বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে আলোচনায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা

কুমিল্লা অফিস : কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের  (কুসিক) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বড় দুটি দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপও শুরু হয়ে গেছে। আগামী ৩০ মার্চ এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি থেকে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন? কে হচ্ছেন কুসিকের ২য় মেয়র ? এসব আলোচনা এখন সর্বত্র। মেয়র পদে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকা ছোট হলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে তালিকা বড়। ক্ষমতাসীন দলে প্রার্থীর তালিকা দীর্ঘ হলেও জেলা পরিষদ নির্বাচনের ন্যায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বাইরে থেকে অন্য কেউ মনোনয়ন পেয়ে যায় কিনা এ নিয়ে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আতংকে রয়েছেন। 
জানা যায়, বিগত ২০১১ সালের ১০ জুলাই ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা পৌরসভা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ পৌরসভা একীভূত করে ৫৩ দশমিক ০৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন  প্রতিষ্ঠার পর ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যক্ষ আফজল খান এডভোকেটকে পরাজিত করে বিজয় লাভ করেছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক সাক্কু। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে আলোচনায় রয়েছেন, জেলা যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি আরফানুল হক রিফাত, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের নির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলাম শিকদার, কুমিল্লার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ আফজল খান এডভোকেটের মেয়ে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সিটি কাউন্সিলর আঞ্জুম সুলতানা সীমা, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নূর-উর-রহমান মাহমুদ তানিম। অপর দিকে বিএনপি থেকে সদ্য বিদায়ী মেয়র মনিরুল হক সাক্কু মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। একই দল থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। জামায়াতে ইসলামী  থেকে মহানগরী জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, জাতীয় পার্টি (জাফর) থেকে এয়ার আহমেদ সেলিম এবং স্বতন্ত্র থেকে মেজর (অব.) মামুনুর রশিদের নাম আলোচিত হচ্ছে।
নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে সদ্য বিদায়ী মেয়র ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু  জানান, বিদেশী অনুদান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া অর্থ এবং সিটির নিজস্ব তহবিল থেকে গত ৫ বছরে সিটিতে প্রায় ৫শ’ কোটি টাকার নানা উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, কিছু কাজ চলমান আছে। সাক্কু জানান, ‘অনেক চড়াউ-উৎরাই পেরিয়ে বিরোধী দলে থেকেও নগরবাসীর সেবায় সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করেছি, তাই দলীয় মনোনয়ন পেতে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
মহানগর জামায়াতের আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, কুমিল্লার মানুষ পরির্বতন চায়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে আছে।  ইনশাহআল্লাহ আমি  নির্বাচিত হলে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। কুমিল্লা সিটিকে একটি আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলব।
জেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আরফানুল হক রিফাত বলেন, সদর আসনের এমপি হাজী আ.ক.ম বাহা উদ্দিন বাহারের নেতৃত্বে মহানগরীর উন্নয়নে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। দল মনোনয়ন দিলে অবশ্যই নির্বাচন করবো।
আগামী ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়পত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ২ মার্চ। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিন ৫ ও ৬ মার্চ আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৪ মার্চ। এখানে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭ হাজার ৩৮৪। সাধারণ ওয়ার্ড ২৭টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ৯টি। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৬৫টি। সম্ভাব্য ভোটকক্ষের সংখ্যা ৪২১টি। পুরুষ ভোটার ৮৩ হাজার ১৯৯ জন ও নারী ৮৬ হাজার ৭৪ জন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ