সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

গফরগাঁওয়ে সার সঙ্কট উত্তোলন আছে সরবরাহ নেই

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় সার সঙ্কট ও উচ্চমূল্যের কারণে সার কিনতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। সারের অভাবে কাক্সিক্ষত উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় এলাকার কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। উপজেলা কৃষি অফিস সার সঙ্কটের বিষয়টি স্বীকার না করলেও কৃষকেরা উচ্চমূল্যে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ের সাব ডিলাররা উচ্চমূল্যে সার বিক্রি করলেও উপজেলা কৃষি বিভাগ কর্মকর্তারা নিশ্চুপ রয়েছেন। বিভিন্ন বাজারে বিসিআইসি ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সামান্য সার পাওয়া গেলেও অসহায় কৃষকেরা উচ্চমূল্যে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মওসুমে সারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে চার হাজার ৫০ মেট্রিক টন। এরই মধ্যে গত জানুয়ারি মাসে এক হাজার ৮৫৯ এবং ফেব্রুয়ারি মাসে এক হাজার ৮২০ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ পায় উপজেলা কৃষি অফিস। বরাদ্দের পুরো সারই উত্তোলন করেছেন উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের মোট ১৬ জন সার ডিলার। গত দুই মাসে মোট তিন হাজার ৬৭৯ সার উত্তোলন হলেও বাজারে সে অনুপাতে সারের সরবরাহ নেই। এলাকার কৃষকেরা অভিযোগ করে জানান, সার ডিলাররা অধিক মুনাফা লাভের আশায় স্থানীয় কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশ করে বরাদ্দের বেশির ভাগ সারই অন্যত্র কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। যার ফলে গফরগাঁওয়ে হাটবাজারে বা নির্ধারিত দোকানগুলোতে সার পাওয়া যাচ্ছে না। বোরো আবাদের এই ভরা মওসুমে সারের ব্যবসায় থেকে বঞ্চিত হয়ে এলাকার সাব-ডিলারদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
চরআলগী ইউনিয়নের কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, কালোবাজারির কারণে সারের এই কৃত্রিম সঙ্কট অব্যাহত থাকলে এবারের বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হবে। কৃষক আবদুল জলিল জানান, তিনি বহু কষ্টে একটি বাজারে সারের সন্ধান পেলেও তাকে প্রতি বস্তা ৭৫০ টাকার স্থলে এক হাজার ১০০ টাকায় কিনতে হয়েছে সার। অতিরিক্ত মূল্য গুণেও তিনি চাহিদা অনুযায়ী সার কিনতে পারেননি। কৃষক সিরাজ উদ্দিন বলেন, সার দেয়ার জন্য ক্ষেত নিরানি দিয়ে সেচ দিয়েছিলেন। কিন্তু উচ্চমূল্যের কারণে সার সংগ্রহ করতে না পারায় বোরো ক্ষেত শুকিয়ে গেছে। আবার সেচের সময় এলেও এখনো সার কিনতে পারছেন না। সারের অভাবে বোরো ধান গাছ বৃ্িদ্ধ পাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাব-ডিলার আক্ষেপ করে বলেন, ভাই সার নিয়ে লেখালেখি করুন। কৃষি অফিস আমাদের কথা শুনে না। ডিলাররাও আমাদেরকে পাত্তা দেয় না। অগ্রিম টাকা জমা দিয়েও ডিলাররে কাছে সার পাওয়া যাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার অন্য একজন সাব-ডিলার জানান, উপজেলার পাগলা থানার প্রত্যন্ত নিগুয়ারি ইউনিয়নের সার পাশের গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের বরমী বাজারে, টাঙ্গাব ইউনিয়নের সার পাশের কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া এবং গাজীপুর জেলার কাপাসিয়ায় ও পাইথল ইউনিয়নের সার ভালুকা উপজেলার রাজৈসহ বিভিন্ন বাজারে পাচার হচ্ছে। সারের এই উচ্চমূল্যের কারণে বর্গাচাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে সাব ডিলাররা জানান। চরমছলন্দ গ্রামের কৃষক রশিদ জানান, চরমছলন্দ কাচারী পাড়ার খুচরা সার ব্যবসায়ীরা এক হাজার ১০০ টাকায় সারের বস্তা বিক্রি করছে।
এ ব্যাপারে গফরগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম ফারহানা হোসেন বলেন, আমাদের সারের কোনো সঙ্কট নেই। যারা উচ্চমূল্যে সার বিক্রি করেন তাদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রির জন্য সার মনিটরিং কমিটি চিঠি দিয়েছে।
গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত শংকর কুন্ডু বলেন, সার ডিলার বা সাব ডিলাররা অধিক মূল্যে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ