রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

গ্যাসের দাম কমাতে হবে এটাই সকলের দাবি ----------মির্জা ফখরুল

 

স্টাফ রিপোর্টার : গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে কমানোর দাবি জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গ্যাসের মূল্য বাড়ানো যাবে না। গ্যাসের মূল্য কমাতে হবে। এটা দেশের জনগণের সকলের দাবি। এসময় তিনি গ্যাসের দাম বৃদ্ধিসহ সরকারের গণবিরোধী সব কর্মকা-ের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণার বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশজুড়ে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এই অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে বলতে চাই, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা যাবে না, গ্যাসের মূল্য কমাতে হবে- এটা সকলের দাবি। এই ধরনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জনগণের মধ্যে গিয়ে তাদেরকে উজ্জীবিত করে তুলতে হবে। সরকারের গণতন্ত্রবরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী যে সমস্ত পদক্ষেপ তার বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, সময় এসেছে জেগে ওঠার, প্রতিবাদ করার। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্যদিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সরকারকে বাধ্য করতে হবে।

গতকাল সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে অবস্থান কর্মসূচি চলে বেলা ১২টা পর্যন্ত। দুই ঘণ্টার এই কর্মসূচিতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন প্রাঙ্গণে সমবেত হন। 

অবস্থান কর্মসূচির সময় দুই পৃষ্ঠার একটি লিফলেটও বিতরণ করা হয়। লিফলেটের শিরোনাম ছিল আসুন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির গণবিরোধী সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।

সিনিয়র নেতাদের মধ্যে অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুল মান্নান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, আনোয়ার হোসাইন, তাইফুল ইসলাম টিপু, শহীদুল ইসলাম বাবুল, শরীফুল আলম, রফিক শিকদার, আমিনুল ইসলাম, সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, শরিফ উদ্দিন জুয়েল, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, গোলাম মোস্তফা সহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গ্যাসের দাম দুই দফায় বাড়ানোর ঘোষণা দেয় যা ১ মার্চ থেকে কার্যকর হবে।

বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদের আগামী ১মার্চ থেকে এক চুলার জন্য মাসে ৭৫০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৮০০ টাকা দিতে হবে, যা এতদিন ছিল যথাক্রমে ৬০০ টাকা ও ৬৫০ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে ১ জুন থেকে এক চুলার জন্য মাসিক বিল ৯০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৯৫০ টাকা হবে। অবশ্য গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি বেআইনি ঘোষণায় দায়ের করা এক রিট মামলায় হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ওপর ৬ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছে।

সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্যে, একদলীয় শাসনকে পাকাপোক্ত করতে একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে। সর্বশেষ গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা সম্পূর্ণভাবে একটা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। যেখানে গ্যাস কোম্পানিগুলো মুনাফা করছে, এমন কোনো অবস্থা সৃষ্টি হয়নি যাতে করে গ্যাসের দাম বাড়াতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, বিশিষ্টজনেরাও বলেছে, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। এই সরকারকে জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহি করতে হয় না, সেকারণে তারা একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে।

পরিবহন ধর্মঘটের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা দেখেছেন, গতকাল (বুধবার)-পরশু (মঙ্গলবার) যে নাটক পরিবহন সেক্টারে দেখাল; সরকারের মন্ত্রীরা উস্কানি দিয়ে একটা ধর্মঘট করিয়েছে, তাতে জনগণের দুর্ভোগ হয়েছে, একজন শ্রমিকেরও মৃত্যু হয়েছে। বিরোধী দলকে সমাবেশ ও কথা বলতে না দিয়ে সরকার গণতন্ত্রের পরিসর সংকুচিত করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

আগামী নির্বাচন সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে বিএনপিকে বাদ দিয়ে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে এদেশে নির্বাচন হবে, এদেশের মানুষ কোনোদিনই তা মেনে নেবে না।

আলোচনায় অংশ নিয়ে দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজ গণতন্ত্র আওয়ামী লীগের বাক্সে বন্দি, মানুষের ভোটাধিকার আওয়ামী লীগের বাক্সে বন্দি। এই সরকার নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করছে। আমরা বলতে চাই, যদি আবার এই সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো গায়ের জোরে নির্বাচনের নামে তামাশা করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, তাহলে জনগণ আর কখনো বরদাশত করবে না।

তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই, আর বেশিদিন সরকার তার পুলিশ বাহিনী দিয়ে, পেটুয়া বাহিনী দিয়ে জনগণকে আর ঘরে আটকিয়ে রাখতে পারবে না। বিএনপির নেতৃত্বে, দেশনেত্রীর নেতৃত্ব আমরা রাস্তায় নেমেই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণের নির্বাচনের দাবি আদায় করবোই ইনশা আল্লাহ।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, যেহেতু এই সরকার নির্বাচিত নয়, জনগণের সরকার নয়, তার জন্য জনগণের প্রতি তাদের দায়-দায়িত্ব নেই। তাই জনগণের ওপরে সরাসরি এবং ইনডাইরেক্ট ট্যাক্স পরোক্ষ কর বসিয়ে এইভাবে এই সরকার গায়ের জোরে দেশ পরিচালনা করছে।

বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা অনেকেদিন ধরে ঘরে বসে কথা বলেছি। আজকে ঘরে ছেড়ে আঙিনায় এসেছি। আমরা ইচ্ছা করলে রাজপথে গিয়ে মিছিল করতে পারি। সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, আমরা প্রস্তুত। এ যাত্রা মাফ করলাম। এর পরের থেকে অনুমতি নিয়ে নয়, ঘরে নয়, রাজপথে নামব। এই সরকারের বাধা দেয়ার কোনো অধিকার নাই। জনগণের ভোটে যারা নির্বাচিত নয়, তাদের কোনো আদেশ-নির্দেশ মানার জন্য জনগণ প্রস্তুত নয় এবং জনগণ এই সরকারের কোনো আদেশ-নির্দেশ মানবে না।

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পদত্যাগ করুন, দল-নিরপেক্ষ সরকারের কাছে কিভাবে ক্ষমতা দেবেন, সেই চিন্তা করুন। নির্বাচন দিন, নির্বাচন নিয়ে খেলাফেলা করবেন না। 

তিনি বলেন, একদিকে কোর্টের বারান্দায় আমরা ঘুরবো, আর আপনারা হেলিকপ্টারে ঘুরে বেড়াবেন- এটা বেশি দিন মেনে নেয়া হবে না। 

কর্মসূচিতে দলীয় লোককে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসি করা হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপির নেতারা বলেন, নতুন কমিশনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে বিএনপি। তবে ২০১৪ সালের মতো একতরফা নির্বাচনের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

কর্মসূচি পালনকালে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, সারা দেশে অনেক স্থানে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি করতে দেয়নি আইনশৃংখলা বাহিনী।

 

রাজশাহী অফিস: রাজশাহী মহানগরীতে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন হলেও পুলিশী বাধায় প- হয়ে গেছে জেলা বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি। 

গতকাল বৃহস্পতিবার গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১টার দিকে রাজশাহীর কোর্ট শহীদ মিনারে জেলা বিএনপি অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই পুলিশ ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় বিএনপি নেতাকর্মীদের। এ সময় মানিক খান নামের এক ছাত্রদল নেতাকে আটক করে পুলিশ। মানিক পবা উপজেলার নওহাটা পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। পুলিশ পেছন থেকে ধাওয়া করে তাকে আটক করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোর্ট শহীদ মিনার চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে রাজশাহী জেলা বিএনপি। ১১টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপু ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান মন্টুর নেতৃত্বে আরও নেতাকর্মী শহীদ মিনার চত্বরে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ ধাওয়া দিলে আদালতের মধ্যে ঢুকে পড়েন তারা। এ সময় পেছন থেকে নওহাটা পৌর ছাত্রদলের নেতা মানিক খানকে আটক করে পুলিশ। রাজপাড়া থানার পুলিশের দাবী, অনুমতি ছাড়াই কোর্ট শহীদ মিনার চত্বরে বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা জোরপূর্বক কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করে। যে কারণে ধাওয়া করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।

এদিকে গতকাল দুপুরে নগরীর মালোপাড়ায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। এ উপলক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। প্রধান অতিথি ছিলেন, বিএনপির উপদেষ্টা রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বক্তব্যে বলেন, জনগণের সাধ্য-সামর্থ্যরে দিকে না তাকিয়ে সরকার নিজেদের খেয়ালখুশিমতো গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান।

চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, এ সরকার একটি অনির্বাচিত সরকার, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্র হরণ করেছে। এই সরকার স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট কায়দায় অতীতের স্বৈরাচার এরশাদ সরকারকেও হার মানিয়েছে।

সরকার দেশকে একটি পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় বলেই বিএনপি কোন শান্তি পূর্ণ কর্মসূচি দিলেই পুলিশ তাতে বাধা দেয়, এই হচ্ছে দেশের গণতন্ত্র। ডা. শাহাদাত আরও বলেন, সরকার দেশের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা না করে গ্যাসের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করেছে। সর্বক্ষেত্রে চলছে নৈরাজ্য, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সাথে সাথে পরিবহন ভাড়াসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উধ্বংগতি লাগামহীনভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না। দেশের মানুষ এই অবৈধ সরকারকে আর চায় না। 

ডা. শাহাদাত আরও বলেন, সরকারদলীয় নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান এর নেতৃত্বে পরিবহন ধর্মঘটের নামে সারাদেশে ত্রাস চালিয়েছে। কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে যদি বিএনপির কেউ কথা বলে তাহলে সাথে সাথে আদালত অবমানার মামলা হয়। কিন্তু সরকারদলীয় মন্ত্রী হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে ত্রাস সৃষ্টি করলে কোনো মামলা হয় না। 

তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর কাজির দেউরীস্থ নুর আহমেদ সড়কে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে নগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত অবস্থান প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালে সভাপতির উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরী এখন চরম গ্যাস সংকটে ভুগছে। তিনি গ্যাসের এই সংকট নিরসনে বর্তমান নাজুক অবস্থা বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে এবং গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবি জানান।            

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মো. মিয়া ভোলা, সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, মো. আলী, এস.এম. সাইফুল আলম, শেখ নুরুল¬াহ বাহার, কাজী বেলাল উদ্দিন, মো. আলী, আশরাফ চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর মাহবুবুব আলম, কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

খুলনা অফিস: রাষ্ট্রায়ত্ত খাত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি লুটপাট বন্ধের আহবান জানিয়ে খুলনা জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা বলেছেন, শুধুমাত্র শাসক দলীয় লুটেরাতন্ত্র বন্ধ হলেই দেশে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হবে না। তারা জনদুর্ভোগ না বাড়িয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাধারণ জনগণের মধ্যে জনমত গড়ে তোলার ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে অনির্বাচিত অবৈধ সরকারের পতন ঘটানোর আহ্বান জানান। 

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির প্রতিবাদে খুলনায় অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে সমাবেশে বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন। কেন্দ্র ঘোষিত এ কর্মসূচি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা হতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। 

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও আসাদুজ্জামান মুরাদের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেসিসির মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সাবেক এমপি কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী, শেখ মুজিবুর রহমান, মীর কায়সেদ আলী, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, মাওলানা শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। এর আগে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা থেকে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের খ- খ- মিছিল সমাবেশস্থলে এসে হাজির হয়। সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ বিএনপি অফিস ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেয়। 

অপরদিকে, খুলনা জেলা সভাপতি এসএম শফিকুল আলম মানার সভাপতিত্বে জেলা বিএনপি অবস্থান কর্মসূচি খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচি চলাকালে সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি চাকরিজীবীর বেতন-ভাতা বাড়িয়ে বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হয়। এরপর গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে আবারও অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্য সাধারণ জনগনের নাগালের বাইরে চলে গেছে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, একদিকে সরকারে মন্ত্রী-এমপি-নেতাদের সীমাহীন লুটপাট, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় বিলাসী ব্যয়বহুল প্রকল্পে হাজার কোটি টাকা ব্যয়- দেশের অর্থনীতিকে চরম ঝুকির দিকে নিয়ে গেছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা যাদের নেই, ভোটের জন্য যারা জনগনের দ্বারস্থ নন, কেমল মাত্র তাদের পক্ষেই এ ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব। নেতৃবৃন্দ সরকারের দুই মন্ত্রীর ইন্ধনে দেশব্যাপি পরিবহন ধর্মঘটের কঠোর সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

সিলেট ব্যুরো: সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএনপি নেতারা এ অভিযোগ করেছেন। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা ও মহানগর বিএনপি শহীদ মিনারে এ কর্মসূচির আয়োজন করেছিল।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে দলীয় নেতাকর্মীরা সিলেট শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে যান। এ সময় পুলিশ তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়। বাধ্য হয়ে তারা শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করে সোবহানীঘাটস্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে কর্মসূচি পালন করেন। তবে বাধা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোতোয়ালী থানার ওসি সোহেল আহমদ। তিনি জানান, শহীদ মিনারে বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয়নি। 

ফরিদপুর সংবাদদাতা: শহর বিএনপি গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে প্রায়  ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করে। 

শহর বিএনপির সভাপতি রেজাউল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ নান্নু, শহর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এমটি আকতার টুটুল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ প্রমুখ। 

কোর্ট কম্পাউন্ডের স্বাধিনতা চত্বরেও পৃথকভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা: গতকাল বৃহস্পতিবার পিরোজপুর মঠবাড়িয়ায় বিএনপি দুই ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কয়েকশ’ বিএনপি নেতাকর্মী  অবস্থান নিয়ে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।

এ সময় পৌর বিএনপির সভাপতি কে.এম হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল আসলাম বাবুল, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান কামাল মুন্সি, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ, উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ।

মাদারীপুর সংবাদদাতা: গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মাদারীপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে পুরান বাজার রেন্ট্রিতলা শহীদ মিনারে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। মাদারীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহান্দার আলী জাহানের সভাপতিত্বে কমসূচিতে বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক জামিনুর হোসেন মিঠু, সদর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আলী মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা আলম ঢালী, পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শরীফ সাইফুল কবির অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান চুন্নু, ছাত্রদল সভাপতি মো. মোফাজ্জেল হোসেন মফা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ