বুধবার ০৩ জুন ২০২০
Online Edition

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খুলনা টেক্সটাইল মিলস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বরখাস্ত

খুলনা অফিস : অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খুলনা টেক্সটাইল মিলস হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সেলিনা বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্কুলের সভাপতি মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে বরখাস্তাদেশ দেয়া হয়। অভিযোগ তদন্তে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে গঠিত কমিটিকে। গঠিত কমিটির সদস্যরা হলেন-আহ্বায়ক বয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এম এ ওহাব বুলবুল, সদস্য সচিব খুলনা টেক্সটাইল মিলস হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক কামরুল ইসলাম, সদস্য মো.আকবর উদ্দিন বাবু মোল্লা ও মো.শাহ আলম।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কেটিএম এইচএস প্রশা-৩/২০১৭/১৬৭ নং স্মারকের সাময়িক বরখাস্তাদেশ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে,  সেলিনা বেগম গত বছর ১০ জুন বাবু মোল্লার কাছে শিক্ষকদের রক্ষিত ১৮ হাজার টাকা, ১০ জুলাই নীলিমা পারভীনের নিকট থেকে ১০ হাজার টাকা, ৩১ আগস্ট বদরুজ্জামান ও নীলিমার নিকট থেকে ১৩ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। গ্রহণকৃত টাকা ব্যাংক বা স্কুল ফান্ডে রশিদের মাধ্যমে জমা করেন নাই যা দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়াও তিনি স্বীকার করেছেন সাবেক প্রধান শিক্ষকের স্ত্রীর কাছ থেকে ৪ কিস্তিতে ১৬ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু আয়-ব্যয় হিসাবে ২৬ নবেম্বর ৯ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া চলতি বছর ৯ ফেব্রুয়ারি স্কুল কমিটির সদস্যদের সামনে ৪৩ হাজার টাকা গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন। এতে প্রমাণিত হয়, তিনি ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এছাড়াও ২০১৬ সালের মার্চে স্কুলের প্রায় দুই হাজার ফুট ছাদ ঢালাই দিয়েছেন যেখানে রড, বালু,  খোয়া, সিমেন্ট শ্রমিক মজুরি কয়েক লাখ টাকা খরচ করেছেন। এসব খরচের হিসেবে কোন স্বচ্ছতা না থাকা, স্কুল ফান্ডে কোন টাকা জমা না করা ও ব্যাংকে জমা না দেখানোসহ বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। এছাড়াও স্কুলের শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি বাবদ পাঁচ টাকা হারে আদায় করে শিক্ষা অফিসের কাজে খরচ ও শিক্ষার্থীদের বেতন ব্যাংকের ও জমা না করে স্বেচ্ছাচারিভাবে খরচ করার গুরুতর অভিযোগ আনা হয় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় নির্বাচিত প্রতিনিধি মো. রবিউল ইসলামের নিকট থেকে তিন লাখ টাকা নিয়োগ বাবদ দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে তাকে নিয়োগ দেয়া যাবে না বলেও জানিয়ে দেন। যে কারণে এখনও পর্যন্ত উক্ত প্রার্থীকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়নি বলে অভিযোগে জানা গেছে। এ ব্যাপারে সাময়িক বরখাস্তকৃত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সেলিনা বেগম জানান, যে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তা সত্য নয়। বরং স্কুলের ছাদ দেয়ার জন্য আমি ৩৬ হাজার টাকা দিয়েছি। এরমধ্যে ২৭ হাজার টাকা স্কুলের নিকট পাওনা রয়েছে।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ওনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার সবগুলোর প্রমাণ রয়েছে। যে কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট না দেয়া পর্যন্ত তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী তিনি এসময় ৫০ শতাংশ হারে বেতন-ভাতা পাবেন’।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ