শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

সরকার আবারও একতরফা নির্বাচন করতে চাইলে দেশে গণঅভ্যুত্থান হবে

গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জাগপা আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, নতুন নির্বাচন কমিশন পূর্ববর্তী কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিনের মতো নির্বাচন করে কি না বিএনপি তা দেখতে চায়। তবে যদি সরকার আবারও একতরফাভাবে নির্বাচন করতে চায় তাহলে দেশে গণ-অভ্যুত্থান হবে। ফলে দেশে কোনো নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয় তার দায়দায়িত্ব এককভাবে শেখ হাসিনাকে নিতে হবে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ২০০৯ সালে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস-বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতর পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ওই বছরের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হয়। রক্তাক্ত ওই বিদ্রোহের পর সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর নাম বদলে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। 

ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, একজন চিহ্নিত আওয়ামী লীগ সমর্থক সাবেক সরকারি কর্মকর্তাকে নির্বাচন কমিশনের প্রধান করেছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে এর প্রতিবাদ করেছি। আমরা এখনও বলছি, এই ব্যক্তির অধীনে এই দেশে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না। আওয়ামী লীগ সরকার আবারও বিনাভোটে নির্বাচিত হওয়ার, বিনা ভোটে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র করে আরেকটি রকিব মার্কা নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছে। তারপরও আমরা এই নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড দেখতে চাই। সামনে কয়েকটি নির্বাচন আছে, সেই নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত হবে যে, এই নির্বাচন কমিশনও সেই রকিব মার্কা নির্বাচন কমিশন হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সদ্য বিদায়ী সিইসি কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদের অধীনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়, যা বর্জন করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করে আসা বিএনপি। রকিব উদ্দিন নেতৃত্বাধীন কমিশনের মেয়াদ শেষে রাষ্ট্রপতি গঠিত সার্চ কমিটির সুপারিশ করা নাম থেকে নতুন নির্বাচন কমিশন-ইসি গঠন করা হয়, যাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া কেএম নূরুল হুদাকে নিয়ে আপত্তি জানায় বিএনপি।

নতুন ইসি দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতোমধ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শূন্য আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। এ দুই নির্বাচনে ভোট হবে আগামী ৩০ মার্চ। নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন কমিশনের অধীনে ২০১৯ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আরও কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। 

নতুন কমিশনের অধীনে এসব নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার কথা বললেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশনই শেষ কথা নয় বলে মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আমাদের নেত্রী (বেগম খালেদা জিয়া) পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, একটি নির্বাচন কমিশনই সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারে না যদি সেই সময়ের সরকার নিরপেক্ষ না হয়; প্রমাণ এই সরকার দিয়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন হতে পারে না এর প্রমাণ এ সরকারে হয়েছে এবং এর আগের নির্বাচনগুলোও আমরা দেখেছি।

সাবেক এই স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, এদেশে যদি রাজনৈতিকভাবে একটি সমঝোতার মাধ্যমে, শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক সংকটের মোকাবেলা করতে হয়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হয়, জনগণের ভোটের অধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দিতে হয় তাহলে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনো বিকল্প নাই।

যদি শেখ হাসিনা সেই দিকে নির্বাচনকালীন সরকার না গিয়ে গায়ের জোরে নিজের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য আবার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তার জন্য দেশের জনগণ ভবিষ্যতে বসে থাকবে বলে আমরা মনে করি না। সেই কারণে দেশে যদি বিশৃঙ্খলা হয়, দেশে যদি অশান্তি হয়, দেশে যদি নৈরাজ্য সৃষ্টি হয় তাহলে শেখ হাসিনাকে এককভাবে দায় দায়িত্ব নিতে হবে।

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কলঙ্কময় অভিহিত করে এটিকে সরকারের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেন বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ। তিনি বলেন, ১/১১ এর মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকার ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা দিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই তাদের যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ এই পিলখানা ট্র্যাজেডি।

ঘটনার দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর অফিসে বসা ছিলেন। তিন বাহিনীকে ডেকে সেখানে বসিয়ে রেখেছিলেন। উপরের থেকে হুকুম হলে আধা ঘণ্টার মধ্যে পিলখানা বিদ্রোহ দমন করা যেত, কিন্তু তা করা হয়নি। এজন্য করা হয়নি, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে।

সভাপতির বক্তব্যে জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া হতে দেওয়া হবে না- এটা আমাদের সাফ কথা।

জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে দলের সহসভাপতি আবু মোজাফফর মো. আনাছ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খান আসাদ, কেন্দ্রীয় নেতা শেখ জামালউদ্দিন, শেখ ফরিদ উদ্দিন, নজরুল ইসলাম বাবলু ও রাকিবুল ইসলাম রুবেল প্রমুখ বক্তব্য দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ