বুধবার ০৩ জুন ২০২০
Online Edition

খুলনার একমাত্র কলেজটির অধিভুক্তি বাতিল করেছে খুবি

খুলনা অফিস : শিক্ষার মান বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী বা সমপর্যায়ের না হওয়ায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) অধিভুক্ত একমাত্র কেসিসি উইমেন্স কলেজের অধিভুক্তি বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২০১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এ কলেজে আর কোন নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো যাবে না। তবে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা প্রচলিত নিয়মে তাদের ডিগ্রি সমাপ্ত করতে পারবে। আত্মপক্ষ সমর্থন বা মানোন্নয়নের আরও সময় না দিয়ে এধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষ অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন অধ্যক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত হয়ে ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে খুলনা সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত কেসিসি উইমেন্স কলেজে অনার্স কোর্স চালু করা হয়। ফুড এন্ড নিউট্রিশন, চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট এন্ড ফ্যামিলি রিলেশন ও ফ্যাশন ডিজাইনসহ মোট তিন বিষয়ে অনার্স চালু করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সেই থেকে খুবি অধিভুক্ত হয়ে মোট ১৫টি ব্যাচ বের হয়েছে এ কলেজ থেকে। এরই মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে যে চলতি শিক্ষাবর্ষের পর থেকে কলেজটিকে আর তাদের অধিভুক্ত রাখা হবে না। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫৫তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভার ৭৮ নং সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘খুবির ১৪৯ তম সভার ২৯ নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক কেসিসি উইমেন্স কলেজে একাডেমিক কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে গঠিত কমিটির দাখিলকৃত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কলেজটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থেকে বাতিল করার জন্য সুপারিশ করা হয়। তবে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা প্রচলিত নিয়মে তাদের ডিগ্রি সমাপ্ত করতে পারবে। একাডেমিক কাউন্সিলের উপর্যুক্ত সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটের ১৮৯ তম সভায় অনুমোদন দেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করে দেয়ার কারণ জানতে চাইলে খুবি’র ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলেন ‘কলেজটির শিক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষক নিয়োগ ও নিয়োগ নীতিমালা খুবির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়াও শিক্ষার্থী ভর্তি এবং পাঠদান পদ্ধতিও খুবির সাথে অনেক ব্যবধান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট দেয়া হচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের। অথচ তাদের বাইরে পারফরমেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো হচ্ছে না। শিক্ষা পদ্ধতি, প্রাকটিক্যাল ক্লাসসহ অনুষঙ্গিক বিষয়াবলি খুবি শিক্ষার্থীদের মতো মানসম্পন্ন না হওয়ার কারণে খুবির মান ক্ষুণœ হচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে কলেজটির ত্রুটিগুলো সংশোধনের বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছি। তবে তারা সেই মান অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে অধিভুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। 

তিনি আরও জানান, কলেজটিতে মানসম্পন্ন ল্যাব নেই, এমন তিন সাবজেক্ট কলেজটিতে রাখা হয়েছে যেগুলো খুবিতেও তার সাথে সামাঞ্জস্য কোনো বিভাগও নেই। কারিকুলামও আপডেট নয়। ফলে কলেজে মানসম্মত শিক্ষাদান আমাদের প্রত্যাশিত পর্যায়ে হচ্ছে না। খুবির বিষয়গুলো ইংরেজি মাধ্যম, কিন্তু কলেজটিতে পড়ানো হয় বাংলা মাধ্যমে। ভর্তির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ন্যূনতম যে জিপিএ চাওয়া হয় এ কলেজের জিপিএ তার চেয়ে অনেক কম। ফলে শিক্ষার্থীরাও নিজেদেরকে খুবির শিক্ষার্থীদের সমপর্যায় করে গড়ে তুলতে পারছে না। সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় এনে সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের বা আরও সময়-সুযোগ না দিয়ে খুবি কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে দাবি করে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, ‘অনার্সের সাবজেক্ট প্রতি আমরা ৪জন করে শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। ফুড এন্ড নিউট্রিশন ও ফ্যাশন ডিজাইন বিষয়ে বড় ল্যাব তৈরি করেছি। গভর্নিং বডির দুই জন সদস্য খুবির প্রতিনিধি, প্রতি টার্ম (৬ মাসে) ২০ জন খ-কালীন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানো হয়, সিলেবাস প্রণয়ন, প্রশ্ন তৈরি, ভর্তি কমিটিতে খুবির প্রতিনিধি রাখা, শিক্ষার্থীদের খাতা দেখানোসহ সার্বিক কাজে খুবির অনুমোদন নেয়া হয়। এরপরও যদি কোর্স চালানো অথবা অন্য কোন কাজে ভুল হয়ে থাকে তবে সেটা আমাদের আগে জানালে বা নোটিশ করলে আমরা সংশোধন করতাম। খুবির অধিভুক্তি থেকে বাতিল করার ফলে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। কি করব বুঝে উঠতে পারছি না’।

এদিকে খুবি থেকে বের করে দেয়ার বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে নারাজ কলেজটির সভাপতি ও কেসিসি’র মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিঠি পেয়েছি। পরিচলনা পর্ষদ নিয়ে বসব। এখন কোন মন্তব্য করব না’।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ