রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

গুলিস্তান-শাহবাগ-মিরপুরে তিন সংস্থার উচ্ছেদ অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর মিরপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। গতকাল বুধবার দুপুরে মিরপুরের ৬নং সেক্টরে এ অভিযান শুরু হয়।
অভিযানে আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত অননুমোদিত প্লট, ভবন, ফ্ল্যাট, গেস্ট হাউজ, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, বারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও উচ্ছেদ করা হয়েছে। রাজউকের অঞ্চল-৩ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার অলিউর রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে ব্লক-এ এর ৫ নং অ্যাভেনিউ এলাকার ৯/৩ নং  হোল্ডিংয়ে আবাসিক ভবনের ২য় তলায় বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত আল ফুয়াদ কমিউনিটি সেন্টার এবং ৪১নং হোল্ডিংয়ের পার্কিংয়ের জায়গায় দস্তরখানা রেস্টুরেন্টের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
এছাড়া ভবনের পার্কিংয়ের জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত ৭টি দোকান এবং ফুটপাত ও রাস্তার উপরের ১৬টি দোকান অপসারণ করা হয়। এছাড়া ভবনের সামনের ফুটপাতের উপর নির্মিত অবৈধ ১৪টি র‌্যাম্প (গাড়ি ওঠার জন্য ঢালু স্থাপনা) ও ৯টি সিঁড়ি  অপসারণ করা হয়।
এ দিকে শাহবাগে ফুটপাত দখল করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা ছিন্নমূল ফুল ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করতে অভিযান চালায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমান।
তবে অভিযানের এক পর্যায়ে শাহবাগের ছিন্নমূল ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালাম ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন আমাদের ফুটপাতে বসতে বলেছেন, তবে আমরা যেন রাস্তায় না আসি। তাই আমরা ফুটপাতে ব্যবসা করছি। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেয়র সাঈদ খোকনকে ফোন দিলে তিনি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যেতে বলেন।
আবুল কালাম বলেন, লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন এখানে ফুল নিতে আসে। এ ধরনের অভিযান আমাদের পেটে লাথি মারা ছাড়া আর কিছুই না। মেয়র আমাদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন। পুনর্বাসন করা হলে আমরা এখান থেকে চলে যাবো।
এর আগে সকাল থেকে পথচারীদের ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারে সচেতন করতে শাহবাগে বসেছে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় সড়কে ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও ২ পথচারী নিচ দিয়ে রাস্তা পারাপার করায় তাদের ৯০ টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে পথচারীরা অভিযোগ করেন, ঢাকার বেশিরভাগ ওভারব্রিজ ও ফুটপাথ চলাচলের উপযোগী নয়। তাই তারা ওভারব্রিজে ওঠেন না। এর প্রেক্ষিতেই শাহবাগের ফুটপাত ও ওভারব্রিজ দখলমুক্ত করার নতুন অভিযান পরিচালনা করেন ম্যাজিস্ট্রেট।
এ ছাড়া গুলিস্তান ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ফুটপাত হকারমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। গতকাল দুপুরে ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ শুরু হয়। সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানের গাড়িবহর দেখে অধিকাংশ হকারই টুকরিতে রাখা মালামাল নিয়ে সরে পড়েন।
উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরদার। এ সময় ডিএসসিসির কর্মকর্তারা, পুলিশ-আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরদার বলেন, ‘ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নির্দেশনা উপেক্ষা করে যেসব হকার দোকান নিয়ে বসেছিলেন, তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।’
গুলিস্তান ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালে হকাররা ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডিএসসিসি উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। এ সময় হকাররা সরে গেলে তাদের রেখে যাওয়া চৌকি, বাক্স ও বিভিন্ন আসবাব বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।
হকারদের পুনর্বাসনের বিষয় নিয়ে গত ১১ জানুয়ারি নগর ভবনের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও হকার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মেয়র। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ১৫ জানুয়ারি থেকে কর্মদিবসে গুলিস্তান, মতিঝিল ও এর আশপাশ এলাকার ফুটপাতে দিনের বেলা কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে অফিস শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে তারা গুলিস্তান-মতিঝিল এলাকায় বসতে পারবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ