শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

বাগমারায় আলুর ফলন বিপর্যয় কৃষকরা দিশেহারা

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় প্রধান অর্থকরী ফসল আলুর ফলন বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ বরেন্দ্র এলাকার অধিকাংশ মাঠে আলু উঠানোর এখন উপযুক্ত সময় হওয়ায় আলুচাষিরা আলু উত্তোলনের ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে এবারে বৈরী আবহওয়া ও নি¤œমানের আলু বীজ ও ভেজাল কীটনাশকে আলুর গাছ পুষ্ট না হতে গাছ মরে যাওয়ায় আলুর ফলন বিপর্যয়ে এলাকার কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাগমারা ও তার পার্শ¦বর্তী এলাকায় আলু চাষের মাটি উপযোগী। গত বছর উপজেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। গত বছর আলুর ভালো ফলন ও দাম পেয়ে বেশী লাভের আসায় এবারে অধিক আলু চাষে কৃষকরা ঝুঁকে। অগ্রহায়ণ মাসে আলু বীজ রোপণের পর বিভিন্ন পর্যায়ে সার কীটনাশক প্রয়োগ ও সেচ দেওয়ার পর আলু গাছগুলো তরতাজা বেড়ে বেড়ে উঠে। আলু গাছে মাঠ ভরে ঊঠে মাত্র ২০/২৫ দিন পরে আলু উত্তোলন শুরু হবার কথা। এরই মধ্যে মাঘ মাসের মাঝে শুরু হয় ঘন কুয়াশা আর শৈত্য প্রবাহ। শেষ পর্যায়ে গাছে লেট ব্রাইটের আক্রমণে গাছে পচন দেখা দেয়। কৃষকরা লেট ব্রাইটের আক্রমণ থেকে আলু গাছকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ মত ওষুধ প্রয়োগ ছাড়াও বিভিন্ন কীটনাশক কোম্পানীর স্থানীয় এজেন্ট ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের পরামর্শ মোতাবেক বিভিন্ন ঔষধ প্রয়োগ করে কিছু কৃষকদের আলুর গাছ রক্ষা হলেও অধিকাংশ আলুচাষির ক্ষেত নষ্ট হয়ে পড়ে। এতে করে আলুর মারাত্মক ফলন বিপর্য ঘটে। বালানগর, গোপালপুর, বালিয়া, মচমইল, নন্দনপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আলুর গাছের পাতা পচনের সাথে আলুর গাছের গোড়া ও ডাল পালা পচে নষ্ট হয়ে পড়ে। অপরিপাক্ব আলুর গাছে অপেক্ষাকৃত কম আলু ও আকারে ছোট ফল হয়েছে। এই অবস্থায় কৃষকদের আলুর অর্ধেকেরও বেশি ফলন কমে। এছাড়া অনেকে ব্লেসিং কোম্পানীর ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করে সর্বস্ব মুলধন হারিয়ে ফেলেছেন। 

বালানগর গ্রামের আলুচাষি আলতাফ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, তিনি এবার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ডায়মন্ড ও এষ্টোরিকস জাতের আলু চাষ করেছেন। সব কিছু মিলে তার প্রায় ৮০/৯০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। আলুর গাছগুলো চমৎকার ভাবে বেড়ে উঠে। দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। হঠাৎ তিনি লক্ষ করলেন আলুর গাছের পাতা পচা শুরু হয়। গোটা জমিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই পচন। তার মত আশপাশের জমির মালিকদের একই অবস্থা। তিনি অন্যান্য কৃষকদের সাথে পরামর্শ করে তিনি জমিতে করমিল সহ দু’একটি ঔষধ  প্রয়োগ করে কোনই সুফল পাননি। এতে তার জমিতে অর্ধেকের কম আলুর ফলন হয়েছে। প্রায় এই ভাবে বলেন গোপালপুর গ্রামের আলুচাষি মোজাম্মেল হক, আব্দুর মালেকসহ কয়েকজন আলুচাষি জানান, তাদের আলুর গাছের পাতা পচনে আলুর ফলন হয়নি। এত করি বিঘা প্রতি ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা লোকশান গুণতে হচ্ছে। যেখানে তারা বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ১২০ মণ হারে আলুর উৎপাদন আশা চিল সেখানে ৩০/ ৪০ মণ হারে আলু উঠছে। শ্রমিকের মুজরী, সার কীটনাশক খরচে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে জানান।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজিবুর রহমান জানান, আলু চাষাবাদের শুরুতে অতি মাত্রায় ইউরিয়া সারের ব্যবহার ও ঘনকুয়াশাসহ আবহাওয়াগত কারণে এবারে আলু ক্ষেতে লেট ব্রাইট রোগের আক্রমণ হয়। এছাড়া বেলসিং কোম্পানীর ছত্রাকনাশক, নিম্নমানের বীজ ও ভেজাল ছত্রাকনাশক স্প্রে করে অনেক চাষি ক্ষতির কথা তিনি স্বীকার করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ