বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

এক নারীর জামিন ও দু’জনের মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ

 

স্টাফ রিপোর্টার : পৃথক চার মামলায় অর্ধযুগের বেশি সময় কারাগারে বন্দী চার নারীর মধ্যে একজনকে জামিন এবং বাকি দুজনের মামলার বিচার তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া আরো এক নারী জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

জামিন পাওয়া নারী হলেন- সুমী আক্তার। শাহনাজ বেগম ও রাজিয়া সুলতানার মামলার বিচার তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না হলে তারা জামিন আবেদন করলে তা বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। রানী ওরফে নুপুরের জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ হয়েছে।

বিনা বিচারে ৬ বছরেরও বেশী সময় ধরে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে সুমী আক্তার, শাহনাজ বেগম, রাজিয়া সুলতানা ও রানী ওরফে নুপুরের আটক থাকার বিষয়টি আদালতের নজরে আদান হলে গত ৩০ নবেম্বর হাইকোর্টে কেন তাদের জামিন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। তখন বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য ও আইনজীবী আইনুন্নাহার সিদ্দিকা। পাশাপাশি ১৬ জানুয়ারি তাদের আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দেন। মামলার নথিও তলব করা হয়। পরবর্তীতে ১৬ জানুয়ারি এই চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিনের ধরাবাহিকতায় গতকাল আদালত ওই আদেশ দিয়েছেন। 

আইনজীবী আইনুন্নাহার সিদ্দিকা বলেন, রানী ওরফে নুপুরের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরণ ও গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত তার জামিনের রুল খারিজ করে দিয়েছেন। তার মামলায় বিচারিক আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

এদের মধ্যে সুমী আক্তার ২০০৮ সালে রাজধানীর শ্যামপুর থানায় একটি হত্যা মামলার আটক হন। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার ধর্মগঞ্জে। তিনি ২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন। ঢাকার মহানগর অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতে বিচারাধীন এই মামলায় তাকে ৫০ বার হাজির করা হয়। 

শাহনাজ বেগম নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ইলমদি গ্রামের দোহার থানায় ২০০৮ সালে করা একটি হত্যা মামলায় একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে কারাগারে আছেন। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ অষ্টম আদালতে বিচারাধীন। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭৬ বার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

২০০৯ সালে তুরাগ থানায় করা এক হত্যা মামলায় একই বছরের ২১ মে থেকে রাজিয়া সুলতানা কারাগারে আছেন। গাজীপুরের টঙ্গী থানার বেদেবহর এলাকার তার বাড়ি। ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতে বিচারাধীন ওই মামলায় ৬০ বার আদালতে হাজির করা হয়।রানী ওরফে নূপুরের বাড়ি ময়মনসিংহে। ২০০৯ সালে রমনা থানায় করা এক হত্যা মামলায় ওই বছরের ২১ নবেম্বর থেকে কারাগারে আছেন। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৮-এ থাকা এই মামলায় তাকে ৬৫ বার আদালতে হাজির করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ