মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

বালিয়াকান্দি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ডাক্তার সঙ্কটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত

বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা: উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাত ইউনিয়নের আড়াই লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি ৫০ শয্যা হাসপাতাল একটি, চারটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, তিনটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ও ২৩টি কমিউনিটি কিনিক নির্মাণ করেছে। আগের জনসংখ্যা অনুযায়ী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একজন, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার একজন, মেডিক্যাল অফিসার দুইজন, কনসালট্যান্ট সার্জারি একজন, মেডিসিন একজন, গাইনি একজন, এনেসথেশিয়া একজন ও ডেন্টাল সার্জন একজনসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন করে মোট ১৬ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও বর্তমানে ৫০ শয্যা হাসপাতালে একজন মেডিক্যাল অফিসার ও একজন ডেন্টাল সার্জন দিয়ে চলছে। ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত অপারেশন থিয়েটার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে মেশিনটিও। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপে মধ্যে গাইনি ডাক্তারসহ দক্ষ ডাক্তারদের পোস্টিং হলেও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে অনেকেই যোগদান না করে তাদের পছন্দমতো স্থানে চলে যান। আবার কেউ যোগদান করে যোগদানের দিন ও বিদায়ের দিন ছাড়া তাদের সাক্ষাৎ মেলে না স্বয়ং হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীদের। ২৩টি চতুর্থ শ্রেণীর পদের ১১টি পদ শূন্য। ব্যয়ভার বহন করতে না পারায় ৪০ কেভির জেনারেটরটি চালু করার অভাবে গোডাউনে পড়ে আছে। ২০১১ সালে ২৫ মার্চ ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা হাসপাতালের উদ্বোধন করা হলে প্রশাসনিক অনুমতিসহ কিছু উপকরণও বরাদ্দ পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও কর্মচারী নিয়োগ না দেয়ায় বরাদ্দ পাওয়া মালামালগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ৩৩তম বিসিএস থেকে যেসব ডাক্তারের এখানে পোস্টিং দেয়া হয়েছিল তারা বর্তমানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে রয়েছেন। তারা এ হাসপাতালে ফিরে আসবেন এমন সম্ভাবনা কম। এ অবস্থায় হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবায় চরম দুরবস্থা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত হাসপাতালটিতে জনবল পদায়নের দাবি জানিয়েছেন।
বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সুফিয়া ইয়াসমিন জানান, আমাকে প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। মেডিক্যাল অফিসার ডা: সৌরভ সিকদার, রাজধরপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার ডা: ফারুক হোসেন ও ডেন্টাল সার্জন ডা: আবদুল মাজেদকে দিয়ে আউট ডোরে আসা রোগীদের কোনোমতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালে ডাক্তারের অভাবে চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ