শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

প্রচণ্ড চাপের মধ্যে আছে মানুষ

সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে পত্রিকান্তরে। ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয় : মাত্র পৌনে এক ভরি স্বর্ণের জন্য হত্যা করা হলো ৫ ও ৬ বছর বয়সী দু’টি শিশুকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নরসিংদীতে ৬, ৮ ও ১০ বছর বয়সী ৩ ভাইবোনকে হত্যা করলো আপন ভাই। অশান্তির জ্বালা মেটাতে অবুঝ শিশুকে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিচ্ছেন মা। একের পর এক নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটেই চলেছে সমাজে। তাই প্রশ্ন জাগে, এ জন্যই কি সমাজবদ্ধ হয়েছিল মানুষ? অথচ ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। মানুষ তো উন্নত ও মানবিক জীবনযাপনের জন্য সমাজবদ্ধ হয়েছিল। তাহলে সমাজ এই পর্যায়ে এসে পৌঁছলো কীভাবে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমরা প্রতিনিয়ত যেসব পৈশাচিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছি তা আসলে সমাজেরই প্রতিচ্ছবি। অনেক ক্ষেত্রেই নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য ও অসাম্য বিস্তার লাভ করেছে ভয়াবহ আকারে। দীর্ঘকাল ধরে আমাদের চেষ্টা-প্রচেষ্টা ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির মধ্যেই নিবদ্ধ রয়েছে। বস্তুগত উন্নতির দিকে দ্রুত ধাবমান একটি শ্রেণী। গণমাধ্যমের বদৌলতে সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র ভোগাকাক্সক্ষা। বাড়ছে বৈষম্য। নীতি-নৈতিকতা পদদলিত হচ্ছে পদে পদে। এর শিকার হচ্ছে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, প্রচণ্ড চাপের মধ্যে আছে সমাজের মানুষ। জীবন সংগ্রামের এই চাপ থেকে মুক্তির জন্য মানুষ অনেক সময় ভয়াবহ পথ বেছে নিচ্ছে।
সমাজে যখন ন্যায় থাকে না, ভারসাম্য থাকে না, সুশাসন থাকে না; তখন সমাজে শান্তিও থাকে না। এমন অবস্থায় সমাজে অস্থিরতার মাত্রা বাড়তে থাকে। অস্থির সমাজে জীবনযাপন করতে গিয়ে মানুষের শরীর ও মন সুষম থাকে না। বরং নানা চাপে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে ঘটে যায় নানা অঘটন। এমন অবস্থায় সমাজ ও রাষ্ট্রের করণীয় থাকে। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় বেড়েই চলেছে। তাই ত্রুটিপূর্ণ রাজনীতি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ধারা বন্ধে নেতা-নেত্রী, সমাজপতি ও সরকারের বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তারা কতটা এগিয়ে আসেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ