শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিজিএমইএ ভবন ভাঙার বিরুদ্ধে রিভিউর শুনানি পিছিয়ে ৫ মার্চ ধার্য

 

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) বহুতল ভবন ভাঙার আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের শুনানি হবে আগামী রোববার (৫ মার্চ)। শুনানির ধার্য দিনে সরকার পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করা হলে আপিল বিভাগ ‘নট টুডে’ করে আগামী রোববার শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। 

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রিভিউ আবেদনের শুনানির জন্য ২ মার্চ দিন ধার্য করেছিলের আপিল বিভাগ। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি কার্যতালিকায় আসলে সরকার পক্ষে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সময় চান। এরপর আদালত ‘নট টুডে’ আদেশ দিয়ে রোববার পরবর্তী দিন ধার্য করেন। 

আদালতে বিজিএমইএর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম। সরকার পক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

পরে আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম বলেন, শুনানি এক দিনের জন্য মুলতবি হয়েছে। আগামী রোববার শুনানি হবে। 

গত বছর ৮ নবেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, বিজিএমইএ ভবন অবৈধ, অবিলম্বে এটি ভাঙ্গতে হবে। ভবন ভাঙ্গার যাবতীয় খরচ বিজিএমইএকেই বহন করতে হবে। বিজিএমইএ না ভাঙ্গলে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। এ জন্য যে অর্থ প্রয়োজন তা বিজিএমইএর কাছ থেকে নিতে বলা হয়েছে। বিজিএমইএর ‘লিভ টু আপিল খারিজের’পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। পরবর্তীতে একমাস পর ৮ ডিসেম্বর রিভিউ আবেদন দায়ের করে বিজিএমইএ। রিভিউ আবেদনে আপিল বিভাগের রায় স্থগিত করে বহুতল ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য তিন বছরের সময় চাওয়া হয়।

হাইকোর্ট ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল ভূমির মালিকানা স্বত্ব না থাকা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও জলাধার আইন ভঙ্গ করায় বিজিএমইএর ভবন নির্মাণ অবৈধ ঘোষণা করে। রায়ে বলা হয়, বিজিএমইএ ভবনটি সৌন্দর্যমন্ডিত হাতিরঝিল প্রকল্পে ক্যান্সারের মতো। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ ৬৯ পৃষ্ঠার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে আপিল করে বিজিএমইএ। এরপর গত বছর ২ জুন আপিল বিভাগ সংক্ষিপ্ত রায় দিয়েছিল। 

হাতিরঝিলের এ ভবনটি বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুকারক ও রফতানিকারক সমিতির প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ২০ বছর আগে বহুতলবিশিষ্ট বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা হয়। 

রাজউকের অনুমোদন ছাড়া বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ বিষয়ে ২০১০ সালের ২ অক্টোবর একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি আদালতের দৃষ্টিতে আনেন আইনজীবী ডি এইচ এম মুনিরউদ্দিন। বিষয়টি আমলে নিয়ে ওই বছরের ৩ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বঃপ্রণোদিত হয়ে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না এ প্রশ্নে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করে। ওই রুলের উপর চুড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট বিজিএমইএ ভবন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ