রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বাইশ দিনে নতুন বই ২৮২৭॥ মান নিয়ে প্রশ্ন

একুশের গ্রন্থমেলায় বই দেখছেন বইপ্রেমিরা। ছবিটি অমর একুশে গ্রন্থমেলা থেকে তোলা -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : অমর একুশে গ্রন্থমেলার প্রথম তিন সপ্তাহে নতুন বই এসেছে ২ হাজার ৮২৭টি। গতবছর এ ২২দিনে নতুন বই এসেছিল ২ হাজার ৬৭০টি। এবার ১৫৭টি বই বেশি এসেছে। তবে বইয়ের মান নিয়ে সন্তুষ্ট নন সমালোচকরা। তারা বলছেন, নতুন নতুন লিখিয়ের আবেগকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছে একশ্রেণির প্রকাশক, যারা পেশাদারিত্বের ধার ধারেন না।
এবার মেলায় শুধু মোট বইয়ের ক্ষেত্রেই নয়, পৃথকভাবে কবিতা, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধসহ অন্যান্য ক্যাটাগরির বইও গতবারের সঙ্গে তুলনা এবার বেশি এসেছে। অন্যান্যবারের মতো এবারও মেলায় সবচেয়ে বেশি এসেছে কবিতার বই, ৮৬৪টি। এর পরেই আছে উপন্যাস ৪৫৮টি, গল্প ৩৮৬টি ও প্রবন্ধের বই ১৩০টি উল্লেখযোগ্য।
গতবার গ্রন্থমেলায় কবিতার বই, ৭২৪টি, উপন্যাস ৪৩৯টি, গল্প ৪০৬টি ও প্রবন্ধ ১৫৬টি এসেছিল। সংখ্যার তুলনায় এবার কবিতার বই ১৪০টি ও উপন্যাস ৫২টি বেশি এসেছে। গল্প ও প্রবন্ধের বই গতবারের চেয়ে এবার কম এসেছে।
গতকাল বুধবার একুশে গ্রন্থমেলার শুধু ২২তম দিনে নতুন বই এসেছে ৮২টি এবং ৪১টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
এদিন বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে ‘রেবসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি: বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সভাপতিত্ব করেন। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক জিনাত হুদা অহিদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মো. আবুল কাসেম এবং ড. শাহিনুর রহমান। একইমঞ্চে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক সংগঠন গেন্ডারিয়া কিশলয় কচিকাঁচার মেলা’র সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছাড়াও সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী কাদেরী কিবরিয়া, তপন মাহমুদ, শামা রহমান, মহিউজ্জামান চৌধুরী, নীলোৎপল সাধ্য এবং শিখা আহমাদ।
মান নিয়ে প্রশ্ন : লেখক-প্রকাশকরা বলছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেলার পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ও পাঠক। দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ওই সময়ের জনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। এই সময়ে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীও বেড়েছে। কিন্তু ৩৫-৪০ বছর আগে যে প্রত্যাশা নিয়ে বইমেলার শুরু, তা শতভাগ পূরণ হয়নি বলে মনে করেন তারা। তাদের মতে, আগে বইমেলার যে গাম্ভীর্য ছিল তা এখন কমে এসেছে।
গত কয়েক ব্ছরের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বইমেলায় প্রতিবছর তিন থেকে চার হাজার নতুন বই ছাপা হচ্ছে। এত বইয়ের মধ্যে তিন থেকে চারশ বই মানসম্মত। বাকিগুলো শুধু সংখ্যা বাড়াতে প্রকাশ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে লেখক-সাংবাদিক-গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, এখন প্রকাশকরা চায় সংখ্যা বাড়াতে, মান নয়। এখনকার বইমেলায় হুজুগের মতো করে বই বের হয়। আগে অল্প বই বের হলেও তা ছিল মানসম্পন্ন। এখন বইমেলায় অংশ নিতে নির্দিষ্টসংখ্যক বইও লাগে। কিন্তু অনেক যাচ্ছেতাই বইয়ের চেয়ে ভালো বই অল্পও ভালো।
মাওলা ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী আহমেদ মাহমুদুল হক বলেন, ‘পাঠক বেড়েছে। অনেকগুণ বেড়েছে। জনসংখ্যাও তো বেড়েছে। বইয়ের বাজারও বেড়েছে। তবে সেটা সৃজনশীল বা মননশীল বইয়ের চেয়ে টেক্সটবুকই সেই বাজার বেশি দখলে রেখেছে।’ তিনি আরো বলেন, আগে প্রকাশকও কম ছিল, বই প্রকাশ হতো কম। এখন প্রকাশকের সঙ্গে বইয়ের সংখ্যাও বেড়েছে। কিন্তু বইয়ের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশনা ব্যবসায় সম্পৃক্ত মাহমুদুল হক বলেন, অনেক অনেক চকচকে বই প্রকাশিত হচ্ছে। এসব বই পাঠকদের প্রলোভিত করছে। কিন্তু এর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। এতে পাঠক ঠকছে, বইয়ের প্রতি আগ্রহও হারিয়ে ফেলছে। আর প্রকাশকরা সাময়িকভাবে লাভবান হলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ পাঠকরা ওই প্রকাশকদের বই কিনতে দ্বিতীয়বার ভাবছেন। এটা সার্বিকবাবে প্রকাশনা শিল্পের জন্য ক্ষতিকর।
প্রায় একই কথা বলেন লেখক জাকির তালুকদারও। তিনি বলেন, বর্তমানের বইমেলায় প্রকাশকদের এক ধরনের অসাধু ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটছে। এতে মানহীন বইয়ের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এই মান ঠিক করবে কে? এটা ঠিক করার কথা প্রকাশকদের, কিন্তু তারা তা করছেন না। ফলে মেলার পরিসর বাড়লেও এতে আদৌ লাভ হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ