রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ভারতীয় তিন টিভি চ্যানেল চলবে

স্টাফ রিপোর্টার: অপসংস্কুতি প্রচারের জন্য দায়ী করে তিন ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার জলসা, স্টার প্লাস এবং জি বাংলা বন্ধে করা রিট খারিজের হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদনে কোনো আদেশ দেননি আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে ‘নো অর্ডার’ করেছেন। ফলে হাইকোর্টের রায় থাকলো। এতে করে তিনটি টিভি চ্যানেল বাংলাদেশে সম্প্রচারে বাধা নেই। তবে রিট আবেদনের পক্ষকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের অনুমতি দিয়েছে আদালত।
গতকাল বুধবার চেম্বার জজ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদনে ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন। গত ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রিট আবেদনকারী পক্ষ। রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া আবেদনটি করেন।
আইনজীবী এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আদালত আমাদেরকে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলেছেন। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আমরা আপিল করবো।
গত ২৯ জানুয়ারি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ তিন ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার জলসা, স্টার প্লাস এবং জি বাংলা বন্ধের রিট খারিজ করে রায় দেন। রিট খারিজের যুক্তিতে আদালত বলেন, ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক আইন ২০০৬ অনুযায়ী, যেকোনো চ্যানেল প্রচারে সরকারকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ওই আইনের ১৮ ধারা অনুযায়ী, কেউ অশ্লীল দৃশ্য প্রদর্শন ও দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যবিরোধী কোনো কিছু প্রদর্শন করলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি প্রতীকার চাইতে পারে। সরকার আবেদন গ্রহণ করে সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে পারে। এ ছাড়া টিভি চ্যানেলে প্রচারিত বিষয় নিয়ে সরকারের ১১ সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে, যারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। কিন্তু এ মামলার রিটকারী এসব চ্যানেল বন্ধে সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেননি। তাই রিটকারীর আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
আদালত বলেন, আবেদনকারী একই যুক্তি দিয়ে হাইকোর্টে ২০১৪ সালে রিট করেছিলেন। ওই রিট উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু পুনরায় রিট করার সময় আবেদনকারী নতুন কোনো যুক্তি দেখাতে পারেননি। তাই রিট আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয় মর্মে খারিজ করা হলো।
হাইকোর্টের আদেশের পর রিটের আইনজীবী বলেছিলেন, দেশের স্বার্থে ও বিদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসন বন্ধে রিট আবেদনটি করেছিলাম। আদালত আমাদের রিট খারিজ করে দিয়েছেন। এতে আমরা সংক্ষুব্ধ। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে (আপিল) যাবো।
এর আগে ২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এই রিট আবেদনের শুনানি শেষে ‘ভারতীয় এ তিন টিভি চ্যানেল বন্ধে নির্দেশ কেন দেয়া হবে না’-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। সরকারের তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়। একই বছরের ৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা শাহীন আরা লাইলি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ