মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

পানি সংকটে ৪০ লাখ মানুষ

২৭ ফেব্রুয়ারি, রয়টার্স : টানা ভারি বৃষ্টিপাতে চিলিতে ভূমিধস ও বন্যায় অন্তত চার জন মারা গেছেন এবং ১৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
গত রোববার দেশটির কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
 রোববার রাতে চিলির দুর্যোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রবল বৃষ্টিতে রাজধানী সান্তিয়াগোর নিকটবর্তী পাহাড়ি উপত্যকার নদীগুলোতে বন্যা দেখা দেয়, এতে ৩৭৩ জন লোক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে পড়েছে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। রাজধানীতে পানি সরবরাহকারী সংস্থা আগুয়াস আনদিনাস জানিয়েছে, সান্তিয়াগোর ১০ লাখেরও বেশি বাসিন্দার খাবার পানির সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে, বৃষ্টির কারণে জরুরি মেরামত কাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
টুইটারে চিলির প্রেসিডেন্ট মিশেল বাসলে বলেছেন, “জরুরি বিভাগের দলগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে কাজ করছে এবং যেখানে যেখানে সম্ভব পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।”
সান্তিয়াগোর দক্ষিণে ও’হিগিন্স অঞ্চলে পানির স্রোতের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে একটি গাড়ি ভেসে গিয়ে ১২ বছরের এক বালিকার মৃত্যু হয়।
সান্তিয়াগো থেকে উপরের দিকে অবস্থিত সান জোস দ্য মাইপো উপত্যকার বাসিন্দারা যেন নিচের দিকে নেমে যেতে পারেন সেই লক্ষ্যে জরুরি বিভাগের কর্মীরা রাস্তা থেকে বন্যায় ভেসে আসা আবর্জনা সরানোর চেষ্টা করছেন।
গত এক বছরের মধ্যে সান জোস দ্য মাইপো উপত্যকায় দ্বিতীয়বারের মতো বড়ো ধরনের বন্যা হল।
গত এপ্রিলেও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উপত্যকাটিতে দেখা দেওয়া বন্যায় একজনের মৃত্যু হয় এবং বিশ্বের অন্যতম সর্ববৃহৎ কয়েকটি তামা খনির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবে এবারের বন্যায় এখনও খনিগুলোর কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি বলে জানা গেছে। 
অন্যদিকে বন্যা ও ভূমিধসে পানি সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। খাবার পানির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা একটি নদীর স্রোত বন্ধ করে দেওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছে। পানি সংকটে পড়ে দেশের সব রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ রাখা রয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন পানি ফুঁটিয়ে পান করছে। গত সোমবার পর্যন্ত সব স্কুলও বন্ধ। কর্তৃপক্ষ জানায়, মাইপো নদীর পানি সরবরাহ বন্ধে এই সমস্যার তৈরি হয়েছে।
বন্যার পানি না কমা পর্যন্ত আমরা এই বাঁধ সরানো যাচ্ছে না। স্থানীয় গভর্নর ক্লডিও অরেগো বলেন, “আমরা ১৪ লাখ বাড়ির সুরক্ষার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমরা এখনো জানি না কখন খাবার পানি সরবরাহ করতে পারব।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ