শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

ঢাকার আশপাশেই হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর -সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার: প্লেনে চলাচলের ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকার আশপাশে সর্বাধুনিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর নাম হবে ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’।

গতকাল বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে টেবিলে উত্থাপিত গোলাম দস্তগীর গাজীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পাদনের লক্ষ্যে জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোই কোং লিমিটেডের সঙ্গে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে সাইট সার্ভে কাজ সম্পাদন করে প্রাথমিক পর্যায়ে সাইট সিলেকশনের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।

অন্যদিকে বাগেরহাটে খান জাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলমান। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে তিন ধারা নোটিশ জারি করা হয়েছে। বর্তমানে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে বলেও সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, বিশ্বে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোসহ বেশ কিছু দেশ পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি বাণিজ্যের গুণগত পরির্বতন ও বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিশ্চিত করতে রপ্তানি নীতি ২০১৫-২০১৮ প্রণয়ন করা হয়েছে। রপ্তানিবান্ধব নীতি ও সফল বাণিজ্যিক অর্থনীতির কারণে বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত, কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দিচ্ছে এবং সুবিধা বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। 

তিনি বলেন, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, চীন, ভারত প্রভৃতি দেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম আখতার জাহানের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বাড়ি একটি খামার আমার নিজস্ব চিন্তাপ্রসূত একটি দারিদ্র্য বিমোচন মডেল। এটি ক্ষুদ্রঋণের পরিবর্তে ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ক্ষুদ্র ও দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবশিষ্ট ১ কোটি ৮০ লাখ লোককে সম্পৃক্ত করে ৩ কোটি মানুষের জন্য ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর একনেক সভায় ৮ হাজার ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কার্যক্রম ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য স্থায়ীভাবে দারিদ্র্যমুক্তির মাধ্যমে একটি ক্ষুধামুক্ত মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। দেশের একটি লোকও ভিক্ষা করবে না, না খেয়ে থাকবে না। যাতে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে সেটিই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ