শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ছাত্রকে মারধরের জের ধরে বসুন্ধরায় নর্থ সাউথ শিক্ষার্থীদের অবরোধ-ভাংচুর ॥ যান চলাচল বন্ধ

গতকাল বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির একছাত্র স্থানীয়দের হামলায় আহত হওয়ার প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ ও ভাঙচুর চালায় শিক্ষার্থীরা -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিরাপত্তারক্ষীদের পিটুনিতে এক ছাত্রের আহত হওয়ার জের ধরে পার্শ¦বর্তী প্রগতি সরণিতে অবরোধসহ আবাসিক এলাকাটির ভেতরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও ভাংচুর করেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। নিরাপত্তারক্ষীদের মারধরে বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাহরিয়ার হাসনাত তপু আহত হলে রাতে একদফা বিক্ষোভের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফের বিক্ষোভ শুরু করে তার সহপাঠীরা। দুপুরে প্রগতি সরণি থেকে সরে গিয়ে আবাসিক এলাকার ভেতর বসুন্ধরা গ্রুপের কয়েকটি স্থাপনায় ভাংচুরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ শুক্রবার হতে যাওয়া এমবিএর সব ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলাল আহমেদ গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জানান, “পরিস্থিতি শান্ত করার স্বার্থে আগামীকাল শুক্রবারের ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।”

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুই ঘণ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে প্রগতি সরণি অবরোধ করে রাখার পর দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ ও ভাংচুর শুরু করে বলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান। বেলা পৌনে ৩টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের একটি ক্যাফেটেরিয়ার পাশাপাশি আবাসিক এলাকার ভেতরে থাকা বসুন্ধরা গ্রুপের কর্পোরেট কার্যালয়ে ভাংচুর করে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক সার্জেন্ট সজীব বলেন, “সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা প্রগতি সরণি অবরোধ করে রাখে ছাত্ররা। “পরে নর্থ সাউথের প্রক্টর ও পুলিশ এসে ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের এখান থেকে উঠিয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় ভেতরে ছাত্ররা এখনো বিক্ষোভ করছে।” তবে ছাত্ররা প্রগতি সরণি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর এ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ সদস্য।

বুধবার রাত ১০টার দিকে বসুন্ধরায় অ্যাপোলো গেইটে মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে আবাসিক এলাকাটির নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তপুসহ আরও দুই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের ওপরে হামলা করে। এ খবর শুনে আরও ১০/১৫ জন ছাত্র সেখানে গেলে তারাও মারধরের শিকার হন। এরপর রাত থেকেই বিক্ষোভ শুরু করেন নর্থসাউথের শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে গুলশান জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক আহমেদ বলেন, “পরিস্থিতি আমরা প্রায় শান্ত করে ফেলেছি, সব রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক। তারপরও কিছু ছাত্র বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করছে। আমরা সতর্ক আছি।”

নর্থসাউথের প্রক্টর সৈয়দ কামরুল ইসলাম বলেন, “সকালে বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা ক্ষমা চেয়েছে এবং ছাত্রদের দাবিও মেনে নিয়েছে। “তবু কিছু শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখনো বিক্ষোভ দেখাচ্ছে, আমরা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করছি।” তপু বর্তমানে অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মারধরের ঘটনায় বুধবার রাতেই বেসরকারি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভেতরে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন। এ সময় তারা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রবেশমুখে থাকা নিরাপত্তাচৌকিতে ভাঙচুর চালান। সেখান থেকে জিনিসপত্র বাইরে এনে তারা আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় তারা আশপাশের দু-একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা প্রগতি সরণিতে পৌঁছে অবরোধ শুরু করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা সেখান থেকে আবাসিক এলাকার ভেতরে চলে যান। ভেতরে গিয়ে তারা বসুন্ধরা করপোরেট কার্যালয়, গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। এ সময় পুলিশকে নীরব থাকতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বেলা সোয়া একটার দিকে শিক্ষার্থীরা আবাসিক এলাকার আফতাব উদ্দিন আহাম্মদ সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ তাদের কয়েকজনকে ডেকে সরে যাওয়ার কথা বলেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে চলে যান। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্টো দিকের একটি খাবারের দোকানে ভাঙচুর চালান। তখন পুলিশও সেখানে যায়। দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোঁড়ে ও ধাওয়া করে। শিক্ষার্থীরাও ইটপাটকেল ছোঁড়েন। বেলা আড়াইটার দিকে তারা সাংবাদিকদের ডেকে বিভিন্ন দাবিদাওয়ার কথা তুলে ধরেন।

ঘটনার বিষয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান বিন ওমর বলেন, দোষী নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ কয়েকটি দাবিতে তারা বিক্ষোভ করছিলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সৈয়দ কামরুল ইসলাম তাদের জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এ আশ্বাস পেয়ে শিক্ষার্থীরা ফিরে যান।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরিচালক (জনসংযোগ) বেলাল আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। ছাত্ররা ১০টির মতো দাবি তুলেছিল। বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ এসব দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। এ ছাড়া তারা আহত ওই ছাত্রের চিকিৎসার খরচ বহন করেছে। বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ছাত্রকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ ও আগামীকালের ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ভাটারা থানার ওসি নূরুল মোত্তাকিন বলেন, বিষয়টির সমাধান করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেলা ২টার পর ওই এলাকায় র‌্যাব সদস্যরা অবস্থান নেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ