শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

বাসচালক জামির হোসেনের যাবজ্জীবন

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা: মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও এটিএন বাংলার সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ ৫ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের মামলার রায়ে বাসচালক জামির হোসেনের যাবজ্জীবন কারদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেন বিচারক। 

গতকাল বুধবার মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল- মাহমুদ ফাইজুল কবীর এ রায় ঘোষণা করেন। জামির হোসেনের উপস্থিতিতে এই রায় দেয়া হয়। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকার পক্ষের আনইনজীবী স্পেশাল পিপি একেএম নুরুল হুদা রুবেল। তবে আসামী পক্ষের আইজীবী মাধাব সাহা বিচারে অসোন্তষ প্রকাশ করে বলেন তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান। রায় প্রদানের আগে বাস চালক জামির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, তার কোনো দোষ ছিল না। মাইক্রোবাস চালকের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে ৫ জনের মৃত্যুতে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য যে, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টায় দুর্ঘটনা ঘটে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঘিওর উপজেলার পুকুরিয়া নামক স্থানে। তারেক মাসুদদের বহনবারী মাইক্রোবাসের সাথে চুয়াডাঙ্গ ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ ৫ জন নিহত হন। ওই দিনই ঘিওর থানার এসআই লুৎফর রহমান দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান ঘিওর থানার তৎকালীন ওসি আশরাফ উল ইসলাম। দুর্ঘটনার পরের দিন ড্রাইভার জামির হোসেনকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে মেহেরপুর উপজেলার চৌগাছা গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে। একই বছর ১৭ নবেম্বর জামিনে মুক্ত হন তিনি। ২০১২ সালের ২১ মার্চ মানিকগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। অভিযোগপত্রে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, সাধারণ জখম, গুরুতর জখম, অবহেলার কারণে মৃত্যু ঘটানো ও মালামল ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়। ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি মামলাটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। মামলায় সরকার পক্ষে সাক্ষ্য দেন ২৪ জন এবং আসামী পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন ২ জন। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর রায় ঘোষণা দেয়া হলো গতকাল বুধবার। 

সেদিন ছিল প্রচ- বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়া। এর মধ্যেই শিবালয় উপজেলার সালজানা গ্রামে শেখ একিমউদ্দিনের বাড়িতে কাগজের নৌকা চলচ্চিত্রের জন্য শুটিং স্পট দেখে একটা মাইক্রোবাস করে ঢাকায় ফিরছিলেন স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদকে নিয়ে তারেক মাসুদ। সাথে ছিলেন এটিএন নিউজের চিফ এক্সিকিউটিভ মিশুক মুনীর, সহকারী পরিচালক মনির শফিক, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ঢালী আল মামুন ও তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম জলি, প্রডাকশন সহকারী ওয়াসিম ও জামাল এবং ড্রাইভার মোস্তাফিজুর রহমান। বৃষ্টির মধ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঘিওর উপজেলার পুকুরিয়া নামক স্থানে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিপরীতমুখী চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের একটি বাসের সাথে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মাইক্রোবাসটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের যাত্রী তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীর, ওয়াসিম, জামাল ও ড্রাইভার মোস্তাফিজুর রহমান নিহত হন। অপর চারজন আহত হলেও জীবনে রক্ষা পান। বাসের সামনে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাত্রীরা সমান্য আহত হন। রাস্তার পাশে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে বাসটি রাস্তার ওপরেই দাঁড়িয়ে যায়। চালক জামির হোসেন দ্রুত বাস থেকে নেমে গা ঢাকা দেন। স্থানীয়রা হতাহতদের উদ্ধার শুরু করে। প্রায় ২০ মিনিট পর পুলিশ এসে আহত এবং নিহতদের মানিকগঞ্জ হাসপাতালে পৌঁছে দেয়। তবে বিশিষ্ট চিত্র পরিচালক মোরশেদুল ইসলামের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পাঁচজনের লাশ হস্তান্তরের নির্দেশ দেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ