মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২
Online Edition

এমপি লিটন হত্যায় জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কাদের খান গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার: গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলী করে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক এমপি অবসর প্রাপ্ত লে. কর্নেল ডা. কাদের খানকে গ্রেফতার করেছে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার রহমাননগর এলাকায় তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত চারদিন ওই বাসাতেই নজরদারিতে ছিলেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকায় পুলিশের একজন ঊর্ধŸতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই হত্যাকাণ্ডে কাদের খানের সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পেয়েছেন তারা। তাকে গাইবান্ধার আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করবে ডিবি। আদালতে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়ার সম্ভাবনা আছে।

গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার রিজিনুর রহমান বলেন, তাকে এমপি লিটন হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার বাসায় বগুড়া ও গাইবান্ধা পুলিশের যৌথ দল একঘণ্টা অভিযান চালালেও জব্দ করার মতো কিছু পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। সুন্দরগঞ্জের ছাপোড়হাটি গ্রামের কাদের পেশায় চিকিৎসক। তার স্ত্রী নাছিমা বেগমও একই পেশার। বগুড়ায় এই চিকিৎসক দম্পতির বাসায়ই গড়ে তোলা হয়েছে ‘গরীব শাহ ক্লিনিক’।

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে পুলিশ কাদেরের বাড়ি ঘিরে রাখে। প্রথমদিকে এ নিয়ে কিছু না বললেও পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় ‘জঙ্গি হামলার আশঙ্কায়’ তাকে নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখার গাইবান্ধার ওসি মাহবুবুল আলম বলেন, সুন্দরগঞ্জের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে গাইবান্ধা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কাদের খানের স্ত্রী নাছিমা বেগম বলেন, সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান, বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আমিরুল ইসলাম ও সদর থানার ওসি এমদাদুলসহ অন্তত ৩০ জন পুলিশ বিকেলে আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো পরোয়ানা দেখাতে পারেননি। বরং বলছে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা কাদের জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য। গত দুই জাতীয় নির্বাচনেই দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হলেও এবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী হচ্ছেন দলের চেয়ারম্যান এরশাদের আইন উপদেষ্টা শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

এদিকে আলোচিত লিটন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় আমীর মো. সাইফুল ইসলাম মণ্ডলসহ এখন পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের প্রত্যেককেই সাতদিন করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গাইবান্ধার শাহাবাজ গ্রামে নিজ বাড়িতে এমপি লিটনের ওপর গুলী চালায় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যু হয় তার।

এমপি লিটনের বোনের গাড়ি ‘ভাঙচুর’: এদিকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দেড় মাস আগে নিহত সংসদ সদস্য মো. মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বড় বোনের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা শহরের বিএডিসি অফিসের সামনে লিটনের বড় বোন আফরোজা বারীর ব্যক্তিগত গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পেছনের কাচ ভেঙে যায়। তিনি বলেন, আফরোজা বারী উপজেলা পরিষদ চত্বরের শহীদ মিনার থেকে হেঁটে শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। একই সময় আফরোজার ব্যক্তিগত গাড়িতে করে তার মেয়েজামাই ও নাতি শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি বিএডিসি অফিসের সামনে পৌঁছলে ছাত্রলীগের মিছিল থেকে গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে যায়। তবে গাড়িতে থাকা মেয়েজামাই বা নাতির কোনো ক্ষতি হয়নি।

গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য লিটন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের উত্তর শাহাবাজ গ্রামের নিজ বাড়িতে গুলীতে মারা যান।

ওই শূন্য আসনে ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১ মার্চ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। আর ২২ মার্চ ভোট গ্রহণে কথা রয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা সাজেদুল দাবি করেন, উপ-নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে এমপি লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতির সঙ্গে আফরোজা বারীর পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন এই ননদ-ভাবী। আফরোজা মনোনয়ন না চাইলে স্মৃতি মনোনয়ন পেতেন বলে তার ধারণা। এ কারণে স্মৃতির অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গাড়িতে ইট-পাটকেল ছুড়েছে। তবে স্মৃতির কোনো ‘অনুসারী’র নাম বলেননি আওয়ামী লীগনেতা সাজেদুল। এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ছামিউল ইসলাম সামু বলেন, গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি ঘটনার সময় সুন্দরগঞ্জে ছিলাম না। ছাত্রলীগের কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। এ বিষয়ে আফরোজা বারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

আফরোজার ছোট বোন তাহমিদা বুলবুল কাকলী বলেন, গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি শুনেছি। আমি গ্রামের বাড়িতে (এমপি লিটনের বাড়ি) আছি। আর বোন আফরোজা রয়েছেন সুন্দরগঞ্জ শহরে। তিনি ফিরলে আলোচনার পর থানায় অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ