শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ শিক্ষককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা

সংগ্রাম ডেস্ক: স্থগিতাদেশে থাকা ট্রাম্পের মুসলিম নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এক ব্রিটিশ নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আইসল্যান্ডের রিকজাভিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ ও মার্কিন মিডিয়ায় ফলাও করে খবরটি ছাপা হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশী পরিবারের সন্তান জুহেল মিয়ার জন্ম ওয়েলসে। তিনি সেখানকার নেথ পোর্ট টালবোট এলাকার ল্যানগেটগ কম্প্রিহেনসিভ স্কুলের শিক্ষক। আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, শিক্ষক হিসেবে তিনি খুবই জনপ্রিয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আইসল্যান্ডে শিক্ষা ভ্রমণে গিয়েছিলেন জুহেল। সেখান থেকে তাদের নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে প্রবেশাধিকার দেয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত জুহেলকে ছাড়াই বাকিরা যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। 

জুহেল মিয়া বিবিসিকে বলেন, বিমানবন্দরে চেক ইন করার সময় তার পাসপোর্ট দেখে কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশি করা হবে তাকে। এরপর আলাদা একটি কক্ষে নিয়ে তার জিনিসপত্র ও পুরো শরীর তল্লাশি করা হয়। প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে। এরপর তাকে বিমানে ওঠার অনুমতি দেয়া হয়। শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের নিয়ে বিমানে ওঠেন জুহেল। তবে বিমান ওড়ার কিছুক্ষণ আগে কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী গিয়ে তাকে বিমান থেকে নামিয়ে আনে। কোনও কারণ না জানিয়ে তাকে শুধু বলা হয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন না। 

বিবিসিকে জুহেল বলেন, ‘আমি কেবল কারণটা জানতে চাই। জানতে চাই কেন তারা আমাকে যেতে দিলো না’। তবে এখনও পর্যন্ত কারণ জানতে সমর্থ হননি তিনি।

বিমান থেকে নামিয়ে জুহেল মিয়াকে একটি হোটেলে কক্ষে দু’ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছিল। এরপর যুক্তরাজ্যে ফিরে যান তিনি। ‘এই ধরনের ঘটনা কারও সঙ্গে ঘটা উচিত নয়। আমি সব প্রক্রিয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সেরেছিলাম। তারপরও এমন আচরণ করা হল, যেন আমি এক অপরাধী’, বলেন জুহেল। জুহেলকে নামিয়ে দেয়ার পর তার সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা ওই ফ্লাইটে নিউইয়র্ক রওনা হয়েছিলেন।

জুহেলের সঙ্গে এই আচরণে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নেথ পোর্ট টালবোট কাউন্টি বারা কাউন্সিল। ইনডিপেডেন্ট জানিয়েছে, বৈধ কাগজপত্র থাকার পর তাকে বাধা দেয়ায় শহর কর্তৃপক্ষ নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করে লন্ডনে যুক্তরাজ্য দূতাবাসে চিঠি দিয়েছে। সংস্থার এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা তাদের সম্মানীত একজন শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণের ব্যাখ্যা চেয়েছেন। ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জেনেছে।

 এই বিষয়ে লন্ডনে যুক্তরাজ্য দূতাবাসের কোনো মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান।

আদালতের আদেশে স্থগিত হয়ে যাওয়া মুসলিম নিষেধাজ্ঞাকে যেকোনওভাবে আবারও ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাত মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ট্রাম্প যে নির্বাহী আদেশ দিয়েছিলেন তার জায়গায় নতুন একটি নির্বাহী আদেশ জারির ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আগামী সপ্তাহে নতুন এ নিষেধাজ্ঞাটি জারি করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ