রবিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২৩
Online Edition

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নিরাপত্তায় আসছে নতুন আইন

সংসদ রিপোর্টার : জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাঠ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনা এবং অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, জবাবদিহিতামূলক, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পন্ন, জনবান্ধব সরকারি সেবা-ব্যবস্থাপনা এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের আইনসম্মত নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করতে ‘সরকারি কর্মচারী আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আইনের খসড়া ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভা বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন লাভ করেছে।
গতকাল রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য রহিম উল্লার প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
জনপ্রশাসনমন্ত্রী জানান, ‘রূপকল্প-২০২১’ এর আওতায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় স্বীয় অধিক্ষেত্রে উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিতে সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ, অধিদফতর/সংস্থা, দফতর, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে ইনোভেশন টিম গঠন করা হয়েছে। ইনোভেশন টিমগুলোর নাগরিক সেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
সৈয়দ আশরাফ জানান, বর্তমান সরকারের আমলে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসে সর্বমোট ১৯ হাজার ৭৫৩ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৩৫তম, ৩৬তম ও ৩৭তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ৫ হাজার ৫৩৪ জন কর্মকর্তা নিয়োগের কার্যক্রম চলমান আছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।
তিনি জানান, মাঠ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে এ-টু-আই কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে সকল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ডরুম, পাসপোর্ট দফতরসহ বিভিন্ন শাখায় ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। প্রতিটি জেলা প্রশাসকের দফতরে একটি ফ্রন্ট ডেস্ক চালু করা হয়েছে। সেখানে এসে সকল আবেদনকারী ওয়ান স্টপ সার্ভিসের সুযোগ পাচ্ছেন।
মন্ত্রী আরও জানান, জেলা পর্যায়ের কাজের নিবিড় তত্ত্বাবধান, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, স্বচ্ছতা আনা এবং জেলার সঙ্গে কানেক্টিভিটি বাড়াতে সকল জেলায় তথ্য বাতায়ন চালু হয়েছে। প্রশাসনকে গতিশীল ও যুগোপযোগী করতে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৪ লাখ ৬০ হাজার ৬৯৮টি পদ সৃজন করা হয়েছে।
জনপ্রশাসনমন্ত্রী জানান, সরকারি কর্মচারীদের সৃজনশীল কার্যক্রমকে উৎসাহ দেওয়া ও সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে অধিকতর গতিশীল করতে ‘জনপ্রশাসন পদক’ প্রবর্তন করা হয়েছে। দ্রুত নাগরিক সেবা দিতে সিটিজেন চার্টার প্রণয়ন করে তা অনুসরণ করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ