বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

প্রাক-নিবন্ধন সারাবছর চালু রাখা ও ২০১৭’র সকল নিবন্ধিতের হজ্বে গমন নিশ্চিতের দাবি

চট্টগ্রাম অফিস: গত মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ২০১৭ সালের হজ্ব যাত্রীদের সুষ্ঠু প্রাক-নিবন্ধনের দাবিতে বিক্ষুব্ধ হজ্ব এজেন্সির মালিকদের সাংবাদিক  সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আটাব চট্টগ্রাম অঞ্চলের চেয়ারম্যান, গালফ ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী মুহাম্মদ শাহ আলম সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহ আলম বলেন, বিগত দুই বৎসর যাবৎ আমাদের দেশে হজ্ব নিয়ে যে কেলেংকারি শুরু হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এ হজ্ব কেলেংকারির কারণে গত বছর প্রায় ৩৮ হাজার হজ্ব যাত্রী হজ্বে যেতে পারেননি। যত কারণে অনেক এজেন্সির মালিক হয়েছেন লাঞ্ছিত। বিগত বছর হজ্বে যেতে না পারা হাজীদের অগ্রাধিকার দিয়ে  গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রোববার হতে হজ্বযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন শুরু হয়।  হজ্ব নীতিমালা লংঘন করে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নতুন নতুন নীতিমালা করা হয়। যার কারণে বিভিন্ন নোটিশের মাধ্যমে হজ্ব ওয়েব সাইটে প্রচার করে বিভ্রান্ত করা হয়েছে এজেন্সির মালিকদের। যার কারণে ৫০,০০০ হাজার হাজীর হজ্বে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নোটিশে জানানো হয় ১৫০ জন হাজী অবশ্যই প্রতি লাইসেন্সে নিবন্ধন করতে হবে এবং ব্যাংক ভাউচার একসাথে হলে জমা নিবে। কিন্তু দেখা গেল সরকারি নির্দেশ আমান্য করে প্রায় ৩০০ এজেন্সি ১৯/০২/২০১৭ তারিখ আংশিক নিবন্ধন করে ব্যাংক জমা করে। যার প্রেক্ষিতে ১৯/০২/১৭ সন্ধায় মোঃ আবুল হাসান (সিনিয়র সহকারী সচিব  হজ্ব-১) স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে এবং অভিযুক্ত এজেন্সি ও ব্যাংককে ২০/০২/১৭ সকাল ১০টার মধ্যে কেন তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হবে না ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। আশ্চর্যজনকভাবে রাত ১২টা ১ মিনিটে মোঃ আবুল হাসান (সিনিয়র সহকারী সচিব হজ্ব-১) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় যাতে সাধারণ ক্ষমা করে। পুনরায় পুনরাবৃত্তি না করার শর্তে সতর্ক করা হয়। যাতে আরো উল্লেখ ছিল এজেন্সিপ্রতি ১৫০ জনের নিচে যেন টাকা জমা না নেয়া হয়। ২০/০৭/২০১৭ তারিখ দুপুরে পুনরায় নিবন্ধন সময়সূচি নামে আরো একটি নির্দেশনা হজ্ব ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয় যাতে এজেন্সি নিবন্ধনের সময়সীমা সন্ধা ৭টা পর্যন্ত এবং ব্যাংক টাকা জমা নেবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সবাইকে অবাক করে সন্ধ্যা ৬টা নতুন নোটিশ আসে যে ব্যাংক সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত চালু থাকবে ও টাকা জমা নিতে পারবে। আগাম জানে এমন এজেন্সি ও ব্যাংক ছাড়া অধিকাংশ ব্যাংক আংশিক টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানায় কারণ তারা কোনো নোটিশ পায়নি।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নোটিশ ব্যাংকে পৌঁছায় সন্ধ্যা ৭টায় ততক্ষণে ব্যাংক জমা নেয়ার সময় শেষ সার্ভার বন্ধ হয়ে যায়। আর নাটকীয়ভাবে জানা গেল আরো ৩০মিনিট ব্যাংক জমা নেয়ার সময় আবারো বাড়িয়ে দেয়। আরো নির্দেশ ছিল পূর্বের জারি করা হাসান সাহেবের নিজের নোটিশ নিজেই বাতিল করে আংশিক নিবন্ধিত হাজীর টাকা জমা দিতে পারবে। ততক্ষণে অনেক ব্যাংকের শাখা বন্ধ করে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাসায় চলে যান। শুধুমাত্র সেসব ব্যাংকের শাখাগুলো খোলা রাখা ছিল যেসব শাখা ব্যবস্থাপক এবং দুর্নীতিবাজ এজেন্সি মালিকরা জঘন্য কাজের সাথে জড়িত ছিল। এমতাবস্থায় হাতেগোনা কিছু এজেন্সি ছাড়া অধিকাংশ এজেন্সি বঞ্চিত হবে নিবন্ধন কার্যক্রম থেকে তার প্রেক্ষিতে ৫৫,০০০ হাজার হজ্বযাত্রী পবিত্র হজ্ব পালন থেকে বঞ্চিত হবেন।
তিনি বলেন, এ বছর ১০৭৪টি হজ্ব এজেন্সি হজ্ব চুক্তির মাধ্যমে হাজীদের প্রাক নিবন্ধন শুরু করে। এজেন্সি প্রতি ১৫০টি কোটা নির্ধারণ করায় ২০১৭ সনে হাজ্বযাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার হজ্বযাত্রীর কোটার প্রয়োজন দেখা দেয় কিন্তুু ২০১৭ সনের হজ্ব চুক্তি অনুযায়ী সরকারি হাজ্বী ১০ হাজার সহ ১ লক্ষ ২৭ হাজার হজ্বযাত্রী সে অনুপাতে প্রায় ৪৫ হাজার এবং যেসকল এজেন্সির গত বছরের নিবন্ধিত ১৫০ জন রয়েছে তাদের এই বছর নিবন্ধন প্রক্রিয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এ রকম প্রায় ১৪৫টি এজেন্সির ১০ হাজারের উপওে হজ্বযাত্রী রয়েছে বিধায় প্রায় ৫৫ হাজার হজ্বযাত্রীর কোটা সংকট দেখা দিয়েছে। তাই ২০১৭ সনে হজ্বে গমন অনিশ্চিত হজ্বযাত্রীদের  প্রাক-নিবন্ধন সারাবছর নিয়মিত চালু রেখে, নিবন্ধিত হাজীদের  ক্রমবিন্যাস নিশ্চিত করণ, ও কোটা বৃদ্ধি করে ২০১৭ সনে সকল হজ্বযাত্রীদের হজ্বে গমন নিশ্চিত করার দাবি। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত গত ২০১৫ ইং সালের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাবছর হজ্বে প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম কার্যকর থাকার কথা থাকলেও কোন কালো হাতের ইশারায় এখনও এ নির্দেশনা বাস্তবতার মুখ দেখেনি তা হজ্বযাত্রীসহ সমুদয় হজ্ব এজেন্সি মালিকরা আজকে জানতে চায়।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহ আলম বলেন, বিজনেস অটোমেশনের জন্য হজ্বযাত্রীপ্রতি ২০০০ টাকা সার্ভিস চার্জ নেয়ার পরও ২০ টাকার সমপরিমাণ সেবা আদৌ কোনো এজেন্সি পাই কিনা তা হজ্বযাত্রীসহ সমস্ত এজেন্সির প্রশ্ন। কল সেন্টারে একটি মাত্র টেলিফোন নাম্বার দিয়ে ১০৭৪টি এজেন্সি টেলিফোনিক সেবা দিতে পারবে এ কেমন ধারণা। বাস্তবতা হচ্ছে ২/৪ বার ফোন দেয়ার পরে যাও পাওয়া যায় আমাদেরকে শুনতে হয় সব কয়টি লাইন এখন ব্যস্ত আছে অনুগ্রহপূর্বক অপেক্ষা করুন। অপেক্ষা প্রহর গুনতে গুনতে ৩০ মিনিট পার হওয়ার পরও অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় না। এতে অবশ্য কিছু এজেন্সি লাভবানই হয়, যাদের আইটি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার জানা আছে। অবিশ্বাস্য হলেও ১০০% সত্যি। কোনো কোনো এজেন্সি মালিকের ১৪ থেকে ১৮টি লাইসেন্স চুক্তি করা আছে যারা লিড এজেন্সি করার উদ্দেশ্যে এ অপকর্মটি সংগঠিত করে যাতে এজেন্সির সংখ্যা বেড়ে যায়। প্রতি লাইসেন্স এ গড়ে ৭৫ জন করেও যদি ডাটা এন্ট্রি হয় ২ লাইসেন্স মিলে এক লাইসেন্সকে লিড করে ৭টা থেকে ৯টা লাইসেন্স এ হাজী প্রেরণ করবেন। সে ক্ষেত্রে ঐ লাইসেন্স এর মালিক ৩৫০ থেকে ৪৫০ জন হাজ্বযাত্রী প্রেরণ করবেন বলে আশায় আছেন। এমতাবস্তায় কোনো এজেন্সিকে লিড করতে দেয়া যাবে না। প্রত্যেক এজেন্সিকে ১৫০ জন কোটা পূরণ করার সময় দিয়ে ব্যাংক ভাউচার করে নিবন্ধন করতে হবে। আমাদের দাবিসমূহ: ১। প্রাক-নিবন্ধনের পূর্বে মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা মতে প্রত্যেক এজেন্সিকে ১৫০ জন কোটা পূর্ণ করার সুযোগ দিতে হবে। ২। ১৫০ কোটা পরিপূর্ণ হওয়ার পর ভাউচার মূলে টাকা জমা নেয়ার ঘোষণার বাস্তবায়ন করতে হবে। ৩। কোনো অবস্থাতেই প্রাক-নিবন্ধন বন্ধ করা যাবে না। ৪। পূর্বের ১৫০ জন প্রাক-নিবন্ধিত এজেন্টদের ২০১৭ সনে নতুন হাজী প্রাক-নিবন্ধনের সুযোগ দিতে হবে। ৫। ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধায় নতুন নোটিশে হঠাৎ ব্যাংক খোলার রহস্য উদঘাটন করতে হবে। ৬। সকল এজেন্টদের সব হজ্বযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করে ব্যাংকে টাকা নেয়ার সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনে সময় আরো ২ দিন সময় বাড়াতে হবে। ৭। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক সারাবছর নিয়মিত হজ্বযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন চালু করতে হবে।৮। ২০১৭ সনে হজ্বযাত্রীদের ক্রমবিন্যাস নিশ্চিতকরণ ও কোটা বৃদ্ধি করে সকল হজ্বযাত্রীর হজ্বে যাওয়া নিশ্চিত করতে হবে।  হজ্বযাত্রী কল্যাণ সংস্থা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এইচ এম মুজিবুল হক শুক্কুর উপস্থিত ছিলেন আটাব চট্টগ্রাম জোনের সচিব শরিয়ত উল্লাহ শহিদ, হাব চট্টগ্রাম জোনাল সদস্য আবদুল করিম, মোহাম্মদ মোরশেদুল আলম, আটাব সদস্য নেজাম উদ্দীন, আল-ফালাহ্ হজ্ব গ্রুপের মালিক জুলফিকার মোহাম্মদ সোহারাব, নুরাইনি হজ্ব গ্রুপের স্বত্বাধিকারী আবদুর রহিম, জে ওয়াই ওভারসিজ এর মালিক মাওলানা মোহাম্মদ আনোয়ার হেসেন, আল-হাসনাইন হজ্ব কাফেলা ট্রাভেলসের মালিক মাওলানা এয়াছিন আল মাদানী, আল-কিবলা হজ্ব ট্রাভেলস এর মালিক মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন, চট্টলা হজ্ব গ্রুপের মালিক মাওলানা নেজাম উদ্দীন, ডায়মন্ড হজ্ব গ্রুপের মোহাম্মদ মহিউদ্দীন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ