শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

নীলফামারীতে কারাগারে থাকা ব্যক্তির বাড়ির মালামাল লুট আদালতে মামলা দায়ের

 

নীলফামারী সংবাদদাতা : নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের উত্তরাশশী গ্রামে একটি মামলায় কারাগারে আটক থাকা এক ব্যক্তি ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের বাড়ির প্রায় ৬ লাখ টাকার মালামাল লুট করার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। ওই মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলার সূত্র মতে,গত ২০১৬ সালের ৭ জুলাই উত্তরাশশী গ্রামের রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে একই গ্রামের বেলাল হোসেন,তার পুত্র মুকুল, মিজানুর,রাজু, স্ত্রী রহিমা বেগম সহ তাদের আত্মীয় স্বজনদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই দিনেই বেলাল হোসেনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করেন। বাকী আসামীরা গ্রেফতারের ভয়ে ওই দিনেই বাড়ী ঘর ছেলে পালিয়ে যান। আর এই সুযোগে ৯ জুলাই পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হবিবর রহমানের নির্দেশে  তৈয়বুর রহমান, মোক্তার হোসেন, ফজলু সহ ১২ জনের একটি দল কারাগারে আটক থাকা বেলাল হোসেন ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের বাড়ি থেকে ৩৩ ভরি স্বর্ণ, ৬টি গরু, ৬০ মন ধান, ২৪ বস্তা আলু, ১২ মন চাউল,২টি বাই সাইকেল, ১টি শ্যালো মেশিন, টেলিভিশন, ডিভিটি সহ ঘরের যাবতীয় আসবাব পত্র লুট করে নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য  প্রায় ৬ লাখ টাকা। প্রতিবেশীরা মালামাল নিয়ে যেতে বাধা দিলে তাদের হত্যা মামলায় জড়ানো সহ নানা হুমকি দেয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। 

এদিকে বেলাল হোসেন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে  জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে চলতি বছরের ৫ ফেরুয়ারি পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হবিবর রহমানকে ১ নং আসামী করে ১২ জনের বিরুদ্ধে নীলফামারী আমলী আদালত-১ একটি লুটপাটের মামলা দায়ের করেন। যার পিটিশন নং-২৪/১৭। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ২৭ এপ্রিল সদর থানাকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।  বেলাল হোসেন বলেন আমি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাড়িতে এসে লুট হওয়া মালামাল ফেরত চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান হবিবর রহমান তার যাবতীয় মালামাল ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিয়ে আজ-কাল বলে কালক্ষেপন করতে থাকেন।  এক পর্যায়ে তিনি  মালামাল নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেন।  বেলাল হোসেন বলেন তার ও তার পরিবারের ব্যবহারযোগ্য বাড়ির যাবতীয় মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তিনি অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছেন। এছাড়া আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আদালতে মামলা করার পর তারা তাকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন মামলা তুলে নেয়ার জন্য বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ