সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

আমতলীর হতদরিদ্র রাশিদার দুঃখের সংসারে সুখের ছোঁয়া

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা:  বরগুনার  আমতলী উপজেলার ঘোপখালী গ্রামের এক হত দরিদ্র নারী। রাশিদা বাবা মার পরিবারে থেকে জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকা এক দৃষ্টান্ত। এখন তার বয়স ৪০। যখন তার বয়স মাত্র ১৫ বেড়ে ওঠা কিশোরী ঠিক তখনই পারিবারিক দৈনতার কারণে তাকে বসতে হয় বিয়ের পিঁড়িতে। তার বাবা হলেন খেটে খাওয়া একজন মানুষ দিন কাটে  দিন মজুরের কাজ করে। তার স্বামী রফিকও জীবিকা নির্বাহ করে দিন মজুরের কাজের মাধ্যমে। স্বামীর সাথে সংসার জীবনে তার ঘরে জন্ন নেয় ০৩ সন্তান । এর মধ্যে ২টি কন্যাসন্তান ও একটি পুত্র। এখন তার দুই কন্যাসন্তানের বয়স যথাক্রমে ১৯ ও ১৬ বছর। ১৬ বছর বয়সী কন্যা মাসুমা প্রতিবন্ধী। একমাত্র ছেলে জলিল বয়স ১৫ নবম শ্রেনীতে পড়ে। ছেলে মেয়েদের নিয়ে সংসার পরিচালনা করার ক্ষেত্রে তাকে হিমসিম খেতে হয়। এমতাবস্থায় সে ভাবতে শুরু করে আয়ের পথ খুঁজে নেয়া। দারিদ্রতা যেন তার পিছু ছাড়ছে না। অভাবের সংসারে রাশিদা অন্যের বাড়িতে কাজ করে ছেলে মেয়েদের মানুষ  করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
একসময় রাশিদা মন স্থির করে ঘোপখালীতে এনএসএস র্কিল প্রকল্পের মোহনা গন সংগঠনের সদস্য হবে। তার সেই ইচ্ছা সফল হয়। ২০১২ সালে সিবিওর সদস্য হওয়ার পর সে নিয়মিত সভায় অংশ নেয়। একসময় তার মধ্যে গড়ে ওঠে আত্মনির্ভশীলতার মনোভাব। ২০১৩ সালে রি-কল প্রকল্পের মাধ্যমে সামান্য একটি সহায়তা পান । এটি বকনা বাছুর দাম মাত্র ১২,০০০/- টাকা। এই গরটি পালনের মাধ্যমে শুরু হয় তার অর্থনৈতিক জীবনের যাত্রা।  রাশিদা বেগম নিয়মিত এর পরিচর্যা করতে থাকেন। ধীরে ধীরে তার গরুটি বড় হতে থাকে। একসময় তার স্বামী ও পুত্রও এ কাজে তাকে সহযোগিতা করতে শুরু করে। এখন তিন বছর শেষে তার সম্পদ ০৩টি গাভী। তিনটি গরুর মূল্য দড়িয়েছে ৬০-৭০ হাজার টাকা। দুধ বিক্রি করে নিয়মিত আয়ের পথ তৈরি হয়েছে। অর্থের যোগান সম্ভব হয়েছে। রাশিদা যেন দিনের আলো ফিরে পেয়েছে। রাশিদা তার প্রতিবন্ধী মেয়ের পরিচর্যাসহ ছেলের লেখা পড়ার কাজে আর্থিক সাপোর্ট দিতে পারছেন। কিছুটা হলেও সে এখন স্বস্তি ফিরে পেয়েছে। নিয়মিত আয়ের টাকা দিয়ে সংসারও পরিচালনা করছে। এবছর তার ভাংগা ঘরটিও সংস্কার করছেন।
রাশিদা সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিওর প্রশিক্ষনেও অংশগ্রহণ করে নিজেকে দক্ষ করে নেন। তার মতে দুগ্ধ উৎপাদন ব্যাপক হলে অর্থনৈতিক সফলতা অসম্ভব নয়। রাশিদার এখন স্বপ্ন মেয়েকে শিক্ষিত করে ভালো ছেলের সাথে বিয়ে দিবে। তাদের ভবিষ্যত হবে উজ্জ্বল।
রাশিদা বেগমের কথায়, “এনএস রি-কল প্রকল্পের সহায়তা তার জীবনকে অন্ধকারের হাতছানি হতে আলোর দিশা ফিরিয়ে দিয়েছে।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ