, আলামিন ও এনামুল হক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার সাব-ইন্সপেক্টর মো. যোবায়ের আসামীদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমা- আবেদন করেন। রিমা- আবেদনে বলা হয়, আসামীদের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে, ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা উদঘাটনের লক্ষ্যে আসামীদের সাত দিনের রিমা- মঞ্জুর করা হোক। অপরদিকে আসামীপক্ষের আইনজীবী শামসুজ্জোহা আসামীদের রিমা- বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের শিবালয়ে শালজানা গ্রামে ‘কাগজের ফুল’ ছবির শুটিং স্পট থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে জোকা এলাকায় বাস দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। আহত হন আরও তিনজন। ওই ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স বাসচালক জামির হোসেনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের আদালত আসামী জামিরকে যাবজ্জীবন কারাদ-ের রায় দেন। এর প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকরা অবরোধের ডাক দিলে গত ১ মার্চ গাবতলীর তিন রাস্তার মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে, একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়, পুলিশের গাড়ির ক্ষতিসাধন করে। এ ঘটনায় দারুস সালাম থানার পুলিশের উপপরিদর্শক বিশ্বজিত পাল মামলাটি দায়ের করেন।

‘নিহত শ্রমিকের হৃদপিন্ডে গুলী লেগেছিল’

পরিবহন ধর্মঘট চলাকালে বুধবার গাবতলীতে পরিবহন শ্রমিক ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত বাসচালক বন্দুকের গুলীতেই মারা গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার  ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ।

ময়নাতদন্ত শেষে ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, বন্দুকের গুলীতে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের ফুসফুস এবং হৃদপি-ে গুলীর আঘাত পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার বুকে ও পেটে শটগানের অজগ্র গুলীর চিহ্ন আছে।

বুধবার সকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলীবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ওই পরিবহন শ্রমিক। প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ওই শ্রমিকের নাম শাহ আলম (৩৮) বলে জানানো হয়েছিল।

তবে নিহতের সুরতহাল রিপোর্টে নিহতের নাম শাহিনুর (৩৭) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বাবার নাম মো. ছায়ের উদ্দিন। তার বাড়ি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার পশ্চিম বালিঘাটা গ্রামে। নিহত শ্রমিকের সুরতহাল সম্পন্ন করেন দারুসসালাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহেশ চন্দ্র সিংহ। এসআই মহেশ জানান, স্বজনরা না আসায় নিহতের লাশ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ