সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

রংপুরে টোল বৃদ্ধি নিয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী ও সিটি করপোরেশন মুখোমুখি

রংপুর অফিস: টোল বৃদ্ধি করা হলেও আড়তের কোন উন্নয়ন না করায় রংপুর মৎস ব্যবসায়ী ও সিটি করপোরেশন পরস্পরমুখী অবস্থানে রয়েছে।
সিটি করপোরেশনের টোল কমানো, মৎস্য আড়ৎ সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন, সৌচাগার পয়ঃপ্রণালী নির্মাণ, বিদ্যুৎসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন সহ বিভিন্ন দাবিতে গত সোমবার মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছে ব্যবসায়ীরা। এ সময় দুই ঘটনায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
গত সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মৎস্য আড়ত এলাকায় রংপুপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে মৎস্য ব্যবসায়ীরা। অবরোধের পাশাপাশি তারা মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সমিতির সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজু, প্রচার সম্পাদক খন্দকার মিল্টন প্রমুখ। এ সময় বক্তারা বলেন, রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মৎস্য আড়তটি বিগত ১৯৯৭ইং সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে গত ২০ (বিশ) বছরে বিভিন্ন চড়াই উৎড়াই পার হয়ে আজ উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ আড়তে পরিণত হয়েছে। আমরা অত্র আড়তে শ্রম, মেধা, অর্থ বিনিয়োগ করে গোটা রংপুর বিভাগের মৎস্য চাহিদা পূরণ করে আমাদের জীবিকা নির্বাহ করি। বিগত দিনে অত্র আড়তে পৌরসভা কর্তৃক টোল ধার্য ছিল প্রতি ক্রেতা ৫ (পাঁচ) টাকা ও সাইকেল গ্যারেজ করলে প্রতি সাইকেল ৫ (পাঁচ) টাকা। কিন্তু রংপুর সিটি কর্পোরেশন হওয়ার পর সরকারি কোন নিয়ম-নীতির কোনো তোয়াক্কা না করে টোলের মাত্রা বহুগুণ ও অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি করেছে। ক্রেতা, বিক্রেতা ও আড়তদারদের নিকট থেকে মোট ৩ বার টোল আদায় করা হচ্ছে। আড়তদারের গদিঘর এবং কোন অবকাঠামো না থাকার পরেও ঘর ভাড়া দিতে হয় দৈনিক ৫০ টাকা করে।
বক্তারা বলেন, এত টাকা টোল আদায়ের পরেও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক অদ্যাবধি এখানে কোনো শৌচাগার, রাত যাপন করার ঘর, মাছ বিক্রয় করার সেড, আড়তদারদের গদিঘর, মাছ সংরক্ষণের গোলা, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানীয় জল কিছুই করা হয়নি।
অতিরিক্ত টোল আদায় ও অবকাঠামোর অপ্রতুলতার কারণে অত্র আড়তে বেচা-কেনা বর্তমানে শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এর ফলে অত্র আড়ত সংশ্লিষ্ট আড়তদার, মহাজন, পাইকার, আড়ত কর্মচারী ও মৎস্য আড়ত সংশ্লিষ্ট পেশাজীবি ও তাদের ওপর নির্ভরশীল পোষ্যগণ জীবিকা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা অবিলম্বে এসব দাবি আদায় করার দাবি জানান।
এদিকে অবরোধ ও মানববন্ধন চলাকালে এরশাদের গাড়িবহরও অবরোধে আটকাপড়ে যায়। অবরোধকারীরা এরশাদের গাড়িবহর ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে গাড়ি থেকে নেমে এরশাদ তাদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ