রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নরসিংদীতে ভাইয়ের হাতে তিন ভাই-বোন খুন ॥ অপর ভাই আহত

নরসিংদী সংবাদদাতা : নরসিংদীতে রুবেল মিয়া নামে এক বড় ভাইয়ের হাতে একই পরিবারের তিন ভাই-বোন খুন হয়েছেন এবং অপর সহোদর মুফতি আতিকুর রহমান (২৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার গভীর রাতে সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের পূর্ব পাড়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ওই বাড়ির আবু কালাম মিয়ার কন্যা মরিয়ম (৬), মার্জিয়া (৩) ও ছেলে ইয়াছিন (৯)। এ ঘটনায় নিহতদের অপর বড় ভাই আতিকুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, গত রাত ১০টার দিকে রুবেল মিয়া তার ঘুমন্ত ছোট ভাই ইয়াসিন, ছোট বোন মরিয়ম ও মার্জিয়াকে গলাটিপে হত্যা করে ঘরে কাঁথা দিয়ে ঢেকে রেখে চলে যায়। পরে পার্শ্ববতী মাদ্রাসার শিক্ষক রুবেলের বড় ভাই মুফতি আতিকুর রহমানকে গিয়ে মা অসুস্থ্য বলে ডেকে নিয়ে আসার সময় রাস্তায় আতিকের পিছন থেকে রুবেলকে দা দিয়ে কোপাতে শুরু করে। এ সময় আতিকের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে রুবেল পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন মুফতি আতিককে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। খবর পেয়ে আতিকের মা তার অন্য সন্তানদের নিয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালে যাবার জন্য তৈরি হয়ে ইয়াছিন, মরিয়ম ও মার্জিয়াকে ডাকতে গিয়ে দেখে তারা মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গণ্যমান্যরা ঘটনাস্থলে এসে দেখে এবং থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসে। বুধবার সকালে স্থানীয় গণ্যমান্যরা এলাকায় রুবেলকে ধরতে খোঁঁজাখুজি শুরু করে। এক পর্যায়ে রুবেলকে তারা একটি জঙ্গল থেকে খুঁজে বের করে বেধে রেখে নরসিংদী সদর থানায় খবর দিলে নরসিংদী সদর থানার এসআই মোতাব্বির ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার আটককরা রুবেলকে নরসিংদী সদর থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফার সাথে কথা বললে তিনি জানান, ঘাতক রুবেলকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়নি। কিছুক্ষণ সময় দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞাসাবাদ শেষে মিডিয়ার সামনে আনা হবে। যথা নিয়মে আদলতে হাজির করে রিমান্ডও চাওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ