বুধবার ০৩ জুন ২০২০
Online Edition

চাইলেই বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার করা যায় না -আইজিপি

 

 

স্টাফ রিপোর্টার : স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যার অভিযোগে সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক বলেছেন, বাবুল আক্তার একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। তাকে চাইলেই গ্রেফতার করা যায় না। গতকাল সোমবার বিকালে মিরপুরের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) প্যারেড গ্রাউন্ডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এ কথা বলেন তিনি।

শহীদুল হক বলেন, ‘বাবুল আক্তারের বিষয়টি এখনও স্পষ্ট হয়নি। যেহেতু তিনি একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, তাই চাইলেই তাকে গ্রেফতার করা যায় না। মিতু হত্যার প্রধান আসামী মুসাকে গ্রেফতার করা গেলে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে। তদন্ত চলছে।’

গত বছরের ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে গুলী ও ছুরিকাঘাতে খুন হন বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। ঘটনার পর পুলিশ জানায়, জঙ্গি দমনে বাবুলের সাহসী ভূমিকার কারণে জঙ্গিরা মিতুকে খুন করে থাকতে পারে। হত্যাকাণ্ডের পরদিন অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তিকে আসামী করে মামলা করেন বাবুল আক্তার।

তবে পুলিশ সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে কয়েকজনকে গ্রেফতারের পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। অভিযোগের তীর ছুটে যায় চট্টগ্রাম থেকে এসপি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ডিএমপিতে বদলি হওয়া বাবুলের দিকে।

স্ত্রী খুন হওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকার বনশ্রীতে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন বাবুল। গত বছরের ২৪ জুন ডিবি কার্যালয়ে দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। তখন জানা যায়, বাবুল আক্তার একটি কাগজে স্বাক্ষর করেছেন। পরবর্তীতে জানা যায়, চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি।

তবে বাবুলের শ্বশুর অভিযোগ করেন, তাকে (বাবুল) জোর করে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। গত বছরের ১৪ আগস্ট বাবুল আক্তারের চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদনপত্র পাওয়ার কথা স্বীকার করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর বাবুলকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কয়েক দিন আগে বাবুল আক্তারের শ্বশুর ও শাশুড়িকে চট্টগ্রামে ডেকে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাতকারে বাবুলের বিষয়ে সন্দেহের কথা জানান তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন। রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকায় এসে বাবুলের শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন আবার।

বাবুল আক্তার বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ