বুধবার ০৩ জুন ২০২০
Online Edition

শাহজালালে যাত্রীর প্যান্টের বেল্টে সাড়ে ৩ কেজি স্বর্ণের বার

 

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীর প্যান্টের বেল্ট থেকে সাড়ে তিন কেজি ওজনের ৩০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। ওই যাত্রীর নাম মুহাম্মদ আদম আলী (৪৫)। গতকাল সোমবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কর্মকর্তারা ওই যাত্রীর প্যান্টের বেল্টে লুকানো অবস্থায় স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করেন।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মঈনুল খান জানান, গ্রেফতার আদম আলী মাসকাট থেকে আসা বিজি-০২২ ফ্লাইটের করে ডোমেস্টিক যাত্রী হিসেবে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন। আদম আলীর সিট নম্বর ৯-ই। তিনি এই স্বর্ণবারগুলো তার প্যান্টের বেল্ট বাঁধার স্থানে আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা বিশেষ ফাঁকা জায়গায় লুকিয়ে রাখেন। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী তাকে শনাক্ত করে বিমানবন্দর কাস্টমস হলে আনা হয় এবং তার প্যান্টের ভেতর থেকে স্বর্ণবারগুলো বের করা হয়। 

তিনি আরও জানান, স্বর্ণবারগুলো দশ তোলা করে প্রতিটি বারে ওজন মোট ৩.৪৯৯২ কেজি এবং এর আনুমানিক মূল্য এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা। গ্রেফতার আদম আলীর পিতা মুহাম্মদ আলীম উদ্দিন মন্ডল। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি। এ বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে এবং আটক ব্যক্তিকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এর আগে রোববার রাতে শাহজালালে মাইক্রো ওভেনের ট্রান্সফরমারে লুকানো অবস্থায় সাড়ে তিন কেজি সোনা উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেলাল হোসেন নামে এক যাত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ওই যাত্রী ওমানের রাজধানী মাসকট থেকে আসা ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমানবন্দরে নামেন। শুল্ক গোয়েন্দারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে নজরদারিতে রাখেন। কাস্টমস হলের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করে চলে যাওয়ার সময় তাকে চ্যালেঞ্জ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তার গতিবিধিতে অস্বাভাবিকতা থাকায় শুল্ক গোয়েন্দাদের সন্দেহ বাড়ে। বেলালের সঙ্গে আনা মাইক্রোওভেন খুলে ভেতরে লুকানো ট্রান্সফরমার ভেঙে ইংরেজি বর্ণ ‘ই’ আকৃতির ৬৫টি সিলভার রঙের পাত পাওয়া যায়। পাতগুলো ঘষে স্বর্ণের অস্তিত্ব অনুমান করা হয়। পরে রাজমণি জুয়েলার্সের প্রতিনিধি এনে পরীক্ষা করে স্বর্ণের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া যায়।

আটক সোনায় পারদ ও সিলভারের প্রলেপ দেওয়া ছিল। স্ক্যানার মেশিনে স্বর্ণের অস্তিত্ব বোঝা যায়নি। পরে ট্রান্সফর্মার ভেঙে স্বর্ণের পাতগুলো উদ্ধার করা হয়। এই পরিমাণ সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৭০ টাকা বলে জানানো। বেলাল হোসেনের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার দক্ষিণ তারাকুচার আমজাদ হাট এলাকায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ